শুক্রবার, মে ১৪
শীর্ষ সংবাদ

শেষ হলো সৈকত সাংস্কৃতিক উৎসব

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক ::বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল সাংস্কৃতিক উৎসব। সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘সৈকত সাংস্কৃতিক উৎসবে’র শেষ দিন ছিল গতকাল।

শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও জমে উঠেছিল আসর । নৃত্য-গীতসহ বহুমাত্রিক পরিবেশনায় আলোড়িত হলো সমুদ্রের পাড়। জানা গেছে, শনিবার বিকেল থেকেই উৎসব ঘিরে ভিড় জমে সংস্কৃতিপ্রেমীদের। শেষ দিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল শেখ কামাল ও ফিরোজ সাঁইয়ের বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ডদল স্পন্দনের পরিবেশনা। এ ছাড়া ও এদিন শোনা চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারি গান থেকে বাউল গান। পরিবেশিত হয়েছে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার পরিবেশনা। শারীরিক নৈপুণ্যের রিং ড্যান্স কিংবা হাই সাইকেল নামের অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী কেড়েছে নজর।

সমাপনী দিনের আয়োজনের সূচনা হয় অ্যাক্রোবেটিক শিল্পীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক শিল্পীরা উপস্থাপন করেন পাইপ ব্যালেন্স, দিয়াবো ব্যালেন্স, রোপ রাউন্ড, রোলার ব্যালেন্স, মার্শাল আর্ট, হাই সাইকেল ও রিং ড্যান্স। পুষ্পনৃত্য পরিবেশন করেন বান্দরবানের পাংখুয়া সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। এ ছাড়া সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে কক্সবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

‘দুঃখিনী বাংলা, জননী বাংলা’, ‘মঙ্গল হোক এই শতকে’ ও ‘বুকের ভেতর আকাশ’ গানের সুরে নাচেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। ‘খায়রুন লো তোর লম্বা মাথার কেশ/ চিরল দাঁতের হাসি দিয়া পাগল করলি দেশ’ গানের সুরে পরিবেশিত হয় যুগল নাচ। আলাউদ্দীন তাহের শুনিয়েছেন ‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’। এ ছাড়া একক গান শোনান একাডেমির সংগীতশিল্পী সুচিত্রা, সেতু ও রূপসা। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারি গান। পরিবেশিত হয় জুমচাষসহ নানা বিষয়কে ফুটিয়ে তোলা বান্দরবানের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার পাঁচটি নৃত্য। খেয়াং সম্প্রদায়ের মাছ ধরা নৃত্যের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে নয়নজুড়ানো তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের যুগল নৃত্য, লুসাই সম্প্রদায়ের জীবনধারা নৃত্য, চাক সম্প্রদায়ের জুমনৃত্য ও পাংখুয়া সম্প্রদায়ের পুষ্পনৃত্য।

ব্যান্ডদল স্পন্দনের পরিবেশনা শুরু হয় ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গান দিয়ে। শ্রোতাকে উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে এরপর দলটি গেয়ে শোনায় ফিরোজ সাঁইয়ের বিখ্যাত গান ‘ইস্কুল খুইলাছে রে মওলা ইস্কুল খুইলাছে’, ‘মন তুই চিনলি না রে’, ‘হিসাবি মহাজন’সহ বেশ কিছু গান। স্পন্দনের ভোকালে ছিলেন নাজিম ও আনন। কঙ্গো বাজিয়েছেন দলনেতা কাজী হাবলু। কণ্ঠশিল্পী নাজিম এবং গিটারিস্ট নিয়াজ ফিরোজ সাঁইয়ের ছেলে ।

এর আগে গেল শুক্রবার শুরু হয়েছিল উৎসব। প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। উদ্বোধনী বক্তব্যে লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতির প্রবাহকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই। তৃণমূলে পৌঁছে দিতে চাই সংস্কৃতির আলো। সারা দেশের লাখ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন, যাঁরা রাজধানীর বাসিন্দা নন। তাঁদের কাছে দেশের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশনা তুলে ধরা এ আয়োজনের লক্ষ্য। এমনিভাবে দেশজুড়েই এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক শিল্পীদের পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয়েছিল দুই দিনের উৎসব। তাঁরা প্রদর্শন করেন শরীরী কসরত দেখানো মার্শাল আর্ট ও রিং খেলা। ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহকে প্রতীকী করে বিশেষ নৃত্য দেখান পার্বত্য অঞ্চলের শিল্পীরা। স্বাগত নৃত্য পরিবেশন করেন বান্দরবানের বম সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। মানসী বড়ুয়া শুনিয়েছেন, ‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে’। মীনা মল্লিকের কণ্ঠে গীত হয় ‘ওরে বাঁকখালীর মাঝি রে’। শিশুশিল্পী মেহরিন রহমান শোনান ‘প্রেম রসিকা হব কেমনে’।

ময়ূর নৃত্য পরিবেশন করেন বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। নববর্ষের নাচ দেখান ম্রো সম্প্রদায়ের নৃত্যশিল্পীরা। বিজু নৃত্য পরিবেশন করেন চাকমা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। একক কণ্ঠে গান শোনান পপি বড়ুয়া, রূপসা, মো. জাহিদ, রাফি প্রমুখ। এ ছাড়া রাখাইন সম্প্রদায়ের শিল্পীরাও নৃত্য পরিবেশন করেন। ছাতা নিয়ে বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করেন মারমা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। বোতল নাচ দেখান ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য দল ও বাউল দলের লোকগানের পরিবেশনা। পরদিন অর্থাৎ গতকাল শনিবার বেলা ৪টায় শুরু হয়েছিল সমাপনী দিনের উৎসব। চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।


এখানে শেয়ার বোতাম