শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬
শীর্ষ সংবাদ

শ্রীলঙ্কায় হোয়াইটওয়াশড বাংলাদেশ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক ::   হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচে এসে শোচনীয় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করলো তামিম ইকবালের দল। কলম্বোর আর প্রোমাদাসা স্টেডিয়ামে ১২২ রানে হেরে গেছে টাইগাররা।

স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেয়া ২৯৫ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ টপকাতে নেমে স্বাগতিক বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। যার ফলশ্রুতিতে ৩৬ ওভারে ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ব্যাটিং শেখালেন জেনুইন ব্যাটসম্যানদের। তার স্বল্পস্থায়ী ঝড়ের ওপর ভর করে বাংলাদেশের স্কোর দেড়শ’ পার হয়। শেষ পর্যন্ত থামে ১৭২ রানে। তাইজুল ইসলাম অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৩৯ রান করে। ৫টি বাউন্ডারি এবং ১টি ছক্কার মার মারেন তিনি।

তিন ম্যাচেই অসহায় আত্মসমর্পন করেছে বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় ম্যাচে এসেই নিজেদের সবচেয়ে পারফরম্যান্সটা দেখাল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার ২৯৪ রান তাড়া করতে নেমে টেনেটুনে করেছে ১৭২ রানশ্রীলঙ্কা ২৯৪ রান করার পরই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এ মাথে তিন শ ছোঁয়া স্কোর যে তাড়া করা সম্ভব নয়, সেটা জানা ছিল সবার। বাংলাদেশের ব্যাটিং ফর্ম তো ছিলই বাড়তি প্রভাবক হিসেবে। তাই বলে এমন অসহায় আত্মসমর্পনের কথাও নিশ্চয় চিন্তা করেননি।

এ সিরিজ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি যদি বলতে হয়, সেটা সৌম্য সরকারের বোলিং। প্রথম ম্যাচের পর আজও দলের সেরা বোলার এই ওপেনার। দলের মূল দুই পেসারকে রেখে ইনিংসের শেষ ওভারে তাঁকে আনাটাই সেটা বলছে। সৌম্য আজ শুধু বোলিং নয় মুগ্ধ করেছিলেন উপস্থিত বুদ্ধি দিয়েও। বোলিংয়ের সময় পা দাগ পেরিয়ে যাওয়ার পর আম্পায়ার নো বল ডেকেছিলেন। শুনেই বোলিং থামিয়ে দিয়ে ফ্রি হিট ও অতিরিক্ত রান দেওয়া থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।

ব্যাটিংয়েও আউট হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বুদ্ধির পরিচয় দিচ্ছিলেন। দলের সব ব্যাটসম্যান যখন আউট হয়ার আত্মহত্যার মিছিলে নেমেছেন, সেখানে একমাত্র সৌম্যই সম্মান রক্ষার্থে লড়েছেন। তবে যেভাবে আউট হয়েছেন তাতে দুঃখ পেতে বাধ্য। আকিলা ধনঞ্জয়া অফ স্পিন করবেন ভেবে ড্রাইভ করেছিলেন। কিন্তু লেগ স্পিন বলটি ফাঁকি দিয়ে ভেঙ্গে দিল স্ট্যাম্প।

এতে অবশ্য ম্যাচের গতি প্রকৃতিতে কিছু যায় আসেনি। ৭ উইকেটে ১৪৩ রানের স্কোরটা শুধু ১৪৩/৮ হয়েছে। এর আগেই যে তামিম-মুশফিক-মাহমুদউলাহরা নিশ্চিত করেছেন তৃতীয় ম্যাচ জিতে স্বান্তনা বা গৌরব-কোনোটাই পাওয়ার উপায় থাকছে না।

আগের ছয় ইনিংসে বোল্ড হওয়া তামিম ইকবাল জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজিথাকে হাঁকাতে গিয়ে কুশল পেরেরাকে ক্যাচ অনুশীলন করিয়ে এলেন। এনামুল-তামিমের ওপেনিং জুটি টিকল মাত্র ৯ বল। বহুদিন পরে দলে ফেরা এনামুল দায়িত্ব সেরে নিয়েছেন ১৪ করেই।ইনিংসের প্রথম ও দ্বিতীয় চারের দেখা মিলেছে অস্টম ওভারে। টানা দুই চারে পরের বলেই আরেকটি চারের নেশায় বিদায় এনামুলের।

ফর্মে আছেন, আগের ম্যাচে দলের ব্যাটিং নিয়ে অনেক কথাও বলেছেন মুশফিক। সে মুশফিক ফিরলেন দলকে ৪৬ রানে রেখে। শানাকার অত বাইরের বল তাড়া না করলেও যে চলত, সেটা নিশ্চয় মুশফিক সবার চেয়ে ভালো বুঝেন। প্রথম দুই ম্যাচে ২২ রান করা মিঠুন আজ ৪ রানে আউট হয়েছেন শানাকাকে হুক করতে গিয়ে। বাজে শট খেলতে গয়ে, সেটা বলাটা বাহুল্য হয়ে যায়। বাংলাদেশের ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার মধ্যেও শ্রীলঙ্কার মূল পেসার লাহিরু কুমারাকে বল হাতে নিতে হয়নি!

আগের দুই ম্যাচে ৯ রান করা মাহমুদউল্লাহ আজ ৯ রান করেই দায়িত্ব সেরেছেন। কুশল পেরেরা দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছেন, কিন্তু মাহমুদউল্লাহর শটও আহামরী ছিল না। শুধু সাব্বির রহমানই একটু ভদ্রস্ত আউট হয়েছেন। এক্সট্রা কভারে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা অসাধারণ এক ক্যাচ নিয়েছেন।

ইনিংসের আগে-পরে শুধু সৌম্যের লড়াইয়ের গল্প। কিন্তু ২৯৫ রানের লক্ষ্যে নেমে শুধু একজনের ৬৯ রান বড় অল্প হয়ে যায়, যখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে) ১৪। শেষ দিকে তাইজুলের অপরাজিত ৩৯ রান হারের ব্যবধান ৩০ কমিয়ে এনেছে—এই যা!


এখানে শেয়ার বোতাম