মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

শ্রমিক অসন্তোষের অভিযোগে ধলই চা-বাগান বন্ধ, বিপাকে সহস্রাধিক শ্রমিক

এখানে শেয়ার বোতাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের ধলই চা-বাগানে শ্রমিকদের দিয়ে গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে সারাদিন ৩ গুন চা পাতা উত্তোলণ করানো হয়। সন্ধ্যায় রহস্যজনকভাবে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ কারখানার অফিসের নোটিশ বোর্ডে একটি নোটিশ টাঙিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধলই চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা করে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় ধলই চা-বাগানের কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন সহস্রাধিক চা শ্রমিক।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে ধলই চা-বাগানে গেলে বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ নায়েক, সাধারণ সম্পাদক সেতু রায়, ইউপি সদস্য শিব নারায়ণ, সাবেক ইউপি সদস্য তুলশী মাদ্রাজী, চা শ্রমিক সন্তান শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ইরাজ মিয়া ও নারী শ্রমিক খোদেজা বেগম বলেন, সোমবার সকাল থেকে ব্যবস্থাপক ও বাগান কর্মচারীরা তাদেরকে দিয়ে ৩ গুন চা পাতা উত্তোলণ করান। কারখানার বাবু গোলাম হোসেন তাদেরকে বলেছিলেন, মঙ্গলবার বিদ্যুৎ থাকবে না তাই যেন তারা অতিরিক্ত কাজ করেন। সে হিসেবে তারা একদিনে ৩ গুন কাজ করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ধলই চা-বাগান কোম্পানির উপ-মহা ব্যবস্থাপক এম এম ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ টাঙিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তার অভাবে ধলই চা-বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শ্রমিকরা জানান, বাস্তবে ধলই চা-বাগানে কোনো প্রকার শ্রমিক অসন্তোষ নেই।

নারী চা শ্রমিক খোদেজা বেগম জানান, ৩ দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। এ সময়ে তাদের সাপ্তাহিক মজুরি পাওয়ার কথা। তার আগেই কোনো বাস্তব কারণ ছাড়াই ধলই চা-বাগান কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যার অন্ধকারে একটি নোটিশ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা সম্পূর্ণরূপে অমানবিক কাজ। আজ মঙ্গলবার সকালে ধলই চা-বাগানে পুলিশ মোতায়েন করলেও পুলিশের উপস্থিতিতে সহস্রাধিক চা শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী বলেন, ‘ধলই চা-বাগানের দুর্নীতিবাজ ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে গত ২৯ জুন এ চা-বাগানে শান্তিপূর্ণভাবে চা শ্রমিকরা একদিনের কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। এরপর দুইদিন বিষয়টি নিয়ে চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটি, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যান ও চা-বাগানের মালিকপক্ষের যৌথ উদ্যোগে সমঝোতা বৈঠক চলে। ওই বৈঠকে বলে জানানো হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত ধলই চা-বাগান কোম্পানির প্রধান কার্যালয় দেবে। তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে প্রদান কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক হিসেবে জাকারিয়া হাবিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চা শ্রমিকরা ধলই চা-বাগান কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থেকে শান্তিপূর্ণভাবে চা-বাগানে কাজ করছিলেন। কিন্তু সোমবার কোম্পানির এক হটকারি সিদ্ধান্তে মিথ্যে তথ্য উল্লেখ করে নোটিশ দিয়ে ধলই চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা করা হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে অজুহাতে চা-বাগান বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তা শ্রম আইনের পরিপন্থী। আর এখন ঈদের আগে অমানবিকভাবে চা-বাগান বন্ধ করা হলো। চা শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’ তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের দৃষ্টি কামনা করে অবিলম্বে ধলই চা-বাগান খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধলই চা-বাগান কোম্পানির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে ধলই চা-বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করে মুঠোফোনে বলেন, ‘কী কারণে চা-বাগান বন্ধ করা হয়েছে তা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এরচেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।’

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ধলই চা-বাগানে যাতে পরিস্থিতি ভালো থাকে, সেজন্য সেখানে মঙ্গলবার সকাল থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক জানান, চা-বাগানে কোনো সমস্যা ও শ্রমিক অসন্তোষ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে অবহিত করলে ভালো হতো। ধলই চা-বাগান কর্তৃপক্ষ কখনও কোনো বিষয়ে তাকে অবহিত করেনি। একটি নোটিশের কপি পেয়ে তিনি জানতে পারেন শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ধলই চা-বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নোটিশে উল্লেখিত কারণের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। ধলই চা-বাগানে এখন শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।


এখানে শেয়ার বোতাম