বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩

‘রুবানা হকের ঘোষণায় দুরভিসন্ধি থাকতে পারে’, সন্দেহ রিজভীর

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হকের শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পেছনে বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য থাকতে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএ সভাপতি জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে৷ প্রণোদনার পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পর তাদের এই ঘোষণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না৷ এই ঘোষণায় অন্য কোনও দুরভিসন্ধি থাকতে পারে।’

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর নয়া পল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, শনিবার বিজিএমইএ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত হয়নি। সংগঠনটির সভাপতি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘আপৎকালীন পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার বাইরে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের নগদ সহায়তা দেয় সরকার। কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াত দেওয়া হয়৷ এত সুবিধা পাওয়ার পরও এই চরম দুঃসময়ে তারা হঠাৎ করেই শ্রমিক ছাঁটায়ের এই ঘোষণা দিয়ে অমানবিক কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত আছে৷ লকডাউন শুরুর পর থেকে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে৷ রুজি-রোজগার বন্ধ হওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই সময়ে শুধু ব্যবসার কথা চিন্তা করে ছাঁটাই অন্যায্য।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিজভী উল্লেখ করেন, বিজিএমই এখন পর্যন্ত ২৬৪ জন পোশাক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত বলে স্বীকার করলেও বাস্তবে এই সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের পুরো দায়িত্ব বিজিএমইএ’র নেওয়ার কথা থাকলেও তারা নিচ্ছে না৷ শ্রমিকদের জীবন-জীবিকাকে আমলে না নিয়ে ছাঁটাইয়ের কথা বলা চরম অমানবিক ও মানবতাবিরোধী।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, করোনায় মৃত্যুর চেয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ। মৃত্যুর পর কারও পরীক্ষা করার সুযোগ পাওয়া গেলে জানা যাচ্ছে “করোনা পজিটিভ”। তবে এসব খবরে সরকারের ভ্রূক্ষেপ নেই। বরং প্রধানমন্ত্রী এসব খবর থোড়াই কেয়ার করছেন। তিনি এখন বিদেশের পত্রিকায় নিজেই নিজের সাফাই গেয়ে আর্টিকেল লিখছেন। নিজের সাফল্য প্রচার করছেন।’

স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন ব্যয় সম্পর্কে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই মহামারির মহাদুর্দিনেও সাগরচুরির মহা উল্লাসে ওরা মেতে উঠেছে তারা। তীব্র সংকট মোকাবিলায় ভেন্টিলেটর আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হলেও আজও ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়নি। ভেন্টিলেটর আমদানির আগেই সেখানে দুর্নীতির কালো হাত থাবা বিস্তার করেছে। এই ক্রয়ের সঙ্গে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে গণমাধ্যম।’

রিজভী দাবি করেন, ভেন্টিলেটর, আইসিইউ, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতালের বেড আর করোনা আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সুবিধা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই সরকার।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের ফাঁপা গল্পের মাঝে যে একটা বাতাসযুক্ত বেলুন ছিল, করোনার সামান্য ধাক্কায় সেটা ফুটো হয়ে গেছে। জনগণের চিকিৎসা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার হরণের দায় সরকারেরই।’


এখানে শেয়ার বোতাম