মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১

সিটি নির্বাচনে অনিয়ম দেখা গেলে সরকার পতনের আন্দোলন : গয়েশ্বর

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় দলের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

বিএনপি প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে নির্বাচনে অন্তরায় সৃষ্টি না করে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, আমরা নাকি হারার আগে হেরে যাই। আপনার কথাটা তো অসত্য নয়। কারণ ৩০ তারিখের ভোটের যদি ২৯ তারিখে ফলাফল দেন, তাহলে তো আমাদের হারার আগে হারা ছাড়া বিকল্প পথ থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হারার আগে হারিনি, হারব না। নির্বাচন নিয়ে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের আভাস যদি প্রত্যক্ষ করি, তাহলে এই নির্বাচন হবে আগামী দিনের সরকার পতন আন্দোলনের সূচনা। কোনো দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আমরা থাকব না। আমরা সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কালক্ষেপণ না করে যেখানে যে অবস্থায় থাকব, সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেব।’

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নেমে পড়ব এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করব। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। প্রয়োজনে লাশ হয়ে কবরে যাব। এই দৃঢ়তা নিয়ে ঢাকা মহানগরের সব নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন আজকের মেয়রপ্রার্থী প্রধান সেনাপতি তাবিথ আউয়াল।’

তাবিথ আউয়াল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাবিথ আউয়ালকে সবাই পছন্দ করে। নতুন প্রজন্মের পছন্দ। তিনি শিক্ষিত-মার্জিত সবার পছন্দ। যারা বিএনপি করে তাদের পছন্দ। তিনি যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন, তা ইতোমধ্যে জনগণের কাছে দৃশ্যমান।’

নির্বাচন সুষ্ঠু করে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘জনগণের ভাবনা প্রকাশ করতে দিন। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় সৃষ্টি না করে মানুষ আপনাদের কীভাবে পরিমাপ করে সেটা যাচাই করুন। জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদানে সহযোগিতা করুন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোট দানের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করা। জনগণ উৎসাহবোধ করবে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা।’

বিএনপির সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী, কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি হানা দেয়া হচ্ছে এবং কাউকে কাউকে জোরপূর্বক বসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে গয়েশ্বর বলেন, কাউকে বিভিন্নভাবে অন্তরীণ করা হচ্ছে। এগুলো দিয়ে পরিমাপ করা যায় আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি হবে না। নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করতে, সাহস জোগাতে আমরা ঘরে ঘরে যাব। আমাদের এই লড়াইটা সবসময় রাখতে হবে।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, মো. শাজাহান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল আউয়াল খান, নির্বাহী সদস্য ওমর ফারুক শাফিন, নিপুন রায় চৌধুরী, যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ জুয়েল, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা আহসান উল্লাহ আসান, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা উত্তরের বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এখানে শেয়ার বোতাম