বুধবার ‚ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ‚ ২৭শে মে, ২০২০ ইং ‚ রাত ২:০৯

Home মতামত সাংস্কৃতিক ক্ষত চুলকানো প্রথম শুরু করেছিল পাকিস্তানিরা

সাংস্কৃতিক ক্ষত চুলকানো প্রথম শুরু করেছিল পাকিস্তানিরা

ইমতিয়াজ মাহমুদ ::

(১)
“সাংস্কৃতিক ক্ষত চুলকানো প্রথম শুরু করেছিল পাকিস্তানিরা; তারা বাঙালিকে পাকিস্থানি ও মুসলমানকে পুনর্মুসলমান বানানোর কসম খেয়েছিল। তারা অবশ্য ‘সংস্কৃতি’ শব্দটিকেই বিদায় দিয়েছিল নাপাক বলে, বাঙালিকে দিয়েছিল তারা পাকসাফ ‘তমদ্দুন’।” এই কথাগুলি হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন ১৯৯২ সনে ‘সংস্কৃতিকে একলা থাকতে দাও’ নামে একটা কলামে। তিনি লিখছেন, “পাকিস্থানি তমদ্দুনের কাজ ছিল বাংলা ভাষাকে দূষিত করা, বর্ণমালা বদল করা, বাঙালিকে পাকিস্থানি করা।” এদের কবিতা লেখার উদাহরণও দিয়েছেন তিনি, “হিলাল চাঁদের বাঁকা দুলে ফের চন্দ্রিকা-দোল দাও, বে-নেকাব হও, গোলে বাকাউলি রাত” ইত্যাদি।

না, ভাষা নিয়ত প্রবহমান, সব ভাষাতেই প্রতিনয়ত যুক্ত হয় নতুন শব্দ আর শব্দরাও তাদের অর্থ পরিবর্তন করে প্রতিনিয়ত। ইংরেজি ভিলেইন বা ভিলেন শব্দটি যেমন। এর মুল অর্থ ছিল যারা ভিলাতে বাস করে, ভিলা মানে বড় বাড়ী বা প্রাসাদ অট্টালিকা। এই ভিলেইন বা ভিলেন শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়ে এখন কি দাঁড়িয়েছে সে আপনারা জানেন। এই ভিলেন শব্দটি এখন বাংলায়ও ঢুকে গেছে এবং সম্ভবত আরও অনেক ভাষায়। আরেকটা শব্দ যেটা অনেকটা আমাদের চোখের সামনেই রূপান্তরিত হয়ে গেছে- ব্রাত্য। ব্রাত্য ছিল একটি শুদ্ধ হিন্দু ধর্মীয় বুলি- পতিত। যে ব্রাহ্মণদের জাত মারা যেত বা পৈতে হতো না ওরা ছিল ব্রাত্য। এখন তো ব্রাত্য শব্দটির আর সেই ব্রাহ্মণ্য চরিত্র নেই।

দেবব্রত বিশ্বাস যেভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতেন সেটা বিশ্বভারতীর অফিশিয়াল পণ্ডিতদের সাথে মিলত না। এই নিয়ে মহা বিবাদ। দেবব্রত গান রেকর্ড করতে পারেন না, পণ্ডিতরা তাঁকে নিন্দামন্দ করে। তিনি নিজেকে চিহ্নিত করলেন ব্রাত্যজন হিসাবে। বইও লিখলেন ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীত নামে। এইখানে ব্রাত্য কথাটা কি অর্থ দাঁড়ালো তাইলে? আতাই। আতাই মানে কি? সঙ্গীতে শরাফত থেকে বিচ্যুত স্টাইলকে ওরা বলতো আতাই। শরিফ বা আশরাফ কথাগুলির উল্টো কথা হচ্ছে আতরাফ বা আতাই বা, একটু ইয়ে করলে, ইতর। দেবব্রত বিশ্বাস আতাই বা আতরাফ বা ইতর ব্যাবহার না করে বললেন ব্রাত্য ও ব্রাত্যজন। কথাটা তাইলে একটা নেতিবাচক ধর্মীয় শব্দ থেকে পাল্টে একরকম প্রথা ও প্রতিষ্ঠান বিরোধী ঘাড় ত্যাড়া বা বিদ্রোহী অর্থ গ্রহণ করে ফেলল।

শব্দের এইরকম রূপান্তর বা পরিবর্তন বা এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় অভিভাষণ বা অভিযোজন এইগুলি হচ্ছে সকল সংস্কৃতির স্বাভাবিক প্রগতি বা বিকাশ প্রক্রিয়ার অংশ। মুশকিল হয় যখন কেউ জোর করে বদ মতলবে ভাষা বা সংস্কৃতির অন্যান্য অনুষঙ্গের রূপান্তর করতে চায় বা স্বাভাবিক রূপান্তরের অপব্যাবহার করতে চায়।

(২)
ওদের আকাঙ্ক্ষিত ‘পাকসাফ তমদ্দুন’ গড়ার যে খায়েস, সেটা ছিল বাঙালি সংস্কৃতির উপর এইরকম একটা বদ মতলবি আক্রমণ। পাকিস্তান আমলে এই আক্রমণ যারা পরিচালনা করছিল ওরাও আমাদের দেশেরই একদল লোক। লিস্টি করে ওদের নাম বলতে পারবেন আপনি। আবুল মনসুর আহমদ, আবুল কালাম শামসুদ্দিন, মুজিবর রহমান খাঁ। এরা কাজ শুরু করেছিলেন অনেক আগে থেকেই। আবুল মনসুর আহমদ বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেও দেখেছেন একটা পাকিস্তান ভেঙে দুইটা পাকিস্তানের সৃষ্টি হওয়া হিসাবে। আবুল মনসুর আহমদ একা নন, এই মতামতের লোক বাংলাদেশ ভর্তি। এরা বাংলাদেশকে দেখতে চায় উপমহদেশে মুসলমানদের আরেকটা রাষ্ট্র হিসাবে- বাঙালীর রাষ্ট্র নয়।

বাঙালীর সাংস্কৃতিক পরিচয়টাই ওরা পাল্টে দিতে চেয়েছে- ঐ সাফসুতরা তমদ্দুন দিয়ে বাঙালী সংস্কৃতিকে প্রতিস্থাপিত করতে চেয়েছে। স্বাধীনতার পড় অল্প কিছুদিন ওরা চুপচাপ বসে ছিল। অনেকে পালিয়ে ছিল বা লুকিয়ে ছিল। ১৯৭৬ থেকে ওরা আবার তৎপর হয়েছে। একনায়করা এদের জন্যে বড় সহায় ছিল সবসময়- একনায়কের প্রতি ওরা সবসময়ই অনুগত ছিল। এরশাদ ছিল ওদের খুব প্রিয় একনায়ক। এরশাদ তো কবি সাজতে পছন্দ করতো। এই ভণ্ড কবিও চেষ্টা করেছে ওদের আকাঙ্ক্ষিত তমদ্দুন প্রতিষ্ঠা করতে। এই লক্ষ্যে এরশাদ একটা সংস্কৃতি কমিশন করেছিল। কারা ছিল সেই কমিশনে জানেন?

সৈয়দ আলী আহসান, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, এ কে আলম চৌধুরী, লায়লা আরজুমান্দ বানু, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আশরাফ সিদ্দিকি, আবদুল্লাহ আল মুতি শরফুদ্দিন, সাইদ আহমেদ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, এনামুল হোক, মস্তফা মনোয়ার, মাহমুদ শাহ্‌ কোরেশী, আব্দুর রাজ্জাক, আলাউদ্দিন আল আজাদ এরা ছিলেন কমিশনের সদস্য। এছাড়া সেই কমিশনের সাথে কাজ করেছেন বেগম জাহানারা আরজু, আবুল কালাম মঞ্জুর মোরশেদ, ফজলে রাব্বি, আমিনুল ইসলাম, মোবাশ্বের আলী, মোশাররফ হোসেন খান, শমশের আলী, সাইফুল বারী ও আরও অনেকে।

এরা একটা রিপোর্টও দিয়েছিল- কি করে পাকিস্তানি আদলে বাঙালী সংস্কৃতির কাঠামো তৈরি করা যায়। হুমায়ুন আজাদ এই রিপোর্টকে বলেছেন ‘এক দীর্ঘ প্রলাপ, এরশাদের পতনের পড় যেটা স্থান পেয়েছে ‘মহাকালের মলস্তুপে’।

(৩)
এই যে বাঙালী সংস্কৃতির পরিবর্তে জড় করে একটা সাফ ‘সাফ সুতরা তমদ্দুন’ তৈরি করা শয়তানী মতলব, সেটা এখন আর আনুষ্ঠানিকভাবে দৃশ্যমান নয়। কিন্তু সেই তামান্না এখনো মনে পোষণ করে এরকম শয়তানের অভাব নাই। ঐ যে কতোগুলি নাম লিখেছি উপড়ে, এদের অনেকেই মরে টরে গেছে বা বেঁচে থাকলেও আর কর্মক্ষম নাই বটে। কিন্তু এদের আইডিয়াটা বুকে ধারণ করে এইরকম লোকের অভাব নেই আমাদের দেশে। এরা আপনার চারপাশেই আছে- কবি আছে, বুদ্ধিজীবী আছে, রাজনীতিবিদ আছে, সম্পাদক আছে- সব আছে। কিভাবে এদেরকে চিনবেন?

একদল তো আছে যারা স্পষ্ট করে এই কথা বলে যে বাঙ্গালিয়ানার নামে হিন্দুয়ানী এই দেশে চলবে না, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু কবি এইরকম নানা কথা। এরা প্রকাশ্যেই বলে যে ওরা বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র বানাতে চায়। এদের রাজনৈতিক লাইন ইত্যাদি আপনারা জানেন। এদের পরিচয় যেহেতু স্পষ্ট, এদেরকে চেনা সহজ। কিন্তু কনফিউশন তৈরি করে আরেকটা দল, যাদেরকে আপানর এমনিতে মনে হবে সেক্যুলার লিবারেল আলোকপ্রাপ্ত ইত্যাদি। এই দ্বিতীয় দলটিকেই অনে সময় চেনা কঠিন হয়। ওদেরকে চেনার কয়েকটা বৈশিষ্ট্য আছে। এরা যে কোন অবস্থায় আওয়ামী লীগ বিরোধী, যে কোন অবস্থায় ভারতবিদ্বেষী, মওলানা ভাসানিকে এরা মনে করে বাঙালীর ইতিহাসে সবচেয়ে মহান নেতা এবং এরা সিপিবির তীব্র সমালোচনা করাটাকে ওদের রাজনৈতিক কর্তব্য মনে করে।

হিন্দু বিদ্বেষটা এদের ভেতর একটু বিচিত্রভাবে বিরাজ করে। সাধারণত অন্যান্য সাম্প্রদায়িক কবি সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ বা বুদ্ধিজীবীর মত এরা প্রকাশ্যে হিন্দু বিদ্বেষী নয় বা সাম্প্রদায়িক নয়। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রতি এদের বুকভরা অবিশ্বাস ও অসম্মান ছাড়া আর কিছু নাই। ওদের মধ্যে যে ক্রনিক এন্টি-ইন্ডিয়া সিন্ড্রোম ব্যাধিটা আছে, সেইটা থেকে ওরা ওদের তীব্র ভারত বিরোধিতার সাথে হিন্দু বিদ্বেষ মিলিয়ে ফেলে।

না, এরা সকলেই যে সচেতনভাবে একদম তমদ্দুনওয়ালা সেটা হয়তো নয়। কিন্তু এদের মধ্যেই ঐসব তমদ্দুনওয়ালারা বিরাজ করে এবং, একটু সরলীকরণ হয় যায় হয়তো, তবু আপনি মোটা দাগে ভাগ করলে এরা ঐদিকেই পড়ে।

(৪)
সম্প্রতি বিদ্যানন্দের নাম নিয়ে যে একটা আলোচনা উঠেছে, সেখানে কয়েকজন কবি বুদ্ধিজীবী, যাদেরকে এমনিতে উদারমনস্ক অসাম্প্রদায়িক মনে হয়, ওরা বেশ কায়দা করে নাকি বলেছেন যে বিদ্যানন্দ একটি হিন্দুয়ানী নাম এবং বিদ্যানন্দের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক অনুপ্রবেশ সহজতর হবে ইত্যাদি। এইরকম কথা তো দৃশ্যতই একটি ভ্রান্ত কথা। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই ধরণের কথা ওরা কেন বলেন বা কোন চেতনা ওদেরকে এই ধরনের কথাবার্তা বলতে উদ্বুদ্ধ করে।

বিদ্যানন্দ যদি হিন্দু নামও হয় তাতেও আমি কোন সমস্যা দেখি না। বাংলাদেশে মুসলিম নামের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আছে, খৃস্টান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে যুগের পর যুগ ধরে, হিন্দু প্রতিষ্ঠানও আছে। আমি পছন্দ করি বা না করি তাতে কিছু যায় আসে না- সেগুলি প্রতিষ্ঠান থাকতেই পারে। কিন্তু বিদ্যানন্দ একটি হিন্দু নাম এইটা যে কেবল মূর্খের বচন তাইই কেবল নয়, এইটা হচ্ছে একটা বদ মতলবি কথা। আনন্দ একটি উপমহাদেশীয় শব্দ- এটা প্রাকৃত ভাষা পালি ভাষা এইসবেও ছিল, সংস্কৃতেও ছিল, এখনো প্রায় সকল উপমহাদেশীয় ভাষায়ই আছে। এইসব উপমহাদেশীয় ভাষা সবগুলি কিন্তু ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর ঐ ব্রাত্য শব্দটির মত আনন্দ শব্দটির সাথে হিন্দু ধর্মের কোন ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে বলেও আমার জানা নেই। এমনিতে অন্য যে কোন শব্দ যেমন যে কোন ধর্মগ্রন্থে থাকতে পারে, আনন্দ শব্দটিও এইরকম নানা ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় সাহিত্যে থাকতে পারে। সেটা তো আর শব্দের দোষ হতে পারে না আরকি। গৌতম বুদ্ধের প্রধান অনুসারী বন্ধু সহযোগীর নাম ছিল আনন্দ। আমি নিজেও মাঝে মাঝেই বলি ‘আমিই আনন্দ’ বা ‘আমি আনন্দ’ ইত্যাদি। কে নাকি আবার বিবেকানন্দের নামের সাথে বিদ্যানন্দের নামের মিল পেয়েছে। এটা তো অজ্ঞতা প্রসূত। কারণ এইরকম আনন্দ সংযুক্ত নাম বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে আপনি শত শত পাবেন। সুতরাং আনন্দ শব্দটি বা বিদ্যানন্দ শব্দটিকে যদি কেউ হিন্দু শব্দ বলে তাকে তাইলে আপনি মূর্খ ছাড়া আর কি বলবেন?

যারা এইসব কথা বলেছেন, ওরা তো এটা না জানার কথা না। তাইলে এই কথাটা ওরা কেন বলছেন? অজ্ঞতা থেকে? আমার মনে হয় না। এইটা ওরা বলেছেন সেই তমদ্দুনি বদ মতলব থেকে।

(৫)
শোনেন, প্রথমেই যেটা বলেছি, অন্য সব ভাষার মতোই বাংলা ভাষাও প্রতিদিন রূপান্তরিত হয়। বাংলায় নতুন শব্দ যুক্ত হয়, আগে প্রচলিত ছিল এমন শব্দ বিলুপ্ত হয়। যেমন আগে বাংলায় ভাইবোনদের মধ্যে বড় মেজো সেজো রাঙা নয়া এইরকম নানা শব্দ ছিল। এখন আপনি মেজো হয়তো পাবেন কিন্তু সেজো বা সেজোর পর আর কিছু এখন আর ব্যাবহার খুব একটা হয় না। অনেক পুরনো আঞ্চলিক শব্দ নাই হয়ে যাচ্ছে। কুমিল্লা সহ বিভিন্ন জায়গায় গরম বুঝাতে ‘ততা’ বলা হতো। এখন সেটার ব্যাবহার খুব একটা দেখবেন না। অনেক ইংরেজি শব্দ ঢুকে গেছে, কিছু হিন্দি উর্দু শব্দও ঢুকেছে। ‘মাস্তি’ শব্দটি একরকম বাংলা হয়ে গেছে। ডিসকো শব্দটিও এইরকম।

ভাষা এইভাবে রূপান্তরিত হতেই থাকে। সংস্কৃতির অন্য সব অনুষঙ্গও এইরকম পরিবর্তন হয়। অন্তত দুইটা গিটার ছাড়া এখন আর কোন গান হয় না। একটা কিবোর্ড বা সিন্থেসাইজার ছাড়া এমনকি বাউলরাও কোন গান রেকর্ড করেন না। ফোক গান করেন এরকম ব্যান্ডের শো দেখতে গেছি, সেখানে কাঙ্গালিনী সুফিয়াও ছিলেন। গিয়ে দেখি ওরা বিচিত্র একটা তালের যন্ত্র ব্যাবহার করছেন। এটা কিরে ভাই? এটা নাকি ব্রাজিল না কোথাকার তালের যন্ত্র। গানের কথায়, কবিতায়, পেইন্টিংএ, সিনেমায় সর্বত্র আমরা অন্যদের কাছ থেকে নিতে থাকি। একান্ত ধর্মীয় শব্দও আমাদের রোজকার ভাষায় ঢুকে অসাম্প্রদায়িক হয়ে যায়। ব্রাত্য শব্দটির কথা তো বললামই।

এইরকম রূপান্তর এবং নতুন শব্দ যুক্ত হওয়া এইগুলি ভাষাকে সমৃদ্ধ করে। নজরুল কতো বিদেশী শব্দ ব্যাবহার করেছেন। সুধিন দত্ত বিষ্ণু দে ও ঐ সময়ের কবিরা ইউরোপ থেকে ইউরোপের মিথলজি থেকে ধার করেছেন। শামসুর রাহমান করেছেন। এগুলি কিছু টিকে যায়, ভাষা সমৃদ্ধ হয়- আর কিছু হারিয়েও যায়। এইটা প্রগতি।

(৬)
কিন্তু যারা ভাষাকে একটা বিশেষ ডাইরেকশন নিয়ে আমাদের ভাষার মৌলিক বৈশিষ্ট্যই পাল্টে দিতে চায়, ওরা হচ্ছে চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল। কেন প্রতিক্রিয়াশীল? কারণ ওরা ভাষাকে কেবল একটি সম্প্রদায়ের গণ্ডীর মধ্যে বাঁধতে চাইছে এবং ভাষার স্বাধীন বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। সংস্কৃতির একটা নিজস্ব স্বাধীন বিকাশের স্বাধীনতা থাকতে হয়- সেটাকে বাধাগ্রস্ত করাটাই হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীলতা। ঐ তমদ্দুনওয়ালারা এবং ওদের ছানাপোনা যারা এখন আছে- এরা হচ্ছে সেইসব চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল দল।

এদের ব্যাপারে সাবধান থাকবেন।

লেখক : এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
( ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়ালো, বিশ্বে ৩ লাখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মহামারি করোনায় যুক্তরাষ্ট্রের মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। শুধুমাত্র নিউইয়র্কেই মারা গেছে ২৯ হাজারের বেশি মানুষ। নিউইয়র্কে আক্রান্তের সংখ্যা তিন...

রংপুরে মদপানে ঈদ উদযাপন, ৬ জনের মৃত্যু

অধিকার ডেস্ক:: রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মদপানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত সাতজন।

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ হার বেশি

অধিকার ডেস্ক:: এপ্রিলের শুরুতে করোনার সংক্রমণ হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলেও চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে। দেশে নমুনা পরীক্ষায় আগের...

যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম...