মঙ্গলবার, মার্চ ৯
শীর্ষ সংবাদ

সকল ধর্ষক-হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি মহিলা ফোরামের

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ২৪তম নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (ইয়াসমিন হত্যা) দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে আজ ২৪ আগস্ট ২০১৯ সকাল ১০.৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের ঢাকা নগর শাখার সদস্য রুখসানা আফরোজ আশা। সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর ঢাকা নগর শাখার সদস্য পারভীন আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর আন্তর্জাতিকতা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, ঢাকা নগর শাখার সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, সুলতানা আক্তার।

বক্তারা বলেন, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত ও নিহত হয়েছিল দিনাজপুরের ইয়াসমিন। এর বিরুদ্ধে দিনাজপুরসহ সারাদেশে গড়ে উঠা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলনের স্মরণে প্রতিবছর ২৪ আগস্ট পালিত হয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। ৭ জন সংগ্রামী মানুষের জীবনের বিনিময়ে এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামসহ বাম-প্রগতিশীল নারী সংগঠনসমূহ, রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের আন্দোলনের মুখে ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার বিচার কার্যকর হয়। এরপর কেটে গেছে ২৩ বছর। নারী নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা তো কমেইনি বরং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, পিটিয়ে হত্যা, যৌতুকের কারণে হত্যা, এসিডে ঝলসে দেয়া, ইন্টারনেটে ছবি ছড়িয়ে ইত্যাদি নির্যাতনের ধরণ বেড়েছে, দীর্ঘ হয়েছে নির্যাতিতদের মিছিল। ছয় বছরের শিশু থেকে ষাট বছরের বৃদ্ধা, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র, সমতল বা পাহাড়ের আদিবাসী, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। ঘরে-বাইরে, পথে-ঘাটে, কর্মক্ষেত্রে সর্বত্রই শারিরীক-মানসিকভাবে চলছে এই নির্যাতন। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ২ হাজারের বেশি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩১ জন। গণধর্ষণ, ধর্ষণের পরে হত্যাসহ অন্যান্য নির্যাতনের হারও অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে উৎকণ্ঠা-আতঙ্কের বাইরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারাটাই যেন এদেশের নারী-শিশুদের কাছে কল্পনাতিত!

বক্তাগণ আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে যত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মামলা হয় না। যে সব ক্ষেত্রে মামলা হয় সেগুলোও বছরের পর বছর ঝুলতে থাকে। সহজে নিষ্পত্তি হয় না। দেখা যায়, যে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে তার মাত্র ৩ শতাংশের সাজা হয়েছে। নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা এসব অপরাধের বিচার না হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ ক্ষমতাকেন্দ্রিক শাসকদলের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সংশ্লিষ্টতা। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হল দখল, হাট-মাঠ দখল, নদী-নালা-খাল-বিল দখল, বন-পাহাড় দখল, ব্যাংক দখল পুরো দেশই প্রায় দখলে নিয়ে ফেলেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের ভোট নজিরবিহীনভাবে আগেরদিন রাতেই ভোট ডাকাতি করে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। দেখা যাচ্ছে মাদক-পর্নোগ্রাফি নারী-শিশু পাচার-নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা এসব অপরাধমূলক ঘটনার সাথে বেশিরভাগক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা যুক্ত। ক্ষমতায় থাকলে যে কোন অপরাধ করেও পার পাওয়া যাবে এই তাদের মনোভাব এবং বাস্তবতা। ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তারা আইন-বিচার-প্রসাশনকে দিয়ে সর্বোচ্চ অপরাধ খুন করেও পার পেয়ে যাচ্ছে! আর যেখানে ন্যায় বিচার নেই; সেখানে নারী-শিশু নির্যাতন বাড়বে এটাই তো স্বাভাবিক। অন্যদিকে নারীকে সিনেমা, পোস্টার, বিজ্ঞাপন, ওয়াজে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন, পর্নোগ্রাফি মাধ্যমে নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে তুলে ধরায় নারীর প্রতি অসভ্য-বর্বর ভোগ মানসিকতা গড়ে উঠছে; যার কারণে ধর্ষণ প্রবণতা বাড়ছে।

বক্তাগণ বলেন, নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সমাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন। এই সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনই বিচার প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে ত্বরান্বিত করতে সরকারকে বাধ্য করতে পারে এবং সাথে সাথে সামাজিক প্রতিরোধের কারণে অপরাধী কোণঠাসা হয়ে পড়বে; সে আইন বা সমাজ কোথাও আশ্রয় পাবে না। ইয়াসমিন ধর্ষণ-হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন আমাদের সেই শিক্ষা দেয়। চুপ করে ঘরে বসে থাকলে কিংবা হা-পিত্যেশ করলে এইসব অন্যায়-নিপীড়ন-নির্যাতনের হাত থেকে কেউই রক্ষা পাবে না।

সমাবেশ থেকে নারী-শিশু নির্যাতক-ধর্ষক-হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি ও ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়।


এখানে শেয়ার বোতাম