শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭
শীর্ষ সংবাদ

সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এবং নারী মুক্তির লড়াইয়ে শামিল হোন : মহিলা ফোরাম

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতা স্মরণে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে আয়োজিত সভায় বক্তারা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এবং নারী মুক্তির লড়াইয়ে শামিলহওয়ার আহ্বান জানান।

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫.৩০ টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ভ্যানগার্ড সেমিনার কক্ষে (৫ম তলায়) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশো এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের ঢাকা নগর শাখার সদস্য রুখসানা আফরোজ আশা।

আলোচনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, শ্রীলংকা যুব নেতা শানিকা হাসিনি সিলভা, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক
শম্পা বসু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ঢাকা নগর শাখার পক্ষ থেকে গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের নারী শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। এ উপমহাদেশের জনগণকে ২০০
বছরের পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ রেখেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। রাজনৈতিকভাবে পরাধীন, অর্থনৈতিক লুণ্ঠন আর নৈতিকভাবে পর্যদুস্ত রেখেছিল বলেই মাত্র এক লক্ষ চল্লিশ হাজার সামরিক আর
চার হাজার সিভিল প্রশাসকের শক্তিতেই তারা তাদের শোষণ-শাসন ও লুণ্ঠন চালাতে সক্ষম হয়েছিল।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সূর্য অস্তমিত করা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষের পাশে নারীরাও লড়াই করতে পারে- এ চেতনা জাগাবার জন্যে মাস্টারদা বেছে নিয়েছিলেন প্রীতিলতাকে। প্রীতিলতাও মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে গ্রহণ করেছিলেন জীবন দিয়ে জীবন জাগাবার মন্ত্র ‘ফড় ধহফ ফরব’। মাত্র একুশ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে জাগিয়ে তুলেছিলেন ভারতবাসীকে, ত্বরান্বিত করেছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলন, নারীদের সম্পর্কে সমাজের সংস্কারে করেছিলেন প্রচ- আঘাত।

সভায় বক্তারা প্রীতিলতার জীবন সংগ্রাম তুলে ধরে বলেন, শৈশবে মেধাবী প্রীতিলতা পড়েছেন চট্টগ্রামের ডাঃ খাস্তগীর স্কুলে। ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান নিয়ে পাশ করেছিলেন আইএ। এই সময় বাংলার বিপ্লবী সংগঠন ‘দীপালি সংঘ’-এর নেত্রী লীলা নাগের সংস্পর্শে আসেন। পরে ভর্তি হন কলকাতার বেথুন কলেজে। ডিস্টিংকশন নিয়ে বিএ পাস করে চট্টগ্রামে ফিরেই যোগ দিয়েছিলেন মাস্টারদা সূর্যসেনের দলে। অপর্ণাচরণ স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি চালিয়ে যান বিপ্লবী কর্মকা-। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে মাত্র ৭ জন সঙ্গী নিয়ে আক্রমণ করেন পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব। দাম্ভিক ব্রিটিশেরা যেখানে সাইনবোর্ডে লিখে দিয়েছিল ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’। সফল আক্রমণ শেষে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। জীবিত ধরা না পড়ার পর্ব পরিকল্পনায় অবিচল থেকে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন।

বক্তাগণ বলেন, আজ থেকে ৮৬ বছর আগে প্রীতিলতা যে স্বাধীনতা, শোষণমুক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শৃংখল মুক্তির জন্য নির্ভিক চিত্তে জীবন দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও মানুষ পুঁজিবাদী-
সাম্রাজ্যবাদী শোষণ লুন্ঠনের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে, দেশের সকল প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি-দখলদারিত্ব- দলীয়করণে নিমজ্জিত, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোয়া, শিক্ষা-চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে হিমসিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা, বেকার সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, সুন্দরবন ধ্বংস করে দেশী- বিদেশী লুটেরাদের স্বার্থে সরকার রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছে-একি কোন স্বাধীন দেশের চিত্র! এমন
দেশ পাওয়ার জন্য কি প্রীতিলতা আত্মহুতি দিয়েছিলেন? এখনকার তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হল একে পাল্টানোর জন্য লড়াই করা।

বক্তারা বলেন, ইতিহাসের সংগ্রামী চেতনা, অতীতের বড় চরিত্র বর্তমান সংগ্রামে পথনির্দেশ করে। প্রীতিলতাসহ অগ্নিযুগের অগ্নি সন্তানেরা নতুন প্রজন্মকে সংগ্রামী মানুষ হতে শেখায়; অন্যায় করা নয়, অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করা নয়, অন্যায়কে রুখে দিতে শেখায়। নেতৃবৃন্দ প্রীতিলতার সংগ্রামী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে পুঁজিবাদ- এর বিরুদ্ধে এবং নারীমুক্তির লড়াই এ সকলকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম