বুধবার, জানুয়ারি ২৭

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা মালিকদের চরম দায়িত্বহীনতার প্রকাশ : বাম জোট

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হকের জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা গার্মেন্টস মালিকদের চরম দায়িত্বহীনতার প্রকাশ বলে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংগতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কমরড হামিদুল হক আজ ০৭ জুন সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে করোনা দুর্যোগের মধ্যে বি.জি.এম.ই.এ সভাপতির জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করে করোনা সংক্রমণের সময়ে শ্রমিকের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মালিকদের বাধ্য করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা মহামারী পরিস্থিতিতেও শ্রমিকদের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্বপূর্ণ আচরণ না করে বরং জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করার কথা বলে বাজেটে সরকারের কাছ থেকে আরো বেশি সুবিধা আদায়ের জন্য পায়ঁতারা করছে।এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৩ মাসের মজুরি পরিশোধের জন্য সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রণোদনা দিয়েছে। প্রণোদনার টাকা নিয়েও অনেক কারখানায় এখনও এপ্রিল মাসের মজুরিই পরিশোধ করেনি। মে মাসের মজুরি বাকি থাকতেই শ্রমিক ছাঁটায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হল। অর্থাৎ গার্মেন্টস মালিকরা বছরের পর বছর এই শ্রমিকদের কম মজুরিতে কাজ করিয়ে, কর্মসংস্থানের অজুহাতে রাষ্ট্রের কাছ থেকে উৎসে কর, কর্পোরেট ট্যাক্স মওকুফ ও প্রণোদনা সুবিধা নিয়ে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেও দুর্যোগ মূহুর্তে শ্রমিকদের ন্যূনতম দায়িত্ব নেওয়ার মতো মানবিকতাও দেখায় নি।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বি.জি.এম.ই.এ. একবার বলছে ক্রেতারা তাদের ক্রয় আদেশ বাতিল করেছে, আরেকবার বলছে পুনরায় আদেশ দিচ্ছে বায়াররা, আবার এখন বলছে কাজ নাই তাই শ্রমিক ছাঁটাই হবে। এটা নাকি বাস্তবতা! তাদের কোন বক্তব্য সঠিক? তাদের কথা দেশবাসী বুঝতে না পারলেও মুনাফার স্বার্থে যে ডাহা মিথ্যা কথা বলতে দ্বিধা করেনা তা আবারও প্রমাণ হলো। কাজ নাই, কাজ আসছে এরই মতো শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কথা বলে, দেশের সকল সচেতন মানুষের প্রতিবাদ এবং তাদের ক্রেতাদের কাছে ভাবমূর্তি ক্ষুণ হয়েছে এ ভয়ে এখন বলছে তারা ছাঁটাইয়ের কথা বলেনি। নেতৃবৃন্দ বিজিএমইএ সভাপতির বক্তব্য ধূর্ত মালিকদের শ্রমিক ছাঁটাইয়ে আরো উৎসাহিত যেমন করবে অন্যদিকে এর মধ্য দিয়ে করোনা দূর্যোগে সরকার থেকে পাওয়া বিশেষ প্রণোদনার টাকা লোপাট করার সুযোগ করে দিবে।

নেতৃবৃন্দ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের এই ধরণের দায়িত্বহীন ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানান এবং শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে শ্রমিকের জীবন বাঁচাতে শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন, হয়রানি বন্ধ এবং করোনা সংক্রমিত শ্রমিকের বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন, মৃত শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপুরণ প্রদানের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ, করোনা দূর্যোগে শ্রমিকদের খাদ্য-চিকিৎসা নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর আবাসন, রেশন নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আহবান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম