সোমবার, মে ১০
শীর্ষ সংবাদ

সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার: ব্যারিস্টার মওদুদ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। নিজেদের দুর্নীতির ভারে তাদের পতন হবে। যে কোন মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটবে। কখন ঘটবে এটা কারো পক্ষে বলা সম্ভব নয়। ছাত্রলীগ, যুবলীগের মতো ঘটনা আরো ঘটবে। ঘটতে থাকবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী নবীন দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় তিনি একথা বলেন।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকারের আর কোনো ভবিষ্যৎ নাই। এখন ভবিষ্যৎ আছে দেশের নবীনদের, জনগণের। সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার।

তিনি বলেন, যতই এই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অভিযান চালাক না কেন, এটা একটি আইওয়াশ। এটা (দুর্নীতি দমন) সত্যিকার অর্থে তারা পারবেন না। কারণ তাদের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, শাখা-প্রশাখার এতো গভীরে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে যে, এখান থেকে উদ্ধার পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভবপর হবে না। ফলে তাদের নিজেদের কারণেই তাদের পতন হবে।

শুদ্ধি অভিযানে সরকারপ্রধানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘সরকার যদি সিরিয়াসই হন তাহলে শুধু যুবলীগ, ছাত্রলীগ কেন, জনগণের কাছে সব মন্ত্রী ও এমপিদের সম্পদের হিসাব দিন। তাহলে বুঝব যে, আপনারা সিরিয়াস। এই দুর্নীতি দূর করুন, এই দুর্নীতি আপনাদের দুর্নীতি, আপনাদের দলের ভেতরের দুর্নীতি, সরকারের ভেতরের দুর্নীতি। এই দুর্নীতিপরায়ণ সরকারের পতন হতে বাধ্য এবং হবে।’

খালেদা জিয়ার জামিনে ‘সরকারের প্রতিবন্ধকতার’ অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না। যেদিন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন সেদিন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারা (ক্ষমতাসীনরা) রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। হতাশ হওয়ার কারণ নাই। খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, আইনের শাসন ফিরে আসবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে আসবে। হাজার হাজার নেতা-কর্মী যারা জেলখানায় আছেন তারা মুক্তি পাবেন এবং যেসব মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহার করা হবে। দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আনার চেষ্টা করবো।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক দলের নীতি-নির্ধারকদের কাছ থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি চেয়ে বলেছেন, আন্দোলনের জন্য সবাই প্রস্তত। এ আন্দোলনে তিনি নিজের জীবন দিতেও প্রস্তত রয়েছেন বলে জানান।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকারের প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেছে। শুধু প্রসব কখন হবে জাতি আজ সেই প্রহর গুনছে। অচিরেই সেই প্রহরের অবসান ঘটবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।


এখানে শেয়ার বোতাম