বুধবার, জানুয়ারি ২৭

রোহিঙ্গাদের গ্রাম মানচিত্র থেকেও মুছে দিল মিয়ানমার

এখানে শেয়ার বোতাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: তিন বছর আগে জ্বালিয়ে দেয়ার পর বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল রোহিঙ্গাদের একটি গ্রাম। এবার মানচিত্র থেকেও গ্রামটিকে মুছে ফেলেছে মিয়ানমার।

জাতিসংঘের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, গত বছর মিয়ানমার সরকার দেশের নতুন যে মানচিত্র তৈরি করেছে সেখানে অস্তিত্ব নেই রাখাইনের কান কিয়া গ্রামের। মানচিত্র থেকে রোহিঙ্গাদের গ্রামটির নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদী থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে কান কিয়া গ্রামে কয়েকশ’ মানুষের বাস ছিল। ২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে অভিযান চালায়। সেসময় রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, গণধর্ষণ, নিপীড়ন ও অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগ উঠে মিয়ানমার সেনার বিরুদ্ধে।

ওই অভিযানে কান কিয়া গ্রামে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে সেখানকার বাসিন্দারা পালিয়ে যান। পুরো গ্রাম আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর যেটুকু চিহ্ন দাঁড়িয়ে ছিল সেটাও বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

সন্ত্রাস দমনের নামে মিয়ানমারের এ অভিযানকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করে। প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সেসময় তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাদের ভয়াবহ নিপীড়নের চিত্র উঠে আসে।

এ নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা একটি মামলার শুনানি চলছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও (আইসিসি) এ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।

পরবর্তীতে কান কিয়া গ্রামটির জায়গায় এখন ডজনের বেশি সরকারি ও সামরিক ভবন গড়ে উঠেছে। এমনকি স্যাটেলাইট চিত্রে পুলিশ ঘাঁটির জন্য দেওয়া আঁকাবাঁকা বেড়াও দেখতে পাওয়া যায়।

‘গুগল আর্থে’ স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ছবিগুলো দেখতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া ‘প্ল্যানেট ল্যাব’ থেকেও কিছু ছবি পায় রয়টার্স।

২০২০ সালে মিয়ানমারে জাতিসংঘের ‘ম্যাপিং ইউনিট’ দেশটির নতুন ম্যাপ বানিয়েছে। দেশটির সরকারি মানচিত্রের ভিত্তিতে এ ম্যাপ তৈরি করে সংস্থাটির ইউনিট।

এতে তারা জানান, নতুন মানচিত্রে গুঁড়িয়ে ফেলা গ্রামটির নাম আর নেই। বরং ওই জায়গাটিকে এখন কাছের মংডু শহরের বর্ধিত অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

২০১৭ সালের অভিযানের সময় কান কিয়ার মতো অন্তত চারশ’ গ্রাম ধ্বংস করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, এমনটাই অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের।

ধ্বংস করা গ্রামগুলোর মধ্যে অন্তত এক ডজনের নাম এখন মানচিত্র থেকেও মুছে ফেলা হয়েছে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ রফিক ছিলেন কান কিয়ার কাছের একটি গ্রামের প্রধান। তিনি বলেন, ‘তারা চায় আমরা যেন আর ফিরে না যাই।’

মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাখাইন রাজ্যের পুনর্গঠনের কাজ করছে। গ্রামের নাম মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার কারণ এবং কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা হবে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা রয়টার্সকে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সাবেক দূত ইয়াংহি লি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার ইচ্ছা করেই শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফেরা কঠিন করে দিচ্ছে। তারা কীভাবে সেই জায়গায় ফিরবে, যার কোনো নাম নেই বা যেখানে তাদের বসবাসের কোনো চিহ্ন নেই? ’


এখানে শেয়ার বোতাম