রবিবার, নভেম্বর ২৯

লংমার্চে হামলার প্রতিবাদে ফেনীতে বিক্ষোভ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 62
    Shares

ফেনী প্রতিরিধি:: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা-নির্যাতন বন্ধ করা এবং ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সংগঠিত লংমার্চে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ফেনী শহর শাখা।

আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ফেনী শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক পংকজনাথ সূর্যের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের ফেনী জেলা সংগঠক জোবেদা আক্তার কচি ও সদস্য রাইহানে কুমু। সংহতি বক্তব্য রাখেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ফেনী জেলা ইনচার্জ কমরেড জসীম উদ্দীন।

বক্তারা, গত ১৭ অক্টোবর ফেনীতে লংমার্চে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এরকম হামলার সংস্কৃতি ধর্ষণ -নিপীড়ন ও বিচারহীনতার সাংস্কৃতির পরিপূরক।

বক্তারা বলেন, ফেনীসহ সারা‌দেশের মানুষ গত ১৭ অক্টোবর ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরু‌দ্ধে অনু‌ষ্ঠিত লংমা‌র্চে হামলা আমাদের মর্মাহত করেছে। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা একটা যৌ‌ক্তিক ও নৈ‌তিক দা‌বি‌তে অনু‌ষ্ঠিত গণতা‌ন্ত্রিক প্রতিবাদ কর্মসূচী‌তে ন‌্যাক্কারজনক হামলা চালা‌লো। লংমা‌র্চে অংশগ্রহণকারী‌দের উপর হামলা, তা‌দের বহনকারী বাস ভাংচুর করা, চি‌কিৎসা সেবা পে‌তে বাধা দেয়া -সবই তারা কাল ক‌রে‌ছেন। এতেই শেষ নয়, লং মার্চ‌কে স্বাগত জানা‌তে দাগনভুঞা‌তে বাম‌জো‌টের নেতাকর্মীরা জ‌ড়ো হ‌য়ে‌ছি‌লেন। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা সেখা‌নেও হামলা চালান এবং বাসদ নেতা অর্জুন দাস‌কে নির্মমভাবে আক্রমণ ও আহত ক‌রেন। কোন রক‌মের রাজ‌নৈ‌তিক শিষ্টাচার‌কে‌ গ্রাহ‌্যই তারা ক‌রেন‌নি। কোন কথা, কোন আলোচনা, কোন বক্তব‌্য কিংবা আচরণ নি‌য়ে আপ‌ত্তি বা দ্বিমত, সেটা নি‌য়ে আলোচনা এসব কোন কিছুই ঘ‌টে‌নি, তারা একতরফাভা‌বে নিরস্ত্র আন্দোলনকারী‌দের উপর ক্ষমতার জোর প্রদর্শন ক‌রে‌ছেন।

প্রশাস‌নের কাজ ছিল এই ঘটনা‌য় দোষী‌দের গ্রেফতার করা এবং গণতা‌ন্ত্রিক আন্দোল‌ন চা‌লি‌য়ে নি‌য়ে যে‌তে সহ‌যো‌গিতা করা। কিন্তু আমরা অবাক বিস্ম‌য়ে দেখলাম প্রশাস‌নের চো‌খের সাম‌নেই এই নির্মম কাণ্ড ঘটে‌ছে, তারা তাতে বাধা দি‌চ্ছেন না বরং তারাও এই হামলায় সহ‌যোগী হ‌চ্ছেন। আমরা পা‌কিস্তা‌নি প্রায় উপি‌নি‌বে‌শিক শাস‌নের বিরু‌দ্ধে লড়াই ক‌রে দেশ স্বাধীন ক‌রে‌ছিলাম এই আকাঙ্খা নি‌য়ে যে, আমা‌দের কথা বলা ও প্রতিবাদ করার গণতা‌ন্ত্রিক অ‌ধিকার আমা‌দের স্বাধনে দে‌শে কেউ কে‌ড়ে নি‌তে পার‌বে না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা‌হিনী জনগ‌ণের নিরাপত্তা ও মত প্রকা‌শের অ‌ধিকার নি‌শ্চিত কর‌বে। কিন্তু আমরা আজ কী দেখ‌ছি? এই প্রশাসন, এই নিরাপত্তারক্ষাকারী বা‌হিনী জনগ‌ণের টাকায় প‌রিচা‌লিত হন, কিন্তু জনগ‌ণের সার্থে প‌রিচালিত হ‌চ্ছে না। আমা‌দের স্বাধীনতার এর‌ চে‌য়ে বে‌শি অপমান আর কিছু হয় না।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 62
    Shares