বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৮

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিদ্রোহ’ নিয়ে সদস্যদের সতর্ক করল সশস্ত্র বাহিনী

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 15
    Shares

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ‘বিদ্রোহ’ ও ‘দেশদ্রোহ’ নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩ বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল ভবনে হামলার সাথে বেশ ক’জন সাবেক এবং কর্মরত সেনা সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ উঠতে থাকায়, সেনা নেতৃত্ব স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ডেমোক্রেটদের কাছ থেকে পেন্টাগনের ওপর চাপও তৈরি হয়েছে।

ফলে ৬ জানুয়ারির নজিরবিহীন তাণ্ডবের এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার ওই ঘটনা নিয়ে স্থল, নৌ এবং বিমান বাহিনীসহ মার্কিন সেনাবাহিনীর সব শাখার শীর্ষ কম্যান্ডাররা যৌথভাবে সব সেনা সদস্যদের প্রতি একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। খবর বিবিসির।

যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলিসহ সাতজন শীর্ষ জেনারেল ও একজন অ্যাডমিরালের সই করা বিবৃতিটি সৈনিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া তা প্রকাশ করেছে।

বার্তায় কমান্ডাররা বলেছেন, ক্যাপিটল ভবনে হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও সংবিধানের ওপর ‘সরাসরি হামলা’। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী দেশের ‘সংবিধান রক্ষায় সবসময় প্রস্তুত’।

এতে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে ৬ জানুয়ারির সহিংস দাঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, ক্যাপিটল ভবন এবং আমাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি হামলা। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জমায়েতের অধিকার কাউকে সহিংসতা, দেশদ্রোহিতা ও বিদ্রোহের অধিকার দেয় না।

কমান্ডাররা সৈনিকদের বলেন, ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। তিনি সেনাবাহিনীর নতুন কম্যান্ডার-ইন-চিফ হবেন। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির কোনো চেষ্টা আমাদের (সেনাবাহিনীর) মূল্যবোধ, রীতি ও শপথের খেলাপ এবং এটি বেআইনি।

ওয়াশিংটনের সহিংসতার ঘটনার পর থেকে জেনারেল মার্ক মিলি একদম চুপ ছিলেন। তবে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে হামলার সঙ্গে বেশ কয়েকজন সাবেক এবং বর্তমান সেনা সদস্যের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর পেন্টাগনের ওপর চাপ বাড়ছে।

এসব অভিযোগ তদন্তে মঙ্গলবার প্রভাবশালী ডেমোক্রেট সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ পেন্টাগনের প্রতি আহ্বান জানান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ক্রিস মিলারকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটর ডাকওয়ার্থ বলেন, ‘অভিযোগ সত্য হলে সেনাবাহিনীর সংখ্যাগরিষ্ঠ যে অংশ গর্বের সঙ্গে দেশের সেবা করছে এবং সেনাবাহিনীর মূল্যবোধ ধরে রাখছে তাদের প্রতি সেটি চরম অসম্মানের হবে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ওই ঘটনা নিয়ে অনেক সেনা কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে তাদের মত দিতে শুরু করেছেন। এমনকি তাদের অনেকে এমন উদ্বেগও প্রকাশ করেন যে, ৬ জানুয়ারির নজিরবিহীন ঘটনার পর কমান্ডাররা কোনো দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন না।

এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার টুইট করেন, ৬ জানুয়ারির ঘটনা ছিল ‘বিদ্রোহের অপচেষ্টা।’ জেনারেল রবার্ট অ্যাব্রামস বলেন, ‘আপনি যদি ইউনিফর্ম পরা সৈন্য হন এবং ওই ঘটনাকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে আমি আপনাদের অনুরোধ করবো বসে ঠান্ডা মাথায় সংবিধানটি পড়ুন- যে সংবিধান রক্ষার জন্য আপনি শপথ নিয়েছেন।’

ক্যাপিটাল ভবনে ওই তাণ্ডবের পর সেনাবাহিনীর মধ্যে কট্টর মতবাদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে হামলাকারীদের অনেকেই সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ছিলেন। অনেক মিডিয়া এমন কথাও বলছে, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ এখনও সেনাবাহিনী এবং পুলিশে কাজ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের টিভি নেটওয়ার্ক সিবিএসর এক খবরে বলা হয়েছে, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে একদল ট্রাম্প সমর্থককে নেতৃত্ব দিয়ে ওয়াশিংটনে নিয়ে আসার জন্য ক্যাপ্টেন র‌্যাংকের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 15
    Shares