শনিবার, এপ্রিল ১৭
শীর্ষ সংবাদ

শ্রমিক ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনায় মিছিল ও পথসভা

এখানে শেয়ার বোতাম

খুলনা প্রতিনিধি :: সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রণ্ট-এর ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের ক্রিসেন্ট গেটে সংগঠনের কার্যালয় থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিআইডিসি রোড প্রদক্ষিণ করে প্লাটিনাম জুট মিলস, ক্রিসেন্ট জুট মিলস ও খালিশপুর জুট মিলের সামনে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভাসমূহে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের খুলনা জেলা সভাপতি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম।

বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সদস্য নূর মোহাম্মদ, শাহ আলম, কামাল মাস্টার, আব্দুর রহমান, ইমাম হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, নজরুল ইসলাম, অজয় মজুমদার, নিতাই বর্মণ, গোবিন্দ মণ্ডল, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা আহ্বায়ক কোহিনুর আক্তার কণা, খুলনা মহানগর ব্যাটারি রিকসা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বাবু, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের বদলী শ্রমিক কমিটির
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন, সহ-সভাপতি মিণ্টু গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি সনজিত মন্ডল, খুলনা মহানগর সদস্য কৌশিক মজুমদার প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে আজ শ্রমজীবী মানুষ চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছে। পরিবারের ন্যূনতম দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটাতেও তারা পারছে না। একটি বৈষম্যহীন স্বাধীন দেশের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে ৩০ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ, ছাত্র-যুবকরা জীবন দিয়েছিল। অথচ সরকার সেই চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করছে। তাই আজ এই পূঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের পতাকাতলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলোকে বেসরকারিকরণের চক্রান্ত করছে। তাই পরিকল্পিভাবে মিলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। বদলী শ্রমিকদের কাজে নেয়া হচ্ছে না। পাট কেনা হচ্ছে না।

নেতৃবৃন্দ এই চক্রান্তের বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, এসব ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। বদলী শ্রমিকদের স্থায়ী করতে হবে এবং দৈনিক ভিত্তিক কার্ড দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণার চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। সপ্তাহের বিল সপ্তাহে দিতে হবে। পিএফ-গ্রাচ্যুইটিসহ সকল বকেয়া এবং এরিয়ার টাকা দ্রুত দিতে হবে। মিলের যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন, মৌসুমে পাট কেনা, বিজেএমসি’র কর্মকর্তার অপ্রয়োজনীয় পদ বিলুপ্ত এবং দুর্নীতি বন্ধ করে
মিলকে লাভজনক করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন অন্যায়ভাবে ব্যাটারি চালিত রিকসা বন্ধ করে দিয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে গরীব মানুষ বাধ্য হয়ে রিকসা চালাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে একটু আয় বাড়াতে শ্রমিকরা ঋণ করে রিকসায় ব্যাটারি লাগিয়েছিল। কিন্তু সিটি মেয়র নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ব্যাটারি চালিত রিকসা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে শ্রমিকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

নেতৃবৃন্দ দাবী জানান অবিলম্বে ব্যাটারি চালিত রিকসার অনুমতি দিতে হবে। রিকসার জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক ডিজাইন প্রণয়ন এবং নীতিমালা করে লাইসেন্স দিতে হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম