বুধবার, এপ্রিল ১৪
শীর্ষ সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর কাছে খুবির শিক্ষার্থীদের চিঠি

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 179
    Shares

খুবি প্রতিনিধি:: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরারর গত ২ মার্চ ২০২১ তারিখে একটি পত্র প্রেরণ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এই দীর্ঘ পত্রে শিক্ষামন্ত্রীর অবগতির জন্য পুরো বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করে। এই পত্রে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ছিল এমন:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌল-মানবিক ০৫ (পাঁচটি) দাবির সাথে সহমত পোষণ করায় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন (০৩) শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২৩.০১.২০২১ খ্রি. তারিখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফায়েকুজ্জামানের মেয়াদের শেষ সিন্ডিকেট তথা ২১২তম সিন্ডিকেটের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই তিন শিক্ষক হলেন বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. আবুল ফজল (বরখাস্ত), বাংলা বিভাগের প্রভাষক শাকিলা আলম (অপসারণ) এবং ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরি (অপসারণ)। আমরা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছি। কারণ: আমরা পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি, যে প্রক্রিয়ায় সম্মানিত এই তিন (০৩) শিক্ষকের শাস্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে তা ছিলো বেআইনী এবং অমানবিক। যে সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সে সভায় দুইজন সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্য এই আদেশের বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁরা পত্র পত্রিকা উল্লেখ করেছেন যে, উপাচার্যের ব্যক্তিগত আগ্রহতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়েছে। আপনি অবগত আছেন যে, চূড়ান্ত শাস্তির পূর্বে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য অন্তত সাত কর্মদিবস (০৭) সময় দিতে হয়, কিন্তু তাঁদেরকে মাত্র দেড় কর্ম দিবস সময় দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য তখন সাবেক উপাচার্যর হাতে সময় ছিলো সাতদিন (০৭), তাই, আমরা ধারণা করি তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভ চরিতার্থ করার জন্য এই তড়িঘড়ি করেছিলেন। এ কারণে সম্মানিত এই তিনজন (০৩) শিক্ষককে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, যা অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এছাড়াও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে আসে যে, সেই সিন্ডিকেটে দুইজন (০২) সদস্য ছিলো যারা ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছিলেন। সাবেক উপাচার্য তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত ডিনকে সিন্ডিকেটের সদস্য করেন, যাতে সভার সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তিনি এগিয়ে থাকেন। এছাড়াও তিন (০৩) শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করার জন্য যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো, সেই তদন্ত কমিটির দুইজন সদস্যও সিন্ডিকেটের সদস্য। সুতরাং এহেন অবস্থার সাপেক্ষে উক্ত সিন্ডিকেট সভার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে এবং আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন বিশ্ববাদ্যালয়ের এই বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, তাই এই চরম ক্রান্তির সময়ে, আমরা বিদিত চিত্তে আপনাকে স্মরণ করছি।

প্রসঙ্গক্রমে শিক্ষার্থীরা তাদের মৌল মানবিক পাঁচ দফা দাবির সংক্ষিপ্ত বিবরণী এই পত্রে উল্লেখ করে। তারা জানায় : গত ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে বিশ্বিববিদ্যালয়ের সমস্ত ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরসহ একটি স্মারকলিপি আমরা ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের মাধ্যমে মাননীয় উপাচার্যের নিকট প্রেরণ করি। আমাদের দফাগুলো ছিলো
ক. আবাসন সংকট নিরসন।খ. অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া বেতন হ্রাসকরণ।গ. চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতি সাধন।ঘ. শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। ঙ. শিক্ষার্থীবিষয়ক সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের অর্ন্তভূক্তিকরণ ও অবহিতকরণ।
এছাড়াও আমরা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবিষয়ক অধ্যাদেশের অপূর্ণতা ও ত্রুটিসমূহ লিখিতভাবে পর্যালোচনা করে দেখাই। আমাদের খুলনা বিশ্ববদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবিষয়ক অধ্যাদেশে শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া চাওয়ার এবং পাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। এছাড়া এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুষ্ঠু সংস্কৃতির বিকাশের পথ রুদ্ধ হওয়ায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে ওঠা জাতির জন্য এই বিধি বিধানকে আমাদের চেতনা বিকাশের পথে অন্তরায় মনে করে এই বিষয়ে আমরা মাননীয় উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করি এবং বাংলাদেশের নাগরিক ও শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের কাছে আমরা আমাদের দাবিসমূহ লিখিতভাবে জানাই। উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কয়েকবার দেখা করতে চাইলেও তিনি দেখা করেননি। কর্তৃপক্ষের এই আচরণ ভীষণভাবে আমাদের মনে আঘাত করে। ফলে, আস্থা হারিয়ে আমরা শিক্ষার্থীরা ২০২০ সালের জানুয়ারির ০১ তারিখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। আমাদের চাওয়া ছিলো মাননীয় উপাচার্য মহোদয় একটিবার আমাদের সাথে দেখা করবেন। তিনি আমাদের সমস্যাসমূহ নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু পৌষের শীতে টানা ৩৬ ঘণ্টা আমরা অপেক্ষা করেও মাননীয় উপাচার্যের দেখা পাইনি। এর মধ্যে ০১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ১৩ (তেরো) জন শিক্ষক (যার মধ্যে বহিষ্কৃত এই সম্মানিত তিন শিক্ষকও ছিলেন) সশরীরে এসে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।
শিক্ষকদের সংহতি প্রকাশের বিষয়টি আমাদের কাম্য ছিলো। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরাই আমাদের অভিভাবক। পরবর্তীতে আমাদের অনড় অবস্থানের কারণে ০২ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ডিনবৃন্দের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে আমাদের দাবিসমূহের যৌক্তিকতাকে স্বীকারপূর্বক আশ্বস্ত করেন যে, অতিসত্ত্বর এই বিষয়ে তাঁরা পর্যালোচনা করবেন এবং এই বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফলই আসবে। মাননীয় ডিনবৃন্দের আশ্বাসে আমরা অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্ত করি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে আপনাকে জানাচ্ছি যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে এই বিষয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের এখনো জানানো হয়নি। এরপর সারাবিশ্বে করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে আমরা ছাত্ররা আকষ্মিকভাবে পত্র-পত্রিকা মারফত জানতে পারি ডিনস্ কমিটির রিপোর্ট অনুসারে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে সরাসরি সহমত পোষণ করার জন্য ‘কারণ দর্শানো’ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষককে। আমরা বিস্মিত হই এটা ভেবে, সারাবিশ্ব যখন স্থবির তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এহেন কর্মকাণ্ডের অর্থ কি? পরবর্তীতে ডিনস্ কমিটির রিপোর্টটি থেকে আমরা জানতে পারি দ্বিতীয় পরীক্ষকের ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীবিষয়ক অধ্যাদেশ সংষ্কারসহ আমাদের দাবিদাওয়াসমূহের বেশিরভাগই মেনে নিতে অসম্মত হয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রতিটি দাবিই ছিলো শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আর শিক্ষার্থীদের আচরণ শৃঙ্খলা বিষয়ক ১৭ (খ) অনুচ্ছেদটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী ও মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধী। এ কারণে উক্ত অধ্যাদেশ ও ডিনস কমিটির রিপোর্টের বিরুদ্ধে আমরা মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছি। রিট নম্বর ৯২২৮/২০২০। আমরা শিক্ষার্থীদের আচরণ শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ১৭ (খ) ও শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে উদ্ভূত ও সাংবিধানিক অধিকারের আন্দোলনকে নাশকতা হিসেবে চিহ্নিত করা ডিনস্ কমিটির রিপোর্টটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছি। মহামান্য হাইকোর্ট আমাদের আবেদনকে অত্যন্ত গুরত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন। তবুও সেই রিপোর্টটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অব্যাহত রাখে। আর, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণকে অন্যায় বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ আমাদের সম্মানিত তিন (০৩) শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত ও অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা আমাদের আস্থার প্রতীক মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশকে অবমূল্যায়ন করে বলে আমরা মনে করি।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুধু এই তিনজন (০৩) শিক্ষককেই বরখাস্ত ও অপসারণ করেছে। যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের চূড়ান্ত লঙ্ঘন বলে আমরা মনে করি।
পূর্বেই উল্লেখিত হয়েছে যে, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে ছাত্রদের ন্যায্য দাবিতে সংহতি জানানোর কারণে তিনজন (০৩) শিক্ষক বহিষ্কার হওয়ার পর বিভিন্ন জাতীয় পত্র পত্রিকা মারফত আমরা জানতে পারি, যে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই সিন্ডিকেটের দুইজন সম্মানিত সদস্য এই সিন্ডিকেটের বৈধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই সিদ্ধান্ত যে উপাচার্যের বিশেষ আগ্রহে নেওয়া হয়েছে সেই কথাটাও উল্লেখ করেছেন। উপাচার্যের মেয়াদের শেষ দশ দিনে করোনার মধ্যে পরপর দুইটি বিশেষ সিন্ডিকেট ডেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াও উদ্দেশ্যমূলক এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ বলে আমরা মনে করি।
উল্লেখ্য এই তিনজন (০৩) শিক্ষককে যে ব্যাক্তিগত আক্রোশের কারণেই চাকরিচ্যুতর মতো গুরুতর ও নজিরবিহীন শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করছি তার কয়েকটি কারণ আছে। আপনার জ্ঞাতার্থে কারণগুলো উল্লেখ করছি:
২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, হলসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত নির্মাণে দুর্নীতির প্রতিবাদ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। তখন ৪৫ জন শিক্ষক স্বাক্ষরসহ সংবাদ সম্মেলন করেন। ভবন নির্মাণে দুর্নীতির প্রতিবাদে যারা সোচ্চার ছিলেন তাদের মধ্যে এই তিনজন (০৩) শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া ২০২০ এর জানুয়ারি মাসে এই বিশ্ববিদ্যালয়রেই একজন ছাত্রী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বোর্ডে তার সাথে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির কথা ৭১ টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। অভিযোগটি ছিলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মোহাম্মদ ফায়েকউজ্জামানের বিরুদ্ধে। সেদিনও ছাত্রদের সাথে সাথে যেসব শিক্ষক এই যৌন হয়রানির প্রতিবাদে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন মোঃ আবুল ফজলসহ এই তিনজন (০৩) শিক্ষক ছিলেন তার মধ্যে অন্যতম।
১৩.১০.২০২০ তারিখে এই ০৩ (তিন) জন শিক্ষকের কাছে ব্যাখা তলবের নোটিশ আসে ঘটনার ১০ মাস পর। ঠিক সেই মুহূর্তে খুলনা বিশ্বিবিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয়েরই কয়েকজন শিক্ষকের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে উত্তাল হয়। উপাচার্যের নিজের নামে যৌন হয়রানির অভিযোগ আছে। এই নিয়ে পত্র-পত্রিকায় অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এছাড়াও আরো অনেক বিষয়ে মো. আবুল ফজলসহ অন্য দুইজন শিক্ষক ক্যাম্পাসে নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সবসময়ই সরব ছিলেন। এই কারণে তাদেরকে ব্যাক্তিগত আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে বলে আমরা মনে করি। যাতে আর কেউ ন্যায়ের পক্ষে না দাঁড়ানোর সাহস করে তারই একটা নজির রেখে গেছেন সাবেক উপাচার্য। এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল বলে আমরা মনে করি। এছাড়াও এই তিনজন (০৩) শিক্ষকের শাস্তির প্রক্রিয়া যে যথাযোগ্য আইন মেনে করা হয়নি এবং এই শাস্তি চূড়ান্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে অমানবিকতার আশ্রয় নিয়েছে তারও কিছু প্রমাণাদি পাওয়া যায়।
গত ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে করা এই তিনজন (০৩) সম্মানিত শিক্ষকের রিট পিটিশন মহামান্য হাইকোর্ট গুরুত্বের সাথে নিয়ে তাঁদের চাকরিতে বহাল থাকার জন্য রুল নিশি জারি করেন। মহামান্য হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমরা বিশ্বাস করি মহামান্য আদালত সুবিচার করবেন এবং অবশেষে সত্যের জয় হবে। আমাদের এই তিনজন সম্মানিত শিক্ষক সসম্মানে স্বপদে বহাল হবেন; তবু যে প্রশ্নটা থেকে যায় তা হলো, অন্যায়ের সাথে আপোষ না করে, সত্যের সাথে থেকে, ছাত্রদের ন্যায্য দাবির পাশে থেকে এই তিনজন (০৩) শিক্ষককে কেনো আদালতে ঘুরতে হবে? আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে যে সামাজিক সুশাসন, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার কথা বলা হয়েছে এই তিনজন শিক্ষকতো বিভিন্ন সময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, ছাত্রদের অধিকারের পাশে থেকে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রচার ও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক সুশাসন, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার এই ঘোষণাকেই সমুজ্জল করার চেষ্টা করেছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা টানা মাসাধিক কাল যাবৎ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি এবং যতোদিন পর্যন্ত এর সুরাহা বিশ্বিবিদ্যালয় থেকে না হয় ততোদিন পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবো বলে পণ করেছি। ইতোমধ্যে আমরা গত ১৮.০২.২০২১ তারিখ আমাদের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্যর নিকট বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে পত্র প্রেরণ করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে প্রশাসন থেকে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের সবিনয় প্রার্থনা, বাংলাদেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার গৌরব ও ঐতিহ্যের স্বার্থে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত আমাদের সম্মানিত তিনজন (০৩) শিক্ষকের বরখাস্ত ও অপসারণ আদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে অতিসত্ত্বর প্রত্যাহার করাতে আপনি যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ সমগ্র বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞ থাকবো।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 179
    Shares