মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে বগুড়ায় ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

এখানে শেয়ার বোতাম

বগুড়া প্রতিনিধি:: সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যখাতে লুটপাট ও মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করা, ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বগুড়ায় বিক্ষোভ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ।

আজ রবিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় প্রগতিশীল ছাত্র জোট কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এই শহরের সাতমাথায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশ জোটনেতা ধনঞ্জয় বর্মনের সভাপতিত্বে পরিচালনা করেন মুক্তা আক্তার মীম।

মানববন্ধন- সমাবেশ জোট নেতা বংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন,” করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, বিনা চিকিৎসায় হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকারের ন্যূনতম প্রস্তুতিও নেই। সরকার ব্যস্ত নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালায়ের ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতা পাহাড় -সমান। এ মুহূর্তে সংক্রমন প্রতিরোধে প্রয়োজন বেশি বেশি পরিমান টেস্ট করা। কিন্তু আমরা জানি ৪৩ টি জেলায় কোন পিসিআর মেশিন নেই। টেস্ট কিটের অভাবে পরীক্ষা বন্ধ থাকছে বিভিন্ন জেলায়। হাসপাতালগুলোতে নেই দক্ষ চিকিৎসক -নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী। হাসপাতাল গুলোতে নেই পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড,ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। অক্সিজেন সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মানুষের অসহায়ত্ব সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এই মহামারীর সময়েও থেমে নেই চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা। নিম্নমানের মাস্ক- পিপিই সরবরাহ করে টাকা লুটে নিচ্ছে সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীগোষ্ঠী। দেশের চিকিৎসক -নার্স- স্বাস্থ্যকর্মীরা সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে মারা যাচ্ছেন। আক্রান্ত হচ্ছেন ফ্রন্ট ফাইটার ডাক্তার, নার্স, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মীরাও। চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরা যখন পিপিই-এর অভাবে সম্মুখযুদ্ধে মারা যাচ্ছেন, তখন বেক্সিমকো গ্রুপ ৬৫ লক্ষ পিস পিপিই ইউরোপ -আমেরিকায় রপ্তানি করে। এই হলো মুনাফাকেন্দ্রিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আসল চিত্র।”

জোটনেতা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন বলেন,” “সরকারের দেওয়া তথ্যের চেয়ে সংক্রমণের বাস্তব চিত্র বহুগুণ বেশি। এসব নিয়ে কথা বললেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে চলছে গ্রেফতার- নির্যাতন। এই অবস্থায় প্রয়োজন ছিলো মানুষের ঘরে-ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে লকডাউন জোরদার করা। কিন্তু তা না করে জাতীয় স্বার্থের কথা বলে পুঁজিপতিদের স্বার্থে লকডাউন তুলে দেওয়া হলো। লক্ষ কোটি মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হলো। সরকার শুধু জিডিপির কথা বলছে। কিন্তু এই জিডিপি’র মধ্যে মানুষ নেই এবং তা নিম্নবিত্ত -মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনকে রক্ষা করতে পারছে না।”

সেইসাথে এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সকলের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে রাজপথে দাবি তুলছে তাদেরকে গ্রেফতার /আটক করে জনমনে ভীতি তৈরি করে প্রতিবাদী শক্তিকে দমন করতে চায় তার অংশহিসাবে আজ রংপুরে বাসদ কার্যালয় থেকে বাসদ জেলা সমন্বয়ক আব্দুল কুদ্দুস এবং প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ছাত্র ইউনিয়ন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান ও সদর উপজেলা শাখার সদস্য বিশাল এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রায় পনের জন নেতা-কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেন প্রগতিশীল ছাত্র জোট বগুড়া জেলা নেতা, ইউনিয়ন জেলা সংসদ সভাপতি নাদিম মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন,সাংগাঠনিক সম্পাদক মুক্তা আক্তার মীম।


এখানে শেয়ার বোতাম