রবিবার, নভেম্বর ২৯

শিক্ষা দিবস উপলক্ষে নিতাইগঞ্জ অদম্য পাঠশালায় আলোচনা সভা

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 22
    Shares

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: করোনায় থামবে না পড়া স্লোগানে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য নিতাইগঞ্জে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট পরিচালিত অদম্য পাঠশালায় মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আজ বিকাল ৪ টায় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।

অদম্য পাঠশালার শিক্ষক নাসিমা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এর সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, এবিসি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নিগার সুলতানা পলি, মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমান বাঙালি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার, এলাকাবাসি কাশীনাথ দাস, পাঠশালার শিক্ষার্থী পূণিমা, নুপুর, শিমলা ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষার সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছিল ১৯৬২ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ আরও অনেকে। সেই থেকে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ এই দিনটাকে শিক্ষা দিবস হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে। সবার জন্য শিক্ষার দাবিতে ঔপনিবেশিক দেশে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি এস এম শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ১৯৬২ সালে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ৫৮ বছর পরেও এসে স্বাধীনদেশের শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষাসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি। স্বাধীনদেশেও যত শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে সকল শিক্ষানীতির মূল কথা ছিলোা ‘ টাকা যার শিক্ষা তার’।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাবিশ^ আজকে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের শিকার। সারা দুনিয়াই লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে করোনা মহামারী আরও বিপর্যয় তৈরি করেছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার দৈন্য দশা মানুষের সামনে আজকে স্পষ্ট। সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা নিচ্ছে। অনলাইনে ক্লাস করার সামর্থ দেশের শহর কেন্দ্রীক অল্প কিছু শিক্ষার্থীর আছে। দেশের বৃহত্তর অংশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে এই শিক্ষা চালানোর সামর্থ নেই। শিক্ষার্থীদেরও ডিভাইস ও ডাটা কেনার সামর্থ নেই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাকালে সাধারণ মানুষের সন্তানদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। সাধারণ মানুষের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই শিক্ষার্থীদেও বর্তমান বছরের বেতন-ফি মওকুফ, সরকারের তরফ থেকে নগদ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং অনাবাসিক ছাত্রদের বাসাভাড়া মেসভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা না করলে বহু ছাত্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে।

নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের চলতি বছরের বেতন-ফি মওকুফ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মেসভাড়া-বাসাভাড়া মওকুফ ও নগদ সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে জোরদাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ একইসাথে দাবি করেন করোনার এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষকদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিশেষ অর্থ সহযোগিতার ব্যবস্থা করার।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 22
    Shares