শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

মৌলভীবাজারের খাসিয়া পল্লী করোনা থেকে শতভাগ সুরক্ষিত

এখানে শেয়ার বোতাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: স্বাস্থ্যবিধি পালন, নিজস্ব কৌশল ও ব্যবস্থাপনায় করোনা থেকে শতভাগ সুরক্ষিত রয়েছে মৌলভীবাজারের মাগুরছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন এলাকার খাসিয়া পল্লীর মানুষ।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এই সম্প্রদায়ের কোন সদস্য এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- তাদের কৌশল ও ব্যবস্থাপনা সবার জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।

গত মার্চে দেশে করোনা রোগী সনাক্তের পর নিজ উদ্যোগে লকডাউন শুরু করে মৌলভীবাজারের সকল খাসিয়া পল্লীর মানুষ। এ সময় পুঞ্জিতে বাইরের জনপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়। জোর দেয়া হয় স্বাস্থবিধির উপর। অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া পুঞ্জির বাইরে বের হননা কেউ। কেনাকাটা, হাট-বাজারের জন্য রাখা হয়েছে নির্ধারিত লোক। শুধু তাই নয়, প্রতিটি খাসিয়া পল্লীর প্রবেশ পথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও নির্ধারিত স্থানে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বাগানে উৎপাদিত পান।

খাসিয়া সম্প্রদায়ে লোকেরা জানান,’লকডাউন খুবই জোরদার করেছি। আমরা কোনভাবেই বাইরের মানুষকে পল্লীতে প্রবেশ করতে দেইনি।’ স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দুরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করাসহ নেয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। নিজস্ব কৌশল ও কড়া নির্দেশনায় মিলেছে সুফল।

বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সদস্য সচিব ফিলা পতমী বলেন, ‘এখানকরা কেউ হয়তো আত্মিয়ের বাসায় বেড়েতে গেছে। সে প্লীতে ফিরে এলে তাকে কমপক্ষে ১০দিন আলাদা ঘরে রাখি। যার কারণে আমার মনে হয় আমাদের খাসিয়া কমিউনিটিতে এখনও কোন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় নাই।’

খাসিয়া সম্প্রদায়ের সচেতনতা ও ব্যবস্থাপনা সবার জন্য হতে পারে অনুকরণীয়। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এ প্রসঙ্গে বলেন,’খাসিয়া পল্লীগুলোতে সংক্রমণের হার একেবারে শূণ্যের কোঠায়। আমরা যদি তাদের ব্যবস্থাপনাটিকে অনুসরন করে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় এ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি।’

মৌলভীবাজার ৬৫টি খাসিয়া পুঞ্জিতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ণিল সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী এই জনগোষ্ঠী পান চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে।


এখানে শেয়ার বোতাম