শনিবার, মে ৮
শীর্ষ সংবাদ

শিক্ষকের ছোঁড়া বেতে শিক্ষার্থীর চোখ নষ্ট, শিক্ষক বরখাস্ত

এখানে শেয়ার বোতাম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জে শিক্ষকের ছোঁড়া বেতের আঘাতে হাবিবা আক্তার (৮) নামে এক শিক্ষার্থীর চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নিরঞ্জন দাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

হাবিবা সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে এবং যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ও অভিযুক্ত শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষক নিরঞ্জন দাশের বরখাস্তের আদেশ পাঠানো হবে বলে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রেজ্জাক এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ‘মঙ্গলবার আশুরা উপলক্ষে অফিস বন্ধ থাকার কারণে বুধবার তার বরখাস্তের চিঠি পাঠানো হবে।’

এর আগে (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্লাস চলাকালে সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ তার হাতের একটি বেত ছুড়ে মারলে তা সরাসরি হাবিবার চোখে লাগে। এতে তার চোখ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিৎকার শুরু হলে স্থানীয় লোকজন হাবিবাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকা চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সোমবার অপারেশনের পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাবিবার চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে এ ঘটনায় রোববার রাতে এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তাকে আজ সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আরও জানান, ‘এখন পর্যন্ত অভিভুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থায়ী বরখাস্তের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বুধবার কিংবা বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।’

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ বলেন, ঘটনার সময় আমি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া নিচ্ছিলাম। এ সময় যারা পড়া পারছিল না তাদের টুকটাক বেত্রাঘাত করি। এ সময় ওই ক্লাসের দরজার সামনে কিছু শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে হৈ চৈ করছিল। আমি তাদের বারবার ধমক দিলেও তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলে হাতে থাকা বেত ছুড়ে মারি। তা গিয়ে হাবিবার চোখে লাগে। এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। ওই ছাত্রীকে ভালো চিকিৎসার যা প্রয়োজন হয় তা আমি করব।


এখানে শেয়ার বোতাম