সোমবার, নভেম্বর ৩০

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে খুবির শিক্ষার্থীদের অনলাইন গণস্বাক্ষর

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে খুবির শতাধিক শিক্ষার্থী অনলাইনে গণস্বাক্ষর করেছেন। গুগল ফর্মের মাধ্যমে গত ৯ জুলাই রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে এই কর্মসূচি ১২ জুলাই দুপুর ২ টা পর্যন্ত চলে। এই সময়ের মধ্যে মোট ১৭৯ জন অনলাইনে গণস্বাক্ষর করেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণীপেশার সচেতন মানুষ অনলাইনে গণস্বাক্ষর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

খুবির শিক্ষার্থীদের পক্ষে এক বিবৃতিতি জানানো হয় : আমরা ইতোমধ্যে সকলে অবগত যে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আমরা সকলেই দেশের শিল্প ও শ্রমিকের প্রতি দায়বদ্ধ সেকথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। গোটা বিশ্বে যখন পাট থেকে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তখন লোকসান দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করার সিদ্ধান্তে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর লোকসানের পেছনে আসল কারণ কি? মিলগুলি বন্ধ করার পেছনে কোনো বিশেষ মহল, গোষ্ঠী বা সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির তৎপরতা থাকলে তা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।

সারা বিশ্বের মধ্যে সবথেকে সেরা জাতের পাট উৎপন্ন হয় আমাদের দেশে। বিশ্বের মোট পাটের অর্ধেক উৎপাদন হয় আমাদের দেশেই। অথচ আমাদের দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটশিল্পের আজ কি করুণ দশা! এ দায় কার? রাষ্ট্রকে এ দায় নিতে হবে। দেশ তথা জনতার স্বার্থ থেকে কোন কিছু বড় নয় তা আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে রাষ্ট্রকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

নানারকম ছেলেখেলার মধ্য দিয়ে চলতি মাসের ২ তারিখ সরকার পাটমিল বন্ধের নোটিশ জারি করে। কারণ হিসেবে হাজির করা হয়েছে মিলগুলি প্রতিবছর মোটা অংকের টাকা লোকসান দিচ্ছে। অথচ মন্ত্রণালয় থেকে ইচ্ছে করেই সরকারী অর্থ বরাদ্দের টাকা সরকারী পাটকলগুলোতে পাট মৌসুমের তিন চার মাস দেরিতে দেওয়া হয়। যখন বেসরকারি মালিকেরা পাট মৌসুমে ১০০০ বা ১২০০ টাকা দিয়ে পাট কিনে, ঠিক তখন সরকারী পাটকলগুলোকে ২৪০০ বা ২৫০০ টাকায় তা কিনতে হয়। আবার গুনগত মানেও পাটগুলো খুবই নিম্নমানের। এমন অসংখ্য অসঙ্গতির কথা আমরা শুনতে পাই।

মিলগুলি বন্ধ হলে এর সাথে জড়িত প্রায় ৭৫ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ কি হবে এবং মিলকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করে এমন মানুষগুলোর (মুদি দোকান, টি স্টল ইত্যাদি) ভবিষ্যৎ কি হবে—সেটা নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো ভাবনাচিন্তা নেই বললেই চলে।

গত ৬ তারিখ মধ্যরাতে বিভিন্ন মিলের দুইজন শ্রমিক নেতাকে তাদের বাসা থেকে সাদা পোশাকধারী লোকেরা তুলে নিয়ে গেছে এবং পরবর্তীতে তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই অবস্থায় সারা দেশের মানুষের ন্যায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পাটকলগুলো আধুনিকায়ন ও তা পরিচালনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার এবং শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।


এখানে শেয়ার বোতাম