মঙ্গলবার, মার্চ ২
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীতে পাচারকালে ৪ তরুণী উদ্ধার : গ্রেফতার ৬

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় ভিকটিম চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাব মোড় থেকে পাঁচজনকে আটক করে। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকা থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট ও বিমানের টিকিটসহ চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১১ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন জানান, মানবপাচারে জড়িত একটি চক্রের ওপর দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি করছিল। শনিবার রাতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জের তারাব মোড়ের শাহ চন্দপুরী রেস্টুরেন্টে চার তরুণীকে পাচারের উদ্দেশ্যে একত্রিত করা হয়েছে এমন খবরে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় পাচারকারী চক্রের তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট অনিক হোসেন (৩১), আক্তার হোসেন (৪০), পাসপোর্ট প্রস্তুতকারী দালাল আফতাউল ইসলাম ওরফে পারভেজ (৩৭) এবং দুবায়ের ড্যান্স ক্লাবের মালিক মনির হোসেন ওরফে সোহাগ (৩০) ও আব্দুল হান্নানকে (৫২) গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাভেল এজেন্সির মালিক মো. আকাশকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের কাছ থেকে ৭০টি পাসপোর্ট, নগদ এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ২০০ পাসপোর্টের ফটোকপি, ৫০টি বিমান টিকিট, ৫০টি ট্যুরিস্ট ভিসার ফটোকপি, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর ও একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। এসময় তাদের হেফাজতে থাকা চার ভিকটিম তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। ১৫-২৫ বছর বয়সী সুন্দরী তরুণীদের উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক এজেন্ট, পাসপোর্টের দালাল, ড্যান্স বারের মালিক, ট্র্যাভেল এজেন্সি জড়িত।

নারী পাচারকারী এ সিন্ডিকেটের এজেন্টরা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের, পোশাক শিল্পের, ব্রোকেন ফ্যামিলির সুন্দরী তরুণীদের প্রাথমিকভাবে টার্গেট করে। টার্গেটের পর প্রথমে তরুণীদের ছবি বিদেশে ড্যান্স বারের মালিকের কাছে পাঠানো হয়। ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ড্যান্স বারের মালিক অথবা তার প্রেরিত প্রতিনিধি সরাসরি তরুণীদের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঢাকা অথবা আশপাশের কোনো রেস্টুরেন্ট, হোটেল অথবা লংড্রাইভের নামে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাসে সাক্ষাৎ করে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত তরুণীদের পাসপোর্ট নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট তাদের নিজস্ব পাসপোর্ট দালালের মাধ্যমে প্রস্তুত করে। ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের মাধ্যমে নথিপত্র ম্যানেজ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব তরুণীকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, এসব তরুণী বিদেশে পৌঁছামাত্র বিমানবন্দর থেকে সিন্ডিকেট সদস্যরা রিসিভ করে হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দি করে রাখতো। বিদেশে অবস্থানকালীন এসব তরুণীকে কোনো অবস্থায়ই নিজের ইচ্ছায় হোটেল তথা ড্যান্স বারের বাইরে যেতে দেয়া হয় না।

প্রাথমিক অবস্থায় তরুণীরা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে রাজি না হলে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য জোরপূর্বক প্রয়োগ করা হয়। এভাবে দিনের পর দিন তরুণীদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চলতে থাকে। খদ্দরের নির্দিষ্ট কোনো তরুণীকে পছন্দ হলে ড্যান্স বারের মালিকের কাছে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কয়েক দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে যেত। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।


এখানে শেয়ার বোতাম