মঙ্গলবার, মে ১১
শীর্ষ সংবাদ

“সংস্কৃতি কথা”য় মানুষ ও মনুষ্যত্ব

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 41
    Shares

মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন::

জীবন সম্পর্কে এবং জীবনের গতি প্রকৃতি নিয়ে পৃথিবীর পাঠশালার দিকে তাকালে অসংখ্য বড় চরিত্রের মানুষের দেখা মিলে যাঁরা মানব জীবন, প্রকৃতিজগৎ,বস্তুজগৎ, মানুষের চিন্তার জগৎ,জীবন বৈশিষ্ট্য, আচার-আচরণ, মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ, ক্রমবির্বতন,কৃষ্টি কাল, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, মতবাদ,আদর্শ,রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ,পরিবার,দল,সংগঠন, কর্মজীবন,নারী-পুরুষ সম্পর্ক, মানুষের আনন্দ বেদনা, সুখ দুঃখ অনুভূতি, শিল্প সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন, সৌন্দর্য, মাধুর্য নৈপুণ্য, উৎকর্ষ, সুস্থতা, নান্দনিক অনুভূতি নিয়ে নতুন করে ভেবেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সংস্কৃতি সমালোচক মোতাহের হোসেন চৌধুরী। যে কোন সাহিত্যের বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করার পূর্বে প্রয়োজন একটি দৃষ্টিভঙ্গির। ফলে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর অনবদ্য সৃষ্টি “সংস্কৃতি কথা” বইটি নিয়ে কথা বলার পূর্বে দৃষ্টিভঙ্গিটা আগে ঠিক করা প্রয়োজন।কেননা একটা পশ্চাৎপদ আড়ষ্ট চিন্তা দিয়ে শিল্প সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করলে তার ভেতরে অনুপ্রবেশ করা যায় না। শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি একটা সমাজ বা রাষ্ট্রের দর্পন বা প্রতিচ্ছবি। সেই সমাজ বা রাষ্ট্রকে এবং মানুষের জীবন এবং মননে রক্তে মাংসে যে চিন্তা চেতনা থাকে তাকে বুঝতে হলে প্রয়োজন প্রগতিশীল চিন্তা। প্রয়োজন বাস্তবসম্মত চিন্তা যা দিয়ে ভিতরের মনিমুক্তা খুঁজে বের করে আনা সম্ভব।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী অথবা অন্য যে কোন সাহিত্যিকের চিন্তা ভাবনা বিচার করতে গেলে, যে সময়ে বা সমাজ প্রগতির ইতিহাসে যে বিশেষ স্তরে সেই সাহিত্যিকের অভ্যুত্থান বা তাঁর সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে সেই স্তরটি, সেই সময় এবং সমাজ -পরিবেশটি আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন। স্থান, কাল নিরপেক্ষভাবে কোন বড় সাহিত্য বা সাহিত্যিককে মূল্যায়ণ করলে তাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করা যায় না। তাই স্থান, কাল, পরিবেশকে বিবেচনায় রেখে সাহিত্য ও সৃষ্টিকে মূল্যায়ণ জরুরী। জরুরী এই কারণে যে, সত্য কখনো নিরপেক্ষভাবে অবস্থান করতে পারে না।একেক স্থানে, একেক যুগে সত্য একেক রকম।সত্যকে ধরতে হলে পরিবেশ পরিস্থিতির মূল্যায়ণ অবশ্যম্ভাবীরূপে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর দৃষিভঙ্গিটা বুঝতে হলে তাঁর জীবনদর্শন এবং তাঁর জীবনে প্রভাব ফেলা দর্শন, দার্শনিক অবস্থান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক অবস্থান পরিস্কারভাবে জানা প্রয়োজন।অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী “সংস্কৃতি কথা” বইটি সম্পর্কে মন্তব্য করেন.. “মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জগৎটা ভদ্রলোকের জগৎ বলতে লোভ জাগবে,কিন্তু ভদ্রলোকের জীবন সৃষ্টিশীলতার যে অভাব সেটা তাঁর জন্য বিতৃষ্ণার ব্যাপার।তিনি সৃষ্টিশীলতায় বিশ্বাস করেন। তাঁর লক্ষ্য সংস্কৃতি সমৃদ্ধ জীবন,যে জীবনে প্রকৃতি ও মানব সংসার থেকে নিরন্তর বিচিত্র সম্পদ আহরণ চলবে চলমান তবে নিয়ন্ত্রণহীন নয়।দিগভ্রান্তও নয়। নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে দুটি শক্তির উপর একটি মূল্যবোধ অপরটি যুক্তিবিচার।”

মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জীবনকালে কোনো বই-ই প্রকাশিত হয়নি। যে তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে তাও হয়েছে তাঁর মৃত্যুর পরে। প্রথম বই “সংস্কৃতি কথা” ১৯৫৮সালে প্রকাশিত হয় তার রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ “। এছাড়াও তার অনুবাদকৃত দুটি গ্রন্থ হচ্ছে ক্লাইভ বেলের Civilization গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত সভ্যতা (১৯৬৫) এবং বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের অনুবাদ সুখ (১৯৬৫)। সৈয়দ আবুল মকসুদের সম্পাদনায় ১৯৯৫ সালে বাংলা একাডেমি তার প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত সমস্ত রচনা রচনাবলি আকারে প্রকাশ করে।মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জীবনের দিকে তাকালে দেখা যাবে তাঁর গোটা জীবনে সবচেয়ে প্রভাব ফেলেছেন দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল, রবীন্দ্রনাথ,নজরুল ও প্রমথ চৌধুরী যাঁরা মেঘাচ্ছন্ন আকাশে সূর্যের আলোর মতো দেখা দিয়েছেন মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জীবনে।তাই আমরা দেখি মোতাহের হোসেন চৌধুরী গদ্য লিখলেও তাঁর সমস্ত কথায় গোছানো একটা কবিতার মতো শিল্প, ছন্দ আর নৈতিকতার ছাপ।
“সংস্কৃতি কথা”য় লেখক একটি বিষয়কে শুধু একটি দিক দিয়েই ব্যাখ্যা দেননি বিভিন্ন দিক থেকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিটা দেখিয়েছেন যা মানুষের তথাকথিত চিন্তার সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু তাঁর লেখনীতে উন্নত চিন্তার যে ছাপ রয়েছে তা যে কোন পাঠকের হৃদয়ে রেখাপাত করে।

মানুষের চিন্তার জগৎ আজকের দুনিয়ায় যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে আছে তার পেছনে রয়েছে পৃথিবী সৃষ্টির ৪৫০কোটি বছর,প্রাণ সৃষ্টির ৩০০কোটি বছর।প্রথম আফ্রিকার ইথিওপিয়ার মানুষ সৃষ্টির ৩০লক্ষ বছর,মানুষ সমাজবদ্ধ হওয়ার ১৫হাজার বছরের ইতিহাস। গত ৫শতাব্দীতে গোটা পৃথিবীর বিজ্ঞানের অভাবনীয় আবিষ্কার যা Paradigm Shift হিসেবে চিহ্নিত যেমন, পৃথিবীকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে সৌরকেন্দ্রিক চিন্তা, জীবজগতের বিবর্তনবাদ,সমাজ বিকাশের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ এই তিনের সমন্বয়ে হাজার হাজার বছরের সভ্যতার ক্রমবিবর্তনে বিকাশের ধারায় সমাজের ধরণ ধারণ সম্পর্কে যে পুরনো চিন্তা কাঠামো গড়ে উঠেছিল তাকে ভেঙ্গে দিয়ে সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম বিশ্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে মানুষ জ্ঞানের নতুন পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছে।মানুষের যাপিত জীবনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যে পুরনো বদ্ধমূল চিন্তা ছিল তা ভেঙ্গে যায় নতুন জ্ঞানের অন্বেষণে।মানুষের ধরণ ধারণ, বৈশিষ্ট্য অভিজ্ঞতা সঞ্চিত জ্ঞান, দক্ষতা, সংঘবদ্ধতা, মানসিক অবস্থা থেকে শুরু করে মানুষের জ্ঞানের পরিমন্ডল গড়ে উঠেছে নতুন অর্থনীতি, সমাজ,রাজনীতি, শিল্প,সাহিত্য, সংস্কৃতি থেকে। গড়ে উঠেছে মানুষেরই সমাজবদ্ধ ক্রিয়া কর্মে এবং নতুন নতুন গবেষণা অন্বেষণে।

মানুষের আহরিত সঞ্চিত জ্ঞান অভিজ্ঞতা, চিন্তাচেতনা মানুষে মানুষে, সমাজ মননে বিভিন্ন রূপে অবস্থান করে মানুষের রক্ত মাংসের অস্তিত্বের সাথে মিলেমিশে। বিভিন্ন দেশের মাটির গঠন, জলবায়ু ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া, উৎপাদন, উৎপাদিকা শক্তি,উৎপাদন সম্পর্ক অর্থাৎ উৎপাদন পদ্ধতি, পণ্য দ্রব্য বিতরণ প্রক্রিয়া,ব্যবসা বাণিজ্য আমদানি, রপ্তানি সর্বক্ষেত্রে এর একটা নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠে।এই সংস্কৃতি গড়ে উঠে মানুষের সাথে মানুষের জৈবিক, বৈষয়িক, মনস্তাত্তিক, পারিবারিক, সামাজিক, তাত্ত্বিক, রাষ্ট্রীয়,মতবাদিক,ধর্মীয়, বর্ণ, গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের যাপিত জীবনের সংমিশ্রণ প্রক্রিয়ায় যার উপাদান জারকরস মধু থেকেও উৎকৃষ্ট। কারণ মধু জৈবিক, বৈষয়িক, কিন্তু সামাজিক সংস্কৃতি কৃষ্টির সংমিশ্রণ মনস্তাত্ত্বিক।প্রকৃতির অবারিত সবুজ বনাঞ্চলের তৃণ, বৃক্ষ, লতাপাতা, গাছপালার বৈচিত্র্যময় ফুলের মধু মৌমাছি মুখে পুরে হাজার হাজার পথ পাড়ি দিয়ে মৌচাকে যেমন মধু জমাট বেঁধে উৎকৃষ্ট উপাদেয় উপাদান সৃষ্টি করে ঠিক তেমনি সংস্কৃতি অসংখ্য জাতপাত ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, সভ্যতা,আঞ্চলিকতা, জাতীয়তা,আন্তর্জাতিকতা, মতবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস ঐতিহ্য সংমিশ্রণে এমন এক মনন কাঠামো মানব মননে গড়ে উঠে যার প্রভাব সূর্যের আলোর মতো সার্বজনীন। যার আলোয় সবাই আলোকিত হয়।কোন ভেদাভেদ থাকে না সেখানে। তাই মোতাহের হোসেন চৌধুরী একবাক্যে বলেছেন…

“ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার,আর কালচার শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।কালচার মানে উন্নত জীবন সম্বন্ধে চেতনা- সৌন্দর্য্য, আনন্দ ও প্রেম সমন্ধে অবহিতি।”

জাতপাত, ধর্ম, মতবাদ, রাষ্ট্র চিন্তা মানেই হচ্ছে জীবনের উপর একটি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ যা দৃশ্যমান জীবনকে জরাজীর্ণ করে দেয়।আর মার্জিত লোকেরা বা শিক্ষিত, চিন্তাশীল, বিচক্ষণ, সংস্কৃতিবান আলোকপ্রাপ্তরা সংস্কৃতির মাধ্যমে নিজেদেরকে শুধু নিয়ন্ত্রণ করে না, তাঁদের অন্যের দারস্থ হতে হয় না।বাহিরের আদেশ উপদেশ নয়,ভিতরের সূক্ষ্ম চেতনাই তাদের চালক।তাদের জাতপাত, ধর্ম, বর্ণ, মতবাদ দরকার হয় না। স্পষ্টবাদী হতে গেলে মতবাদী হওয়া যায় না,হতে হয় সংস্কৃতিবান।কারণ জীবন সম্পর্কে পরিচ্ছন্নতাই সংস্কৃতি। যখনই কোন সুনির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ, মতবাদ বা গোষ্ঠীর মতবাদ অনুযায়ী ব্যক্তি জীবনকে কলে ঢালা ছাঁচের অনুসারী করেন তখনই ঐ জাতপাত, ধর্ম, বর্ণ, মতবাদী চিন্তার দাসত্ব নিয়ে জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করার জঘণ্যতা সামনে চলে আসবে।
তাই লেখক বলেন,
“অতীতে ধর্ম ঈশ্বরকে আচ্ছন্ন করেছিল, বর্তমানে মতবাদ বা আদর্শ মনুষ্যত্বকে আচ্ছন্ন করতে পারে,লোকটা মোটের উপর ভালো কি মন্দ সে দিকে আমাদের নজর নেই, তার গায়ে কোন দলের মার্কা সে দিকেই আমাদের লক্ষ্য। মার্কাটি নিজের দলের হলে সাতখুন মাফ না হলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তার দোষ বের করা আমাদের স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে এই মনোবৃত্তি থেকে মুক্তি না পেলে কালচার্ড হওয়া যায় না।”

শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, মতবাদ তথা কালচারের উদ্দেশ্য নিজের ভিতরে একজন ঈশ্বর বা পরমসত্তাকে সৃষ্টি করা যার মারফতে সকল উন্নত গুণবৈশিষ্ট্য, স্পৃহা, অনুপ্রেরণা, বিবেক, চেতনা ও মূল্যবোধ ভিতরের প্রাণ থেকে প্রাণের মধ্যে স্পন্দিত হবে। সাড়া জাগাবে পথনির্দেশক হিসেবে। কী করতে হবে? তার উত্তর জানাবে।যে বা যারা তা করতে পেরেছে সে-ই কালচার্ড অভিধা অর্জন করতে পেরেছে, অপরে নয়।
লেখকের ভাষায়, “বাহিরের ধর্ম যারা গ্রহণ করে তাঁরা আল্লাকে জীবনপ্রেরণা রূপে পায় না, ঠোঁটের বুলি রূপে পায়…”
তাই শ’র উক্তি: Beware of the man whose God is in the skies-আল্লা যার আকাশে তার সমন্ধে সাবধান।কেন না, তার দ্বারা যে কোনো অন্যায় ও নিষ্ঠুর কাজ হতে পারে।আল্লাকে সে স্মরণ করে ইহলোকে মজাসে জীবন-যাপন করবার জন্য আর পরকালে দোজখের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে,অথবা স্বর্গে একটা প্রথম শ্রেণীর সিট রিজার্ভ করার আগ্রহে -অন্য কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে নয়।ইহকাল ও পরকালে সর্বত্র একটা ইতর লোভ।অপরদিকে কালচার্ড লোকেরা সবচেয়ে বেশী ঘৃণা করে অন্যায় আর নিষ্ঠুরতাকে;অন্যায় নিষ্ঠুরতাকে তো বটেই, ন্যায় নিষ্ঠুরতাকেও…কালচার একটা ব্যক্তিগত ধর্ম্ম।ব্যক্তির ভেতরের ‘আমি’কে সুন্দর করে তোলাই তার কাজ।”

সমাজের দিকে তাকালেই দেখবো যে কখনও কখনও কোন গোষ্ঠীর বা সংঘের মতবাদ বা চিন্তার উপাদান রাষ্ট্র চিন্তা ও সংস্কৃতির বিপরীতে অবস্থান করে। একটা মানুষ কতটুকু সংস্কৃতিবান, কতটুকু মুক্ত স্বাধীন, কতটুকু উন্নত চিন্তার? তা নির্ভর করে ঐ মানুষটি কতটুকু সংস্কৃতিবান তার উপর।সংস্কৃতিবান মানুষের আরেকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাঁর গ্রহণ বর্জন ক্ষমতা। যার গ্রহণ বর্জন ক্ষমতা নেই সে কখনো সংস্কৃতিবান হয়ে উঠতে পারে না।কেননা সংস্কৃতিবান মানুষ তার ভিতরটা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি,জাতপাত ধর্ম, বর্ণ,গোষ্ঠী মতবাদ,আঞ্চলিকতা আন্তর্জাতিকতা,গণতন্ত্র সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ থেকে শুরু করে সভ্যতার সকল আলোকচ্ছটার রসায়নে এমন একটা উন্নত চরিত্রের নিদর্শন নির্মাণ করে যাঁর কাছে যে কোনো ক্ষুদ্র চিন্তা, ক্ষুদ্র স্বার্থ,আড়ষ্ট খুপরিবদ্ধ সংকোচিত চিন্তার মানুষ, স্বল্প আত্মার মানুষ, একচোখা একরোখা মানুষ মাথা নত করবে অবনত মস্তিষ্কে।তাই সংস্কৃতিবান মানুষ এতো গুরুত্বপূর্ণ।

কালচার গড়ে উঠে একেবারেই ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ বলয় মাঝে যা বিকশিত হয় অসংখ্য বৈচিত্র্যময় রংয়ের সংমিশ্রণে।যেখানে ব্যক্তিস্বার্থ প্রকাশিত হয় না সেখানেই ব্যক্তি পরিপাটি হয়,মার্জিত হয়,উন্নত হয়,হয় মুক্ত ও স্বাধীন। মুক্ত ও স্বাধীন হয় এই অর্থে যে, সমস্ত রকম ভাল-মন্দ প্রশ্নে,সুবিধা-অসুবিধার প্রশ্নে,খ্যাতি, যশ,আরাম আয়েশের প্রশ্নে, কষ্টকর প্রবল সংগ্রামের প্রশ্নে, জীবনের ঘাত প্রতিঘাতের প্রশ্নে ব্যক্তি ইস্পাত দৃঢ় এমন একটা উন্নততর জীবনবোধ গড়ে তুলবে যা ব্যক্তির বিকাশের পথেই আত্ম প্রকাশ ঘটবে। তাই লেখক এই প্রসঙ্গে বলেন,”কালচার সমাজ-তান্ত্রিক নয়, ব্যক্তি-তান্ত্রিক। নিজেকে বাঁচাও,নিজেকে মহান করো,সুন্দর করো,বিচিত্র করো এ-ই কালচারের আদেশ। এবং এই আদেশের সফলতার দিকে নজর রেখেই তা সমাজ-তন্ত্রের সমর্থক। সমাজতন্ত্র তার লক্ষ্য নয়, উপলক্ষ্য।”

মানুষ কালচার্ড হওয়ার রাস্তাটা হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। কিন্ত লক্ষ্য হচ্ছে সাম্যবাদ।কেননা সাম্যবাদ মানেই সংস্কৃতির আভাস। কালচার্ড ব্যক্তিতান্ত্রিক বললে বুঝানো হয় না যে,কালচার্ড মানুষ সমাজের ধার ধারে না বরং কালচার্ড লোকেরা সমাজের খুবই ধারে অবস্থান করে তা নাহলে প্রাণ পাবে কোত্থেকে.? ব্যক্তি তো হচ্ছে নদী আর সমাজ হচ্ছে সমুদ্র, সমুদ্রের সংগে সংযোগ না হলে সে বাঁচবে কি উপায়ে!তাই ব্যক্তির উৎকর্ষ সাধন ও মানসিক বিকাশের উপর লেখক এতো নজর দিয়েছেন।
বলেছেন, “সমাজের আদেশ: দশের মধ্যে এক হও এগারো হয়ো না,এগারোদের সে সহ্য করে না- যদিও গৌরবের জন্য মাঝে মাঝে মাথায় করে নাচে। কালচারের আদেশ: দশের মধ্যে এগারো হও দশের মধ্যে থেকেই নিজেকে নিজের মতো করে, সর্ব্বাঙ্গ সুন্দর করে ফুটিয়ে তোল।তাতেই হবে তোমার দ্বারা সমাজের শ্রেষ্ঠ সেবা”।

সমাজ সাধারণভাবে মানুষকে সৃষ্টি করে, মানুষ আবার নিজেকে গড়ে তোলে শিক্ষায় দীক্ষায় ও সৌন্দর্য সাধনার সহায়তায়। এই যে নিজেকে গড়ে তোলা বিশেষ ভাবে গড়ে তোলা এরই নাম কালচার।তাই কালচার্ড মানুষের স্বতন্ত্র সত্ত্বা একদম আলাদা। নিজের চিন্তা চেতনায় নিজের কল্পনা বিকাশ না হলে কালচার্ড হওয়া যায় না।

তাই প্রকৃতি বিজ্ঞান ও সমাজ বিজ্ঞান বিশ্লেষণে আমরা দেখতে পাই কিছু সাধারণ নিয়মের উপস্থিতি। যেগুলো রয়েছে তার স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনেই।মানব সমাজে সেই নিয়মটি হচ্ছে, যে কোনো সত্য উদঘাটনে তার একটা সাধারণ নিয়ম পদ্ধতি থাকে।এই সাধারণ সত্য নিরূপণ তখনই সম্ভব হয় যখন তার পরিপূরক সাধারণ একটা নিয়ম প্রচলিত থাকে।এই সাধারণ সত্য সমাজ, পরিবেশ ও বস্তুজগতের বিকাশের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে বিশেষ সত্য রূপে ফিরে আসে। তখন ঐ বিশেষ সত্যটি সাধারণ প্রক্রিয়া পদ্ধতি দিয়ে নিরূপণ করা যায় না।প্রয়োজন বিশেষ প্রক্রিয়া পদ্ধতির। এই যে বিশেষ সত্য সত্তা যা কিছুটা উন্নত, বিগত থেকে সেই বিশেষ সত্য রূপটি বিশেষ গুণাগুণ হিসেবে সমাজে তথা রাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উপর বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে।তাঁরা তা-ই অনুকরণ করে যা তাদের মধ্যে অনুরণন সৃষ্টি করে। সাধারণ মানুষগুলো অসাধারণ হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়। ফলে দেখা যায় এমনতর প্রক্রিয়া পদ্ধতি চলতে থাকে মানবজীবনে। পাশাপাশি এই নিয়ম চলছে মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বালুকণা থেকে মহাবিশ্বের সৌরজগৎ, ছায়াপথ ও বস্তু জগতে।বস্তুগঠনের মধ্যেও আমরা এই নিয়ম দেখি স্পষ্ট। বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তু পরস্পর সম্পর্কহীন বিচ্ছিন্ন নিরপেক্ষ আকস্মিক পুঞ্জীভূত নয় বরং প্রতিটি বস্তু একে অন্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং পরস্পরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অখণ্ড সমগ্র।একটি অপরটির উপর নির্ভরশীল,পরস্পরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আবার সাধারণ বস্তুগঠন থেকে বিশেষ বস্তুগঠনের প্রক্রিয়াতেও বস্তুর পরিমাণ গত পরিবর্তন থেকে গুণগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় যা জৈব, অজৈব সকল পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।বস্তুর মধ্যে, মানুষের মধ্যে যে গুণগত পরিবর্তন হয় তা মাঝে মাঝে স্থায়ী মনে হলেও বিশেষ মুহূর্তে তা ইতিমধ্যে লয় প্রাপ্তি শুরু হয়ে যায়। ফলে মনুষ্য চিন্তা, মনুষ্য অনুভূতি প্রথমে স্থায়ী মনে হলেও ইতিমধ্যেই তা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে বিশেষ অনুভূতির দ্বারা।প্রতিটি চিন্তা অবস্থান করে বস্তুর অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব বিরোধ মিলনের মধ্যে দিয়ে। একটি ধনাত্মক, অন্যটি ঋণাত্মক। একটি অতীত, অন্যটি সম্ভাবনা। একটি সাধারণ, অন্যটি বিশেষ। সাধারণ আর বিশেষ, বিপরীতধর্মী দ্বন্দ্ব সংঘাত, ঐক্য সংগ্রাম ঐক্য এই নীতির মধ্য দিয়ে যেমন বস্তুজগৎ ও প্রকৃতি জগতের বিকাশ ঘটে তেমনি মনুষ্য জগতের চিন্তা চেতনার বিকাশ ঘটে চলছে অবিরাম অন্তহীন পথ খোঁজায়। সমাজ মননে মাঝে মাঝেই স্থবিরতা দেখা দেয় তখনই প্রয়োজন পড়ে সমাজের অন্তস্রোত, সমাজ গভীরে গভীরস্রোত। যে সমাজে যতবেশি অন্তস্রোত প্রবল সেই সমাজে সমস্ত রকম বাঁধা বিপত্তি প্রতিকূলতা প্রতিক্রিয়াশীলতা পশ্চাৎপদতা ভেঙ্গে যাবে। সৃষ্টি হবে নতুন গতিধারা। মানুষ গ্রহণ করবে নতুনের স্বাদ।আর একজন সংস্কৃতিবান মানুষ সমাজ গভীরের সেই অন্তিম স্রোতধারাকে শুধু গতিশীলই করে না মাঝে মাঝে দায়িত্ব নিয়ে বহন করে চলে সর্বময়।

যেকোনো চিন্তাধারা বা মতবাদ যদি সমাজ সভ্যতার ক্রমবিকাশের গতির সাথে অভ্যন্তরীন স্রোতধারার সাথে যুগোপযোগী এবং মানুষের নতুন নতুন সৃষ্টি অনুভূতি এবং চিন্তার উৎকর্ষতার সাথে এগিয়ে যেতে না পারে তখন ঐ আদর্শ মতবাদে দেখা দেয় বন্ধ্যাত্বতা।অসার অকার্যকর মতবাদ দুনিয়ায় যতই প্রভাব ফেলুক, নিদারুণ অকার্যকর নাজুক, কমজোর, নিয়ন্ত্রিত, ভীতিময়,কূপমণ্ডূক একটি ঠোটের বুলির নিছক আইডিয়াতে পরিণত হবেই।সবাই সেই আইডিয়ার গুণকীর্তন করবে হয়তো, মাঝে মাঝে স্বাদ নেওয়ার চেষ্টাও চলবে কিন্তু তাতে সত্যিকারের যে আনন্দের রেখাপাত এবং হৃদয়াঙ্গম তা কখনো হবে বলে মনে হয় না।

কিন্তু সংস্কৃতিবান মানুষের ক্ষেত্রে এরকম কোনো বালাই নেই। সত্যকে ভালোবাসা,সৌন্দর্যকে ভালোবাসা, ভালোবাসাকে ভালোবাসা,এরই তো নাম সংস্কৃতি। জীবনে গোলাপ ফোটানোর দিকে তার নজর নেই, বৃক্ষটিকে নিষ্ককন্টক রাখাই একটি অকার্যকর মতবাদের উদ্দেশ্য। অপর পক্ষে কালচারের উদ্দেশ্য হচ্ছে জীবনের বিকাশ পাপ পতন থেকে রক্ষা নয়,গোলাপের সঙ্গে যদি দু’একটি কাঁটাও এসে যায়, তো আসুক না, তাতে ক্ষতি নেই,দেখতে হবে ফুল ফুটলো কিনা। মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়ে ইন্দ্রিয়ের পঞ্চপ্রদীপ জ্বেলে জীবন সাধনারই অপর নাম কালচার।মনকে আত্মার সঙ্গে যোগ করে চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহবা ও ত্বকের নব জন্মদানই কালচারের কাজ।

সংস্কৃতিবান মানুষ ইন্দ্রিয় সাধনা করেন বলে নারীর মুখ, স্নেহ, প্রীতি, মায়া, মমতা নিয়েই সংস্কৃতিবান মানুষ এগিয়ে চলে।ফলে শিল্প সাহিত্যে নারীর মূল্য এতো বেশী। জীবনে সাহস শক্তির সাধনার প্রেরণা ঐ নারী থেকেই আসে তাই লেখক কবিতার ছন্দে বলেন,
“আমি হব না তাপস
হব না হব না
যদি না পাই তপস্বীনি”
জীবনে তপস্যা করতে চায় বলে নারী সঙ্গ কালচার্ড মানুষের এতো কাম্য।লেখক হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, ” যে জাতি নারীকে সম্পূর্ণ রূপে আলাদা করতে চায় সে জাতির জীবনে মৃত্যুর আরাধনা করে ইতিহাসের খাতায় মরাজাতির পৃষ্ঠায় নাম লিখায়।”যারা নারীকে আলাদা সত্ত্বা হিসেবে দেখায় তারা জীবনে আত্মনির্যাতন করে।আত্মনিয়ন্ত্রণ নেই বলে তাদের সংস্কৃতিও নেই।

সংস্কৃতিবান মানুষ নারীকে কখনো স্থূল বস্তুরূপে দেখতে পায় না।তারা কামকে প্রেমে উত্তীর্ণ করতে পারেন এবং জীবনের সূক্ষ্ম আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এবং সংযত করার দরুন নারী পুরুষের বাহ্যিক আকর্ষন বা অতিরিক্ত আকর্ষন এই দুই মনোবৃত্তি সংঘর্ষ বাধিয়ে জীবনে বিকৃতি ঘটায়।সমাজ বা রাষ্ট্রে যেকোনো বৈষম্যই বিকৃতি আনে। ঠিক তেমনি নারী পুরুষের স্বাভাবিক অবস্থানকে অস্বাভাবিক অস্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে গেলে তাতে বিকৃতি আসে।আসে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। সমাজ প্রীতিকে বড় করে না দেখে সমাজ নীতিকে বড় করে দেখলে যে অসুস্থ মনোবৃত্তি তৈরি হয় তাতে সমাজের যা ক্ষতি হয় তার ঘা শুকাতে অনেক সেবা শুশ্রূষার প্রয়োজন।
লেখকের ভাষায়, “অসুস্থ মনোবৃত্তির কারণে জীবনকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে আমরা ভয় করি,প্রেমকে ভয় করি,মহত্ত্বকে ভয় করি।” মৃত্যুর পর যার তহবিলে টাকা পয়সা পাওয়া যায় সেই ব্যক্তিই আমাদের কাছে স্বার্থক মানুষ রূপে দেখা দেয়। এটা আমাদের হীনতা আর দৈন্যতা ছাড়া কিছুই নয়।

পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও লেখক সতর্ক করেছেন। সাহিত্য, কবিতা, শিল্প নিয়ে যারা প্রতিভাসম্পন্ন মানুষ তাদের ব্যবসায়ী, কন্ট্রাকটর হলে চলে না।বিশেষ করে, মিলিটারি কন্ট্রাটর হওয়া মহা অপরাধ বলেই গণ্য।নিজের প্রতিভাকে মরতে দেওয়া আর নিজের আত্মার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা একই কথা।
লেখক বলেন,”তুমি নিজেকে মরতে দিতে পারো কিন্তু আত্মাকে মরতে দিতে পারো না। যে পেশা গ্রহণ করলে সূক্ষ্ম অনুভূতি ও সৌন্দর্যবোধ ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা তুমি সে-পেশা গ্রহণ করেছো শুনে আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি চাই তুমি না খেয়ে মর তথাপি তোমার সূক্ষ্মঅনুভূতি বাঁচিয়ে রাখ, কেননা সূক্ষ্মঅনুভূতিরই অপর নাম আত্মা… সামান্য প্রতিভা,কঠিন বন্ধন।কিন্তু সামান্য হলেও তা মূল্যবান।আর যা মূল্যবান তা যত্ন না নেওয়া মহাপাপ।বুঝলে? কথায় বলে ভালো লোকদের ভাত নেই, তোমার ভাত না থাক কিন্তু ভালোত্ব বজায় থাক, এই আমার কামনা।”
জীবন এবং জীবনবোধের সাথে পার্থক্য এনে দেয় সংস্কৃতি। মতবাদী আইডিয়ার গোঁড়ামী সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখক যে জায়গাটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন তা হলো নিজের বা নিজের দলের অভ্রান্ততা সম্বন্ধে একটুখানি সন্দেহ রাখা। কেননা সন্দেহটুকুই সৌন্দর্য সৃষ্টি করে।সংস্কৃতির লক্ষ্য এবং সংস্কৃতিবান মানুষের সাথে অন্যান্য মতবাদীদের সাথে পার্থক্য হচ্ছে সে মতবাদীর মতো বুলি আওড়ায় না। তার প্রতি কথায় আত্মা স্পন্দিত হয়ে উঠে।প্রেমের ব্যাপারে, সৌন্দর্যের ব্যাপারেও তার আত্মার ঝলকানি দেখতে পাওয়া যায়।

লেখক বলেন, “নকল যিশু নকল মার্কস বা নকল লেনিন হওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়, ক্ষুদ্র হলেও তারা খাঁটি কিছু হতে চায়।”
একসুরা, একঝোঁকা জীবন দীন জীবন। কেবল সংস্কৃতিবানরাই বিভিন্ন, এমনকি বিপরীত সুরের চমকে সিম্ফনি সৃষ্টি করতে না পারলে খুশী হয় না।তাদের জীবন বীণাটি একতারা নয়,বহুতারে সমন্বিত। তাই লেখক বলেন,” প্রবলভাবে বাঁচা যে বাঁচা নয়, মৃত্যু। প্রচুরভাবে, গভীরভাবে বাঁচাই বাঁচা- সংস্কৃতি কর্মীরা এ- সত্য উপলব্ধি করতে পারে।” সংস্কৃতি মানে কামের চেয়ে প্রেম বড়, ভোগের চেয়ে উপভোগ এই সংস্কার না জানলে সংস্কৃতিবান হওয়া যায় না।যে কথাটা দিয়ে শেষ করতে চাই – লেখকের গদ্যই পদ্য হয়ে উঠেছে বইটির সর্বশেষাংশে।সূক্ষ্ম জীবনের প্রতি টান সংস্কৃতির একান্ত প্রয়োজন।লেখক বলেছেন, “সুন্দর করে, কবিতার মতো করে বলতে গেলে, সংস্কৃতি মানে, সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎ ভাবে বাঁচা, প্রকৃতি- সংসার ও মানব সংসারের মধ্যে অসংখ্য অনুভূতির শিকড় চালিয়ে দিয়ে বিচিত্র রস টেনে নিয়ে বাঁচা;কাব্যপাঠের মারফতে, ফুলের ফোটায় নদীর ধাওয়ায়, চাঁদের চাওয়ায় বাঁচা, আকাশের নীলিমায়, তৃণগুল্মের শ্যামলীমায় বাঁচা,গল্প কাহিনীর মারফতে, নর-নারীর বিচিত্র সুখ-দুঃখে বাঁচা, ভ্রমণ কাহিনীর মারফতে, বিচিত্র-দেশ ও বিচিত্র জাতির অন্তরঙ্গ সঙ্গী হয়ে বাঁচা; ইতিহাসের মারফতে মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশে বাঁচা,জীবন কাহিনীর মারফতে দুঃখীজনের দুঃখ নিবারণের অঙ্গীকারে বাঁচা। বাঁচা, বাঁচা, বাঁচা। প্রচুরভাবে,গভীর ভাবে বাঁচা। বিশ্বের বুকে বুক মিলিয়ে বাঁচা।”

লেখক : কলামিস্ট


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 41
    Shares