বৃহস্পতিবার, মে ১৩
শীর্ষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের সাথে ছাত্র ফ্রন্টের সংহতি

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 593
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

আজ মঙ্গলবার (০২ জুন) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল কাদেরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদের মত ভয়াবহ বর্বর চর্চার খবর মাঝেমধ্যেই গণমাধ্যমে দেখতে পাই। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শাসক ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই আক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। মানুষকে উন্মাদনায় মাতিয়ে রেখে তার সমস্ত সাম্রাজ্যবাদী নীতি বাস্তবায়ন করতেই ট্রাম্প বরাবরই বর্ণবিদ্বেষ ও হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্ট ধারণা উস্কে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে বলেন, এমনিতেই করোনা ভাইরাস মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ বিধ্বস্ত, প্রশাসনের বর্ণবাদী নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় যখন আমরা দেখি সেখানে করোনা ভাইরাসে মৃতদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই নীতির ফল আমরা সর্বশেষ দেখলাম গত ২৫ মে মিনাসোটার মিনাপলিস শহরে পুলিশ কর্তৃক জর্জ ফ্লয়েড নামের ৪৬ বছর বয়সী একজন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকের উপর পাশবিক নির্যাতন ও মৃত্যুবরণের ঘটনার মধ্য দিয়ে। আমরা একদিকে যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত বিশ্বমোড়লদের হুঙ্কার দেখি, ঠিক অন্যদিকে আমরা দেখি, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে মার্কিন জনগণ। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রায় ৪০ টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। ১৬ টি অঙ্গরাজ্যের ২৫ টি শহরে কার্ফিউ জারি করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হলেও এর ভেতরেই গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলছে জনগণের বিক্ষোভ”।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “করোনা মহামারী প্রতিরোধে ব্যর্থ ট্রাম্প প্রশাসন তার বর্ণবাদী চরিত্র নিয়ে আজ সেদেশের জনগণ ও সারাবিশ্বের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এই গণবিরোধী চেহারা উন্মোচিত হওয়ায় এবং আন্দোলন দমাতে আজ সেদেশের বামপন্থী শক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে। স্বয়ং ট্রাম্প টুইটারের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে মিমনাপলিসের মেয়র ‘অতি বাম’ বলে এমন অরাজকতা ঘটেছে। করোনা মহামারীতে এখনো পর্যন্ত বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে আমেরিকায়। অথচ সবচেয়ে বেশি সামরিক বাজেটের এইদেশে করোনা মোকাবিলায় বরাদ্দ পেন্টাগনের এক ঘন্টার বরাদ্দের চেয়েও কম। এই চিত্রই আজ প্রমাণ করে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ অ্যামেরিকাতেও দরিদ্র মানুষ কতটা অসহায়। পুঁজিবাদ যত শক্তিশালী হয়, মুনাফা যত তীব্র হয়, সাধারণ মানুষের উপর এর শোষণ তত বেশি হয়, মনুষ্যত্ব-মানবিকতা তত ধ্বংসের মুখে পড়ে। পুঁজিবাদ মুনাফার জন্য দাসপ্রথা, বর্ণবাদসহ সমস্ত বর্বর প্রথা ফিরিয়ে আনতে পারে, যেসব সভ্য সমাজ থেকে বিদায় নিয়েছিল বহু দিন আগেই”।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের এই বিক্ষোভের সাথে আমরা সংহতি জানাই। হত্যাকারী পুলিশ অফিসার এবং জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি। সেই সাথে আমরা সকল বর্ণবাদী নিপীড়নের অবসান চাই। নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ গুলোই একদিন সংগঠিত ভাবে কেড়ে নেবে নিপীড়কদের সিংহাসন। অবসান ঘটাবে মানুষে মানুষে সকল বৈষম্যের কাঁটাতারের। সেইদিনের অপেক্ষায় আমরা বিশ্বজুড়ে লড়াই চালিয়ে যাবো”।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 593
    Shares