বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১

সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 11
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ভোলা, মাগুরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বগুড়া জেলায় শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মানিকগঞ্জে ৭ জন, টাঙ্গাইলে ৬ জন, মাগুরায় ৩ জন এবং ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বগুড়ায় একজন করে রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২ জন।

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সাত জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একই পরিবারের রয়েছেন ছয় সদস্য। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার চাষাভাদ্রা গ্রামের বাদ্যকরপাড়ায়। এছাড়া দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালক জামালও (৩২) নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার সমেতপুর গ্রামে।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ৩টায় মানিকগঞ্জের মুলকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের নিহতরা হলেন গোবিন্দ বাদ্যকর (৩২), তার মেয়ে রাঁধে বাদ্যকর (৪), স্ত্রী ববিতা বাদ্যকর (২৫), বাবা হরে কৃষ্ণ (৫৫), চাচি খুশি বালা (৫০) ও চাচাতো ভাই রামপ্রসাদ বাদ্যকর (৩২)।

মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের এক স্বজনের আহাজারিদৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ‘নাগরপুর উপজেলার চাষাভাদ্রা গ্রামের বাদ্যকরপাড়ার গোবিন্দ বাদ্যকর (৩২) তার অসুস্থ মেয়ে রাঁধে বাদ্যকরকে (৪) নিয়ে মানিকগঞ্জ শহরে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন। তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি দৌলতপুর মুলকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ভিলেজ লাইনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-জ-১৪-১৪৪৭) চাপা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা পরিবারের সবাই নিহত হন। ঘটনাস্থলে খুশি বালা প্রাণ হারান। বাকিদের হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাফমুন রইস জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সবার মৃত্যু হয়েছে।

ভিলেজ লাইনের বাসটি আটক করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ওসি রেজাউল করীম।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী একটি বাসের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় ছয় জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার কুরণী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মির্জাপুর গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ ও একজন নারী। এদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ধল্লাকান্দি গ্রামের জয়নাল হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩৪) এবং একই গ্রামের পঙেজ আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩১)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কে বিকল হয়ে যায়। এ কারণে বাসটি মহাসড়রের পাশে দাঁড় করিয়ে মেরামতের কাজ চলছিল। এ সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই একটি ট্রাক এসে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ওপর উঠে যায়। বাসটিকেও ধাক্কা দেয় ওই ট্রাক। ঘটনাস্থলেই চার জন মারা যান। এ সময় ট্রাকের চালক ও হেলপার দ্রুত পালিয়ে যায়।

মির্জাপুর গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘ঢাকাগামী রংপুর থেকে ছেড়ে আসা সেবা ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মির্জাপুর উপজেলার কুরণী এলাকায় বিকল হয়ে যায়। পরে মেরামতের জন্য বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড় করানো হয়। কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ঢাকাগামী সবজিভর্তি একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেয়। এ সময় বাসের পেছনেও ধাক্কা লাগে। এ ঘটনায় দাঁড়িয়ে থাকা চার জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আহত আরও পাঁচ জন মুমূর্ষু অবস্থায় মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত নিহত দুই জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।’

টাঙ্গাইলের সড়ক দুর্ঘটনামির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম অনিমেশ ভৌমিক জানান, ‘এখন পাঁচ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

ভোলা
ভোলায় ট্রলির ধাক্কায় নিজাম উদ্দিন মিরন (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের বাংলাবাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মিরন ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

বাংলাবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা জানান, দুপুরের দিকে তিন জন আরোহীসহ একটি মোটরসাইকেল ভোলার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রলি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আরোহী মিরন নিহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ট্রলিটি জব্দ করেছে, তবে চালক পালিয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

মাগুরা

মাগুরায় শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বর্ণলতা মজুমদার (২৫) ও সাথী মজুমদার (২৭) নামে দুই গৃহবধূ এবং আহাদ আলি মোল্যা (৬০) নামে এক পল্লী চিকিৎসক নিহত হয়েছেন।

মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, শালিখার থৈপাড়া গ্রামের মিল্টন মজুমদারের স্ত্রী স্বর্ণলতা, তার ভাইয়ের স্ত্রী সাথী মজুমদারকে নিয়ে একটি অটোরিকশায় জেলার রামনগর এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তারা মাগুরা-ফরিদপুর সড়কের ঠাকুরবাড়ি এলাকায় অটোরিকশা থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী সবজি বোঝাই একটি ট্রাক অন্য একটি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নীচে চাপা পড়ে স্বর্ণলতা, সাথী এবং একই পরিবারের দুই শিশু সেতু মজুমদার (৭) ও অপর্ণা মজুমদার (১৩) গুরুতর আহত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা স্বর্ণলতাকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক সাথীকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহত সেতু ও অপর্ণা মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি এলাকার একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নিজ গ্রামে ফেরার আগে মাগুরার রামনগরে স্বর্ণলতার ফুফু বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু পথেই তারা দুর্ঘটনার শিকার হন বলে নিহত স্বর্ণলতার স্বামী মিল্টন মজুমদার জানান।

অন্যদিকে আহাদ আলী মোল্যা (৬০) নামে এক পল্লী চিকিৎসক শুক্রবার সকালে মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর এলাকায় নছিমনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।

বগুড়া

বগুড়ার নন্দীগ্রামে খেলতে গিয়ে ধান বোঝাই অটোভ্যানের চাপায় জাহিদ হোসেন (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার বেলঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জাহিদ হোসেন নন্দীগ্রাম উপজেলার বেলঘড়িয়া গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, জাহিদ বিকালে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। বাড়ির পাশে রাস্তায় অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় ধানবোঝাই ব্যাটারিচালিত একটি অটোভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জাহিদের মৃত্যু হয়। চালক ভ্যান রেখে পালিয়ে যায়।

নন্দীগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আজিজুর রহমান দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। মামলা হলে চালককে গ্রেফতার করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় বানা মিয়া (৭০) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ইসলামাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বানা মিয়া উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকার রহিছ আলীর ছেলে।

বিশ্বরোড খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে বানা মিয়া উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী টিআর পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

তিনি জানান, ঘাতক বাস ও বাসের ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে। মরদেহটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 11
    Shares