রবিবার, নভেম্বর ২৯

সমাবর্তনে নাগরিকত্ব আইন ছিঁড়ে যাদবপুরের ছাত্রী দেবস্মিতার প্রতিবাদ

এখানে শেয়ার বোতাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: সমাবর্তনের মঞ্চ বরাবরই প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে সমাবর্তন মঞ্চে প্রশংসাপত্র প্রত্যাখান করেন গীতশ্রী। এবার বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে মঞ্চে উঠে বিলটি ছিঁড়ে ফেললেন এক ছাত্রী।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে স্নাতকোত্তর করা ওই শিক্ষার্থীর নাম দেবস্মিতা চৌধুরী। প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সমাবর্তনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিলিপি ছিঁড়ে তিনি বললেন, ‘হাম কাগজ নেহি দিখায়েঙ্গে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’ তারপর এগিয়ে যান স্বর্ণপদক নিতে।

উপ-উপাচার্য প্রদীপ কুমার ঘোষের কাছ থেকে পদক নেয়ার পর তিনি বললেন, ‘দেশজুড়ে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে। আমার মনে হয়েছিল, স্বর্ণপদক নেয়ার জন্য মঞ্চে ওঠার সুযোগটা প্রতিবাদ জানানোর কাজে লাগানো উচিত।’ দেবস্মিতার বাবা ও দিদি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দেবস্মিতার প্রতিবাদে তারাও খুশি।

দেবস্মিতা চৌধুরী বলেন, ‘কোন সংশয় না রাখাই ভালো। আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কোনো অসম্মান প্রদর্শন করছি না। এই প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিগ্রি পাওয়া আমার কাছে গর্বের। তবে আমি সিএএ-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই মঞ্চ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বন্ধুরা সমাবর্তন মঞ্চের বাইরের দরজায় ধর্নায় বসেছে।’

অবশ্য সকাল থেকে প্রতিবাদের আবহ ছিল যাদবপুর ক্যাম্পাসে। অনেকে ‘নো এনআরসি, নো সিএএ’ লেখা ব্যাজ পরে সনদ নেন। শিক্ষার্থীদের ঘেরাও-বিক্ষোভে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধনখড়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দ্বারা দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন।

অনেকেই স্পষ্ট জানান, রাজ্যপাল এলে তার হাত থেকে সনদ নিতেন না তারা। সমাবর্তনে অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, রাজ্যপাল যদি শেষ পর্যন্ত সমাবর্তন মঞ্চে আসতেন, তা হলে তার হাত থেকে ডিগ্রি নিতেন না তিনি। তার কাপড়ে দুটি ব্যাজ লাগানো ছিল। যার একটিতে লেখা ‘নো এনআরসি, নো সিএএ’ অন্যটিতে ‘গো ব্যাক ধনখড়’।

রাজ্যপাল ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে তার গাড়ি ঘিরে রেখে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। কালো পতাকা হাতে ‘গো ব্যাক’ (ফিরে যান) স্লোগান দিতে শুরু করে তারা। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাজ্যপালকে বয়কটেরও সিদ্ধান্ত নেন। গোটা ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর উত্তাল হয়ে উঠলে সমাবর্তন অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

ছাত্রদের একাংশের রাজ্যপালকে বয়কট অন্যদিকে রাজ্যপাল অবরুদ্ধ থাকায় সমাবর্তন অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যপালকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলোচনা করে আচার্যকে ছাড়াই সমাবর্তন শুরু করেন। তারপর আচার্যের চেয়ার ফাঁকা রেখেই শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তন অনুষ্ঠান।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজ্যপাল বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এটা পুরোপুরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা। রাজ্য সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনীতি করছে। এতে শিক্ষার্থীদেরই ক্ষতি হচ্ছে। রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, এটা না করতে।’


এখানে শেয়ার বোতাম