শনিবার, মে ৮
শীর্ষ সংবাদ

রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা: দোয়ারাবাজারে গরু চুরির হিড়িক

এখানে শেয়ার বোতাম

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বছর জুড়ে গরু চুরি অব্যাহত থাকলেও সম্প্রতি আশংকাজনক হারে এর উপদ্রব বেড়েছে। উপজেলা জুড়ে গত ৬ মাসে অন্তত শতাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। কৃষকরা রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা দিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না।

শুক্রবার রাতে উপজেলা সদরের নৈনগাঁও গ্রামের কৃষক সাজিদ আলীর দুইটি ষাড় চুরি হওয়ার পর ভাগ্যক্রমে পার্শ্ববর্তী ছাতক উপজেলার খাইরগাঁও গ্রাম থেকে উদ্ধার করেন। একই ভাবে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের কৃষক আখলুছ আলীর ৭টি, রমজান আলীর ১টি, নুর হোসেনের ১টি আব্দুল মান্নানের ১টি, সাইদুল হক সিরাজীর ১টি, ইলিয়াছ আলীর ১টি, পশ্চিম মাছিমপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ২টি, নরসিংপুর ইউনিয়নের দ্বীনেরটুক গ্রামের মাহমুদুল হকের ৩টি, নতুন সিরাজপুর গ্রামের জিয়াউল হকের ২টি, বীরেন্দ্রনগর গ্রামের কনু মিয়ার ৫টি গরুসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির হিড়িক পড়েছে।

কিছুদিন আগে দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের নৈনগাঁও গ্রামের কৃষক আঞ্জব আলীর ৫টি, আব্দুস শহিদ বতু মিয়ার ২টি, মহেন্দ্র দাসের ২টি, সফিক মিয়ার ৩টি, ফজু মিয়ার ২টি, রজব আলীর ২টি, প্রথম বার সাজিদ আলীর আরো ২টি সহ একই গ্রাম হতে অন্তত ২০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ দিন ধরে গরু চুরির ঘটনায় গ্রামের কৃষকরা নি:স্ব হলেও কার্যত গরু চোর সিন্ডিকেট রয়েছে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

এমনকি ইতিপূর্বে প্রকাশ্য দিন দুপুরে হাওর থেকেও গরু চুরির অনেক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের চুরি যাওয়া অনেক গরুর মালিক জানিয়েছেন, আগে রাতের আধারে গরু চুরি হয়েছে। এখন রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা ছাড়াও সম্প্রতি দিনে দুপুরে গোচারণ ভূমি হতে চুরি হচ্ছে গরু, মহিষ ও গৃহপালিত পশু। হালের বলদ, দুধের গাভী এবং মহিষ চুরি হওয়ার কারণে অর্থনৈতিকভাবে কৃষকরা পড়েছেন চরম সংকটের মুখে। চুরি রোধ করা না গেলে আসন্ন কৃষি ক্ষেত-খামার চাষাবাদ ব্যহত হলে উৎপাদন বিঘ্নিত হবে বলেও জানান কৃষকরা।

গরু চুরি প্রসঙ্গে দোয়ারাবাজার থানার ওসি আবুল হাশেম জানান, বিভিন্ন গ্রামে গরু চুরির ঘটনায় পুলিশ সদা সতর্ক রয়েছে। তবে চুরির সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না এরকম অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম