মঙ্গলবার, মার্চ ২
শীর্ষ সংবাদ

রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দল শুক্রবার ভাসানচরে পৌঁছাবে

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 31
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: কক্সবাজারের ঘিঞ্জি আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা করবে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দল। শুক্রবার সকালে নৌবাহিনীর জাহাজে করে তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গার দুপুরে ওই দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এর আগে গত ডিসেম্বরের ৪ এবং ২৯ তারিখে দুই ধাপে প্রায় তিন হাজার ৪৪৬ জন রোহিঙ্গাকে দ্বীপটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ভাসানচরে পৌঁছানো রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৮০১ জন পুরুষ, ৯৮৭ জন নারী এবং ১৬৫৮ জন শিশু রয়েছে। তার আগে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে গত মে মাসে ভাসানচর নিয়ে যায় সরকার।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ভাসানচরের উদ্দেশে কক্সবাজার শিবিরগুলো থেকে রোহিঙ্গারা বৃহস্পতিবার সকালে যাত্রা করবে। চট্টগ্রাম থেকে তারা নৌবাহিনীর জাহাজে করে শুক্রবার দুপুরে তৃতীয় দলটি ভাসানচরে পৌঁছবে। সেখানে আমরাও সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

উখিয়া তানজিমারখোলা রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, তাদের শিবির থেকে ২৫ পরিবারের একটি দল বৃহস্পতিবার সকালে ভাসানচরে যাওয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছে। হয়তো তারা আজ বিকালে শিবির ত্যাগ করবে। এছাড়া তার আশপাশের শিবির থেকেও বেশ কিছু রোহিঙ্গা পরিবার স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাচ্ছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন।

এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি, উখিয়া কুতপালং ক্যাম্প-২ ইস্টের রোহিঙ্গা শিবিরের কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, তার শিবির থেকে স্বেচ্ছায় ১৩০ রোহিঙ্গা পরিবারের ৫৫৯ জন ভাসানচরে যেতে প্রস্তুতি শেষ করেছেন। তারা বৃহস্পতিবার ভাসানচরের উদ্দেশে ক্যাম্প ত্যাগ করবেন। তারা চট্টগ্রাম থেকে শুক্রবার ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেবেন।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) খোরশেদ আলম খান বলেন, ‘স্বেচ্ছায় রাজি আরও তিন হাজার রোহিঙ্গা ভাসনচরে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’ একই কথা জানান ভাসানচর প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩) উপ-প্রকল্পের পরিচালক কমান্ডার এম আনোয়ারুল কবির।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে আশ্রয় নেওয়াসহ বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। শিবিরগুলোতে চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 31
    Shares