মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

শ্রমজীবীদের খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ বরাদ্দের দাবি শ্রমিক ফ্রন্টের স্মারকলিপি

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:: শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ন্যায্য মুল্যের খাদ্য কার্ড এবং রেশন ব্যবস্থা চালু, করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষিতে কর্মহীন হয়ে বিপর্যস্থ শ্রমিক পরিবার প্রতি মাসে কমপক্ষে ৮ হাজার টাকা হারে নগদ সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে এবং পাট শিল্পের আধুনিকায়নে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জন্য ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি।

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সকাল ১১ টায় অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশের পূর্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীকী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

স্মারকলিপিতে হেলথ কার্ড ও বীমা চালু করে শ্রমজীবীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, শ্রমিকের সন্তানদের করোনা কালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন ফি মওকুফ, করোনা প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের বাসা ভাড়া ও গণপরিবহন ভাড়া সহায়তা স্কিম চালু, শ্রম ঘন এলাকায় হাসপাতাল ও করোনা টেস্ট এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিনটিনের ব্যবস্থা, করোনা সংক্রমিত হয়ে কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা, প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান করতে কর্মসৃজন কর্মসূচী করার দাবি জানানো হয়।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, কেন্দ্রীয় সদস্য মো: শাহাজালাল, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর মনির হোসেন মলি, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটে বরাবরই শ্রমজীবী মানুষের অধিকার উপেক্ষিত হয়েছে। ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান ও শ্রম অধিকার দেখ-ভাল করার দায়িত্ব প্রাপ্ত দুটি মন্ত্রণালয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০১৯-২০অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৯০৮ কোটি টাকা যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ। করোনা দুর্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে, একদিকে শ্রমজীবী মানুষ কত অসহায়! কত নিরাপত্তাহীন! অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরানোর জন্য তাদের অবদান কত গুরুত্বপূর্ণ! প্রবাসী শ্রমিক আর গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের রক্ত-ঘামের বিনিময়ে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে সেটাই ছিল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। অথচ সেই শ্রমজীবী মানুষকে করোনা দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্র পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারেনি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্র এখনও অসুস্থ শ্রমিকের সম্পুর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে কারখানায় ডেকে এনে তারপর তাদের দায়িত্ব নিচ্ছেনা যারা সেই অর্থ পাচারকারিদের রক্ষা করার নীতিতেই পরিচালিত হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, শ্রমজীবী মানুষই যে অর্থনীতির চালক, এই সত্যটি রাষ্ট্র উপলব্ধি করবে এবং আগামী বাজেটে ব্যাক্তি পর্যায়ে প্রতক্ষ্য করের হার বৃদ্ধি করে ধনি-দরিদ্রের বৈষম্য কমানো এবং উপরোক্ত ৯ দফা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


এখানে শেয়ার বোতাম