সোমবার, মার্চ ১
শীর্ষ সংবাদ

সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে ও মনরাঙানো হলুদ বর্ণে ছেঁয়ে গেছে ফসলের মাঠ

এখানে শেয়ার বোতাম

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর :: জামালপুরে মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়ায় আগাম ফসল সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে ও মনরাঙানো হলুদ বর্ণে ছেয়ে গেছে সারা ইউনিয়ন ইউনিয়নের, ছবিলাপুর, চাড়ালকান্দি­, সগুনা, ঘোষেরপাড়া, বাগ­বাড়ী, আমির্তী, কাহেতপা­ড়া ও বীর বংশী বেলতৈল এলাকার খেত সরিষার ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে।যেন খেতজুড়ে থোকা থোকা স্বর্ণপুষ্প ফুটে আছে। ওইসব এলাকায় মাঠভরা হলুদ বর্ণ ফুলের গন্ধে চারদিক আমোদিত। মৌমাছিরা দলবেঁধে গুনগুন করে গান গাচ্ছে আর মধু আহরণ করছে। ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ৬শ ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।এতে কত মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হবে তা এখনো জানা যায়নি।

জানা গেছে,এবার সময়মত সরিষার চাষ হয়েছে।আগামজাতের সরিষা যে সব এলাকায় চাষ হয়েছে সেখানে সরিষার ফুল ফুটে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।শীতকাল এখনো পুরোপুরি না এলেও আগামজাতের সরিষার চাষ হয়েছে বেশ।

ছবিলাপুর এলাকার চাষিরা সরিষা আবাদ বেশি করে থাকে।এবছর ভালো ফলন দেয় এমন জাতের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরিষা চাষ হয়েছে।উচ্চফলনশীল এই জাত বেশি চাষবাস হলে কৃষি অফিসের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদিত হবে- এমনটাই আশা কৃষি কর্মকর্তাদের।

শুধু ফলন টার্গেটই নয় পোকাপাকড় রোগবালাই দমনে সরিষা চাষিদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।নভেম্বর মাসে সরিষা রোপণ এবং ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারি মাসের শুরুতেই ফলন ঘরে তুলবে চাষিরা।গত বছর আশানুরূপ ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এবার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় সরিষার চাষ বেড়েছে।

জানা যায়,ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ৬শ ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।তবে আরো বেশ কিছু জমিতে চাষাবাদ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এর মধ্যে সাবেক ১নং এ ৮০ হেক্টর,২নং এ ২শ ৯০ হেক্টর ও ৩নং ব্লকে ৩শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে।অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই সরিষা চাষে ঝুকে পড়ছে।

সগুনা এলাকার এক কৃষক জানান,বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করছে তারা।অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষে কৃষককে পরামর্শ প্রদান ও সহায়তা করে আসছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা ভালোই অর্থ ঘরে তুলতে সক্ষম হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে।অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষ বেশ লাভজনক।বাড়তি ফসল হিসেবে এ অঞ্চলে সরিষা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।সরিষা চাষ করে অনেক কৃষকের ঘুরছে ভাগ্যের চাকা।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং সরিষার ভালো মূল্য পেলে এ অঞ্চলে সরিষা চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদরা।

ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-কৃষি অফিসাররা জানায়,আশা করা হচ্ছে গত বছরের চেয়েও এ বছর সরিষার ভাল ফলন হবে।সময়মত চাষাবাদ,উচ্চফলনশীল জাত,আবাহওয়া অনুকূলে থাকলে ও চাষিদের মাঝে জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।


এখানে শেয়ার বোতাম