শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা : মন্ত্রী বললেন এটি পাক বাহিনীর ভুল, ডা. মনীষা জড়িতদের শাস্তি চান

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর বাবা গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা এড. তপন কুমার চক্রবর্তীর নাম রাজাকারের তালিকায় আসার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা নিজেরা কোনো তালিকা প্রস্তুত করিনি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা যে তালিকা করেছে, আমরা শুধু তা প্রকাশ করেছি। সেখানে কার নাম আছে, আর কার নাম নেই সেটা আমরা বলতে পারব না।’

সোমবার বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন ।

তিনি বলেন, ‘একই নামে তো অনেক মানুষ থাকতে পারে। আর একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় আসবে কেন, এটা হতে পারে না। আর যদি আসেও সেটা পাক বাহিনীর ভুল।’

‘যদি মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় এসে থাকে, তবে আমরা সেটা যাচাই করে দেখব’ বলেন আ ক ম মোজাম্মেল হক।

এদিকে সন্ধ্যা ৬:৪৫ মিনিটে লাইভে এসে বাসদ নেতা ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁর মুক্তিযোদ্ধা বাবা এবং দাদী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এড. সুধীর কুমার চক্রবর্ত্তী সহধর্মিণীকে রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

লাইভে তিনি জানান, আগামীকাল বাসদ কার্যালয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করবেন এবং এর প্রতিবাদে বরিশালে মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় বরিশালের ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী ও তার মা শহীদ জায়া ঊষা চক্রবর্তীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মুক্তযোদ্ধা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।

বরিশালের বিশিষ্ট সংস্কৃতজন নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, শহীদ সুধির চক্রবর্তীর পরিবার বরিশালের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ বছর ধরে অবদান রাখছে। তার নাতনী ডা. মনিষা চক্রবর্তী বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব এবং গত বছর জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন।

এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মহিউদ্দিন মানিক বীর প্রতীক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতবাক। অবিলম্বে এ তালিকা সংশোধন করে ওই পরিবারের সম্মান সুরক্ষা করা হোক। এই অসম্মানের জন্য তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত।’

উল্লেখ্য, রোববার প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী তার বাবা ‘তপন কুমার চক্রবর্তী’র নাম নিয়ে এমন অভিযোগ তুলেছেন।

সোমবার মনীষা চক্রবর্তী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ কাজ করার পুরস্কার পেলাম আজ। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগকে। সদ্য প্রকাশিত রাজাকারদের গেজেটে আমার বাবা এবং ঠাকুমার নাম প্রকাশিত হয়েছে। আমার বাবা এড. তপন কুমার চক্রবর্তী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা, ক্রমিক নং-১১২ পৃষ্ঠা-৪১১৩। তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও পেয়ে থাকেন! আজ রাজাকারের তালিকায় তিনি ৬৩ নাম্বার রাজাকার।’

‘আমার ঠাকুরদা এড. সুধির কুমার চক্রবর্ত্তীকে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। তিনিও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত। তার সহধর্মিণী আমার ঠাকুমা উষা রানী চক্রবর্ত্তীকে রাজাকারের তালিকায় ৪৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি স্ট্যাটাসে আরও লিখেছেন- শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য আমার রাজনীতি করার খেসারত দিতে হচ্ছে আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগ সরকারকে।

আমার দল বাসদ আমাকে শিখিয়েছে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাকে। মিছিল থেকে গ্রেফতার করে থানায় নির্যাতন করে ওরা বলেছিল যে আন্দোলন যেন না করি, নির্বাচনে যেন অংশ না নিই। রাজী না হওয়ায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে অজামিনযোগ্য মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণ করেছে। আমরা জেল খেটেছি, নির্যাতন সহ্য করেছি কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথানত করিনি।

সূত্র : সমকাল, জাগো নিউজ ও ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর ফেইসবুক পেইজ


এখানে শেয়ার বোতাম