রবিবার, জানুয়ারি ২৪

শরীয়তপুরে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, ৫২ রাউন্ড গুলি

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দুই শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় নড়িয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাদশা শেখ, আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ শেখের সঙ্গে নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোক্তারেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌকিদারের, নড়িয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোখলেছ ব্যাপারী গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নড়িয়া বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশের বাজারে দুই গ্রুপের সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় দুই শতাধিক ককটেটের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ।

সংঘর্ষের সময় দুই গ্রুপের আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নড়িয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাদশা শেখ বলেন, আমার সমর্থক নড়িয়া বাজারের তেল ব্যবসায়ী রিপন শেখের সঙ্গে শাহ আলম চৌকিদারের সমর্থক রাজ্জাক ছৈয়ালের ডিজেল কেনাবেচা নিয়ে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে শাহ আলম চৌকিদার ও মোখলেছ ব্যাপারীর লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আমার ২-৩ জন সমর্থক আহত হন।

নড়িয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোখলেছ ব্যাপারী বলেন, আমি নড়িয়া বাজারে মাছের ব্যবসা করি। প্রায় তিন মাস আগে বাদশা শেখ ও তার লোকজন আমাকে ও আমার ভাইদের মারধর করে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যায়। সেই থেকে বাদশা শেখ আমাদের বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে। তার ভয়ে তিন মাস ধরে ব্যবসা বন্ধ। গতকাল রাতে হঠাৎ করে বাদশা শেখের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমরা আত্মরক্ষায় তাদের প্রতিহত করি।

নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম চৌকিদার বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে নড়িয়া বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশের বাজারে কবিরের কাঠের দোকানে বসা ছিলাম। হঠাৎ করে বাদশা শেখের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ৪-৫ জন লোক আহত হন।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) এসএম মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শাহ আলম চৌকিদার ও মোখলেছ এক পক্ষ নেন এবং অপরপক্ষে ছিলেন বাদশা শেখ ও জবেদ শেখ। আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে ৫২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছি। এ ঘটনায় মামলা করেনি কেউ। তবে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।


এখানে শেয়ার বোতাম