মঙ্গলবার, মে ১৮
শীর্ষ সংবাদ

সাম্প্রদায়িক উত্তাপ ঠেকাতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: যেসব এলাকায় উগ্র সাম্প্রদায়িক উত্তাপ ছড়িয়ে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, এমন সব এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান, থানা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তায় নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ব্যবস্থা। এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার থানা ভবনে মেশিনগানসহ নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির, হেফাজত ও উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি যেখানে বেশি সক্রিয়, ধারাবাহিকভাবে সেসব এলাকার জানমাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালায় হরতাল সমর্থনকারীরা। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও ঢাকায় হামলা-ভাঙচুর চালায়। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় থানা, ভূমি অফিস, সড়কে থাকা গাড়ি ও বসতবাড়ি। এরপরই পুলিশ সদর দফতর থেকে দেশের সব থানার নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার থানার আশপাশে সব সময় একাধিক দলের টহল এবং ঢাকার সব থানার নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

গত ৮ এপ্রিল সিলেট জেলা ও মহানগর, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার থানার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। থানার সমানে হালকা মেশিনগানসহ নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। ওইসব জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলার থানায় ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা হয়েছে। তাই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মূলত যেসব এলাকায় থানা ও সরকারি অফিসের ওপর সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে সেসব এলাকায় ক্রমান্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব এলাকায় নিরাপত্তা দেবে পুলিশ।

বর্তমানে ঢাকা মহানগরের ১৪টি থানা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ফরিদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জেলার থানায় নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। মূলত চারদিকে বালির বস্তা দিয়ে বাংকারের মতো করে এসব চৌকি স্থাপন করা হচ্ছে, যার ভেতরে মেশিনগানসহ পুলিশ সদস্য অবস্থান করছেন। ২৪ ঘণ্টাই সেখানে পাহারার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন জানান, ‘ফরিদপুরের সালথাসহ কয়েকটি থানায় হামলার ঘটনার পর সারাদেশের সব থানায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর বুধবার (৭ এপ্রিল) সিলেট জেলা পুলিশ লাইন্সে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির উপস্থিতিতে সিলেট জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়ে একটি বৈঠক করি আমরা। ওই বৈঠকে জেলার সব থানায় বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এলএমজি চৌকি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।’

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, হেফাজতের নাশকতা ও হামলার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর আরও নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য থানার নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি ওইসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এরইমধ্যে ডিএমপির ওয়ারী ও মতিঝিল বিভাগের ১৪টি থানায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এসব থানায় বাংকার স্থাপন করা হয়েছে। মতিঝিল বিভাগের সব থানার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মতিঝিল, সবুজবাগ, খিলগাঁও, পল্টন মডেল থানা, রামপুরা, মুগদা ও শাজাহানপুর থানায় বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপত্তা চৌকি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে থানার বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

অপরদিকে, পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি থানারও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মূলত মাদ্রাসা অধ্যুষিত এলাকা এবং তুলনামূলক জরাজীর্ণ থানাগুলোর নিরাপত্তা বেশি দেওয়া হচ্ছে। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগে এমন চিত্র দেখা গেছে। ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ জানিয়েছেন, ওয়ারী বিভাগের সব থানায় নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে গত ২৮ মার্চ (রোববার) হেফাজতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের হামলাকে অন্যভাবে বিশ্লেষণ করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। সেজন্য তারা আইনগত যেকোনও ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেখতে হবে কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো। এর পেছনে মদতদাতা কারা, বাংলাদেশকে কারা অস্থিতিশীল করতে চায়, হেফাজত একদিনে এরকম হয়নি।’ হেফাজত তাদের অনেক দাবি দাওয়া সরকারের কাছ থেকে পূরণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে হঠাৎ করে হেফাজতের এত উগ্র হওয়ার নেপথ্যে অবশ্য বিএনপি ও জামায়াতের ইন্ধন দেখছে পুলিশ ও সরকার। ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্তদের এবার ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যারা সরকারি স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের সঙ্গে ছিল তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে থানায় বাংকার স্থাপনের বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার এআইজি সোহেল রানা বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ওপর বর্বরোচিত হামলা আমরা দেখেছি। থানা ফাঁড়িসহ সরকারি স্থাপনার ওপরও চালানো হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ। ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ অধিকতর সতর্ক রয়েছে। এই সতর্কতার অংশ হিসেবেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের জীবন ও সম্পদের ওপর যেকোনও আঘাত সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে দমন করা হবে।’

 

 


এখানে শেয়ার বোতাম