শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭
শীর্ষ সংবাদ

রাস্তায় ওভারটেকিংয়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ : প্রধানমন্ত্রী

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাস্তায় ওভারটেকিংয়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং ফিটসেসবিহীন গাড়ি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। এসব বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খবর বাসসের।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কেউ যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে অহেতুক গাড়ি বা ট্রাকের আকার পরিবর্তন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের ট্রাফিক পুলিশকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, কোনো গাড়ি ওভারটেক করলে যেন তাদের ড্রাইভারদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। ওই গাড়িকে তাদের ওভারটেক করতেই হবে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। একটি রাস্তা কেমন লোড নিতে পারে, একটি সড়কে কী ধরনের দুটি গাড়ি পাশাপাশি চলতে পারে সেটা নির্দিষ্ট করা থাকে। অথচ, আমাদের দেশে দেখা যায় অধিক মুনাফার আশায় আসন বৃদ্ধির জন্য বা অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের জন্য ক্ষেত্রে বিশেষে এক্সট্রা ক্লাম দিয়ে বেআইনিভাবে গাড়ির আকার বাড়িয়ে নিচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে।

নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তৈরি করা এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গৃহীত হলেও পরবর্তীতে তা থেমে যায়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তন এবং নতুন ঋতু আগমনের সঙ্গে সঙ্গে অতীতের বিষয়টি ভুলে যাওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য আমাদের মানসিকতায় আছে।

আর এ বিষয়টি আমাদের সড়ক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বা আন্দোলনকারীদের দৃষ্টিতে কেন আসেনি সে প্রশ্নও উত্থাপন করেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন- সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান এমপি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান একাব্বর হোসেন এমপি, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা দেন।

সড়কে যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০১৭ সাল থেকে ২২ অক্টোবর সারাদেশে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শোভাযাত্রা, পোস্টার ও হ্যান্ডবিল বিতরণ, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ভিডিও চিত্র প্রদর্শন এবং আলোচনা সভাসহ নানামুখী কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়।’

ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সড়ক নিরাপদ করতে সবার আগে মানসিকতার পরিবর্তন দরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষদের একটা প্রবনতা হচ্ছে দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে সব থেকে বেশি গালমন্দ করা হয়।

চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের ক্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কিন্তু কেবল চালক নয় পথচারীরাও অনেকাংশে দায়ী। কারণ ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস, ওভার পাস থাকার পরেও দেখা যায় যে পথচারীরা মাঝখান দিয়ে রাস্তা পার হয়, ফুটপাত ব্যবহার করে না, একটি চলন্ত গাড়িকে কেবল হাত দেখিয়ে চলে যায় বা মোবাইলে কথা বলতে বলতেই রাস্তা পার হয়ে যায় অনেকে। গড়িটাতো একটা যন্ত্র। কাজেই ব্রেক কষলেওতো থামতে এর কিছুটা সময় লাগে। এই বোধটা বা জ্ঞানতো তাদের থাকতে হবে। সেই সঙ্গে সড়ক চলাচলের যে আইন রয়েছে তাওতো মেনে চলতে হয়। এসব বিষয়ে সচেতনাও সৃষ্টি করা হয় না।

দেশের স্কুল পর্যায়ে ট্রাফিক আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকার প্রধান বলেন, এজন্য স্কুল-কলেজ এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে অধিক জনবল কাজ করে সেগুলোতে ট্রাফিক আইন বা ট্রাফিক রুল বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়াটা একান্তভাবে প্রয়োজন।


এখানে শেয়ার বোতাম