শুক্রবার, জানুয়ারি ২২

সাংস্কৃতিককর্মী তাপসের রহস্যজনক মৃত্যু, মেয়ের দাবি খুন করা হয়েছে

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক::সিরাজগঞ্জ শহরের মিলনমোড়ে ঢাকার সাংস্কৃতিক কর্মী সৈয়দ গালিব হোসেন ওরফে তাপসসের (৫২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর পুলিশে খবর না দিয়েই লাশ তড়িঘড়ি দাফনের প্রক্রিয়া চলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় মিলনমোড় এলাকার তারেক হোসেনের বাসা থেকে তাপসের লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মামুন ও ইব্রাহীম নামে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য থানায় আনা হলেও পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরে করেছে পুলিশ। তাপস ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ছাব্বিশা গ্রামে। তারেক হোসেন নিহতের চাচাতো ভাই।

তাপসের মেয়ে সৈয়দা মাহাজুবা হোসেন টুপুর অভিযোগ করে বলেন, আমার দাদা আওরাঙ্গজেব হোসেন ফারুক জমিদার ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের বহুলী ইউনিয়নের ছাব্বিশা গ্রামে। ঢাকা এবং সিরাজগঞ্জে তার অনেক সম্পত্তি রয়েছে। দাদার মৃত্যুর পর আমার সৎ দাদি ডলি খাতুন ও তার বোন শেলী খাতুন মিলে অধিকাংশ সম্পত্তি বেহাত করেছেন। সিরাজগঞ্জ সার্কিট হাউসের আশেপাশে দাদি ও তার বোনসহ অন্যান্য আত্বীয়স্বজন মিলে কয়েকদিন আগে ৮০ লাখ টাকা মূল্যে দাদার একটি জমি বিক্রি করেন। সেই জমির পাওনা ১৪ লাখ টাকা নিতে ৪দিন আগে বাবা সিরাজগঞ্জ আসেন। এরপর বাবার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। আমার মা নেই। আমাকে ও আমার ছোট ভাইকে না জানিয়েই বাবার লাশ তড়িঘড়ি ও রহস্যজনকভাবে দাফনের চেষ্টা করা হয়। পরে আমি বাধ্য হয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশকে জানাই। আমার ধারণা সম্পত্তির লোভে দাদি ও তার বোন এবং অন্যান্য আত্বীয়স্বজন মিলে বাবাকে খুন করেছেন।

সদর থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম জানান, ভিকটিমের মেয়ে টুপুর গালিবের অভিযোগের ভিত্তিতে মিলনমোড়ের তারেক হোসেনের বাসা থেকে তাপসের লাশটি উদ্ধার করা হয়। তারেক হোসেন নিহতের চাচাতো ভাই বলে জানা গেছে। তাপস ও তার শরিকদের মধ্যে পূর্ব ঝামেলা রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তাপস সাংস্কৃতিক ও নাট্যকর্মী বলে তার মেয়ে জানিয়েছেন।


এখানে শেয়ার বোতাম