মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬

যবিপ্রবির অনশনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা

এখানে শেয়ার বোতাম

যবিপ্রবি প্রতিনিধি:: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার গভীর রাতে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের উপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে তিনজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যবিপ্রবির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তর দে শুভ। তিনি বলেন, দাবি আদায়ে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বুধবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি শুরু করি। দুপুরে আন্দোলন তুলে নিতে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। আর রাতে বহিরাগত আজিজ ও রাসেল পারভেজ, কামরুল হাসান সিহাব, ইব্রাহীম, বিপুল ইমনসহ বেশ কয়েকজন আমাদের উপর হামলা করে।

হামলার এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সব বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এসময় হামলাকারীরা ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে আরাফাত সুজন, মাহমুদুল হাসান সাকিব, মুনিরুল ইসলাম হৃদয়সহ আন্দোলনরত ১২ জন শিক্ষার্থীকে আহত করে। এসময় আমরা আহতদের হাসপাতালে আনার চেষ্টা করলেও বাধা দেয়া হয়। পরে পুলিশ এসে আমাদের হাসপাতালে আসতে সহযোগিতা করে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে তা প্রমাণিত হয়েছে। উচ্চ আদালত যাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় অর্থ ব্যয় করতে পারে না।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ডিসিপ্লিন কমিটির সুপারিশে বিভিন্ন মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে বুধবার দুপুর থেকে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারসহ ৯ দফা দাবিতে শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবিগুলো হলো- অনতিবিলম্বে অবৈধ বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে, প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরচারী আচরণ বন্ধ করতে হবে, ল্যাব রিটেক ও কোর্স রিটেকের জরিমানা বাতিল করতে হবে, ইম্প্রুভিং সিস্টেম চালু করতে হবে, ক্লাসে উপস্থিতি (৬০-৭০ শতাংশ) হলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং (৫০-৬০ শতাংশ) হলে দশ হাজার টাকা জরিমানা বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে, রিটেক কোর্সের সিজিপিএ ৪ কাউন্ট করতে হবে, চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে যে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা হয়েছে তার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তবে আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, তারা যে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছে তার বেশিরভাগই অনেক আগে মেনে নেয়া হয়েছে। রিটেক ফি ৭৫ শতাংশ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা রয়েছেন। তারপরও যদি তাদের কোন দাবি দাওয়া থাকে, তারা যদি আমাকে জানায় আমি বিষয়গুলো বিবেচনায় নিব এবং আমি অবশ্যই চাইব আমার শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে আসুক।


এখানে শেয়ার বোতাম