শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

সরকারের কপালে বড় কলঙ্কের তিলক : মান্না

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: স্বাধীনতার পরে ৪৮ বছরে বাংলাদেশের কপালে যত কলঙ্ক তার সবচেয়ে বড় তিলক আওয়ামী লীগের কপালে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তির দিনে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মান্না বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করার জন্য আওয়ামী লীগের কৃতিত্ব দাবি করার অধিকার আছে। তেমনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে কলঙ্ক রচনা করবার ইতিহাসও সেই দলটির আছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এক বছরে যে দুঃশাসন কায়েম করেছে সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।

পাটকল শ্রমিকদের দাবির প্রসঙ্গে টেনে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেনে নিন। আমি কোনো সময়সীমার কথা বলছি না। যদি আর একটা লাশ পরে তাহলে কার পদ কী সেটা দেখার মতো ইচ্ছা আমাদের থাকবে না।

ডাকসু ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি হয়েছে সবাই দেখেছে। সিসি ক্যামেরা আছে, সেই ছবিগুলো কোথায়? এখন নুরের নামে মামলা হয়, রাশেদের নামে মামলা হয়। সেই সাথে আরও ২০ জনের নামে মামলা হয়। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এই অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে দোষীদের গ্রেফতার করা হবে। ছাত্র আন্দোলনকে সবাই ভয় করতো, এই সরকারও করে। ডাকসুকে সবাই ভয় করতো, এই সরকারও সেটা করে। আমরা আজও বলি নুরের ওপর হামলা করা হয়েছে, নুর কারও ওপর হামলা করেনি। নূর এবং অন্যদের নামে যে মামলা আছে তা অতি দ্রুত প্রত্যাহার করেন।

টেলিভিশনের উপস্থাপকরা একেকটা নাটক বানাবার চেষ্টা করেন, টকশো নয়- এমন মন্তব্য করে মান্না বলেন, দু-একটা টেলিভিশন আছে তারা টকশো সাজায়। তারা আবার জিজ্ঞেস করে বহিরাগত কি ছিল? মনে হয় জীবনে তারা বহিরাগত দেখে নাই। আমরা যখন মাঠে নেমেছি, আমরা মাঠে থাকবো। গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলনের নামে একটা সংগঠন আমরা করেছি। কালকে মৎস্য ভবনের সামনে আমরা একটা সমাবেশ করবো। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গায়ের জোরে ক্ষমতা আমরা মানি না। এই ভোট মানি না, আপনাকে মানি না, আপনার সরকারকেও মানি না।

তিনি বলেন, আজকে আমাদের ধিক্কার জানাবার দিন। জাতির ইতিহাসের এত বড় কলঙ্কের তিলক আগে কখনো লাগেনি, যেটা গত বছর ২৯ ডিসেম্বর রাতে লেগেছে। এই ভোট বাতিল করতে হবে, এই সরকার বাতিল করতে হবে, পার্লামেন্ট বাতিল করতে হবে। নেমে যেতে হবে সরকারকে। আজকে সেই শপথ নেয়ার জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, জেএসডির তানিয়া রব, গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ, হায়দার আফ্রিক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এখানে শেয়ার বোতাম