মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪

শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ থেকে নয় দাবি, লংমার্চসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 274
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:: শাহবাগে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যানারে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে নয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই সমাবেশ হয়।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স ধর্ষণ ও নিপীড়ন বন্ধে নয় দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, আমরা সারা দেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি করব। ধর্ষণকে উচ্ছেদ করে ছাড়ব এ দেশ থেকে।

তাদের দাবিগুলো হল-

১. সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ‘ব্যর্থ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

২.পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

৩. হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৪. ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।

৫. তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।

৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

৮. পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।

৯. গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়া হলে তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ অভিমুখে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চ করা হবে।

দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিৎ করার দাবিতে ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে বাম ধারার ছাত্র সংগঠনগুলো ১০ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেবে।

এছাড়া ১১ অক্টোবর ধর্ষণবিরোধী আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ১২ অক্টোবর সাংস্কৃতিক সমাবেশ, ১৩ অক্টোবর চলচ্চিত্র উৎসব, ১৪ অক্টোবর নারী সমাবেশ ও ১৫ অক্টোবর সারা ঢাকায় ধর্ষণবিরোধী সাইকেল র‍্যালির কর্মসূচি ঘোষণা করেন অনিক।

পূর্বঘোষিত এই মহাসমাবেশের শুরুতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন।

আজ ৯ অক্টোবর ২০২০ বিকাল ৩ টায় ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যানারে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে
আগামী ১৬-১৭ অক্টোবর ঢাকা টু নোয়াখালী লংমার্চ ঘোষণা করেছেন প্ল্যাটফর্মের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন: ইলিরা দেওয়ান, ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম সভাপতি রওশন আরা রুশো, সিপিবি কেন্দ্রীয় নারী সেল সদস্য জলি তালুকদার, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা: লিয়াকত আলি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি আল কাদেরী জয় , সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি মাসুদ রানা , কবি সৈকত আমিন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি ফোরাম সদস্য সাইদুল হক নিশান, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন সভাপতি অলিক মৃ, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র সভাপতি সীমা দত্ত, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মিতু সরকার, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ সভাপতি সুনয়ন চাকমা, শিক্ষার্থী বাধন খান, রাশেদুল ইসলাম ফাহিম, নারী সংহতি দপ্তর সম্পাদক নাসরিন আক্তার সুমি।

সংহতি জানান:এমিরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আনু মুহাম্মদ, সামিনা লুৎফা, মোশাহিদা সুলতানা, সিত্তুল মুঙা হাসান, নুরুল কবির, গোলাম মর্তুজা, রেহনুমা আহমেদ, আবু সাইদ খান, আনিসা পারভীন জলি, ডা: মাহবুব রশিদ, এম এম আকাশ, ফারুক ওয়াসিফ, কাবেরী গায়েন, সোহরাব হাসান, শহিদুল আলম, জ্যেতির্ময় বড়ুয়া, গীতি আরা নাসরিন, হাসিবুর রহমান, ডা: লিয়াকত আলি, বিধান বিবেরু , শামিম আখতার, মুক্তির মঞ্চ, আদিবাসী ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, মাহা মির্জা প্রমূখ।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 274
    Shares