শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রহস্যজনক : প্রধানমন্ত্রী

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: রাজাকারদের তালিকায় যোদ্ধাদের নাম আসায় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কষ্টের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিভাবে রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চলে এলো এটা রহস্যজনক। এ তালিকা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। যাদের পরিবাররের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে, তাদের যদি রাজাকার শব্দটি শুনতে এটি তাদের জন্য খুবই কষ্টের বিষয়।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দেওয়া সূচনা বক্তব্যে এ সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে বলেছিলাম তালিকাগুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করার জন্য। এত তাড়াতাড়ি এটি প্রকাশ করার কথা না, তাও আবার বিজয় দিবসের আগে। আমরা সুন্দরভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করলাম। তালিকা সময় নিয়ে প্রকাশ করা দরকার ছিলো। সব মিলিয়ে একটি গোলমাল তৈরি হয়েছে। ৭২ সালে যুদ্ধের সময় আমাদের আওয়ামী লীগের যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলো তাদের অনেককে পাকিস্তান সরকার দুর্বৃত্ত, সন্ত্রাসী বলে মামলা দিয়েছিলো।

তিনি বলেন, ‘এই যে তালিকাগুলো সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া ব্যবহার করেছেন এটা করতে গিয়ে এখানে একটা গোলমাল করেছে। ঠিকভাবে নামের ওপরে কী আছে না দেখে ওয়েবসাইটে দিয়ে একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। আমি এখানে একটা কথা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার খেতাব দেয়া হবে না। এটা হতে পারে না, এটা অসম্ভব। এটা আমরা হতে দেব না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা রাজাকার, তাদের তো আলাদা গেজেট করাই আছে। কোনোভাবেই এটা রাজাকারের তালিকা নয়। এটা যারা দেখেছেন তাদের সবার কষ্ট লেগেছে, মনে আঘাত লেগেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধ করল তাদের যদি রাজাকার বলা হয় এর থেকে দুঃখের, কষ্টের আর কিছু থাকে না। যারা এ দুঃখ পেয়েছেন তাদের আমি বলব, তারা যেন শান্ত হন। রাজাকার, আলবদর এবং আলশামস এ তালিকাগুলো কিন্তু গেজেটেড। এগুলো আপনারা যদি একাত্তরের পত্রিকাও দেখেন সেই পত্রিকায়ও কিন্তু লিস্ট একটা আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর থেকে একেবারে ’৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত সেই কালো অধ্যায় কেটে গেছে। কাজেই আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও করেছি। এটা অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা হবে। যারা প্রকৃত দোষী অবশ্যই এটা তাদের শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা করা হবে।’


এখানে শেয়ার বোতাম