শুক্রবার, মার্চ ৫
শীর্ষ সংবাদ

মৃত্যু কাঁদায়,অনুভূতি শূন্য করে!

এখানে শেয়ার বোতাম

মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ::

কৃতি সুন্দর দাস অ্যাডভোকেট ২০ আগষ্ট,১৯৭৮ সালে হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝিলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করে।সে আড়িয়ামুগুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৯৩ সালে মাধ্যমিক,১৯৯৫ সালে শাল্লা কলেজ হতে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে।পরবর্তীতে বি.কম.(সম্মান) হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হয় মদনমোহন কলেজে।আমি পড়তাম অর্থনীতি বিষয়ে এম.সি. কলেজে।স্বাভাবিক কারণে তাঁর সাথে যোগাযাগ ও সখ্যতা হওয়ার কথা না।রাজনীতি শেখার পাঠশালা ছাত্র ইউনিয়নে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৯৮ সালে তাঁর সাথে পরিচয়।অনুপ্রাণিত হয়ে সেও একসময় ছাত্র আন্দোলনে সামিল হয়।উভয়েই একই সালে মাধ্যমিক পাশ এবং সমসাময়িক বয়সের।ফলে তাঁর সাথে দিনদিন সম্পর্ক ঘনিষ্ট হতে থাকে।উভয়েই স্নাতকোত্তর পরীক্ষাশেষে আইনবিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সিলেট আইন কলেজে ভর্তি হই।একে অন্যের সহপাঠি হয়ে যাই।কৃতি থাকতো করেরপাড়া,আমি উপশহর মেসে।ছাত্র ইউনিয়নের কর্মসূচীতে তাঁর সাক্ষাত হতো।কথা হতো।

একসময় উপশহর থেকে জল্লারপারে ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার প্রাক্তন সভাপতি ইফতেখারুল হক পপলু এবং আমি মিলে একটি মেস করি।তখন কৃতি ঐ মেসে প্রায় প্রতিদিন আসতো।পরে কিছুদিন মজুমদারী ও দরগাগেইট এলাকায় মেসে থাকি।সেখানেও কৃতি যাওয়া-আসা করতো।অতি সহজেই যে কারো সাথে মিশে যেতে পারতো।সাদামাঠা জীবনযাপনের অধিকারী কৃতির মধ্যে একধরণের সারল্যতা ছিলো।এর ফলে সে ছাত্র-যুবদের প্রিয়জন হতে বেশিদিন যায় নি।

যুব,সাম্যবাদী ও প্রগতিশীল আন্দোলনে কৃতি সরব,সক্রিয় এবং নিবেদিতপ্রাণ ছিলো।একারণেই বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।নিষ্ঠার সাথে সার্বিক দায়িত্ব পালনে কোনো দ্বিধা ছিলো না।একাধারে প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন অঙ্গীকার বাংলাদেশ-এর সংগঠক হিসেবে আরেক কিংবদন্তীতুল্য আমাদের প্রিয় যুবরাজনীতিবিদ প্রয়াত মইনুদ্দিন আহমদ জালালের নেতৃত্বে,সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করেছে।এছাড়াও জাতীয় সম্পদ রক্ষা,সিংহবাড়ি রক্ষা,অর্পিত সম্পত্তি প্রতিরোধ আন্দোলন,টিঁপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধ আন্দোলনসহ প্রতিটি ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ ছিলো।

কৃতি সুন্দর ও আমি একই সাথে ২০০৯ সালে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হই।পরে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ নিয়ে ওকালতি পেশা শুরু করি।সে খুব পরিশ্রমী ও নীতিনিষ্ট আইনজীবী হিসেবে স্বল্প সময়ে আদালত অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছিলো।অমায়িক ব্যবহারে সবাইকে আপন করে নিয়েছিলো।

একদিন কোর্টে লক্ষ্য করি তাঁর গলার স্বর ঠিকমতো কাজ করছে না।আমি,নিতুদা ও অ্যাডভোকেট বুরহান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ডা. ঋতুরাজ দেবের নিকট তাকে নিয়ে যাই।ডাক্তার তাকে দেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন।রিপোর্ট দেখে তাকে বাইরে যেতে বলেন।আমার কাছে বলেন,ক্যান্সার! দুইতিন মাস হয়তো বাঁচবে।বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়!আজও ভাবতে কষ্ট হয়!হায়রে মরণব্যাধি!

ভারতে গিয়েও বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করা হয়।অবশেষে মাত্র আটত্রিশ বছরেই সে চলে গেল।এইদিনে গত ২১ অক্টোবর ২০১৬ সালে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার ঝিলুয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করে।

প্রিয় বন্ধু কৃতি দেহজভাবে হয়তো অনুস্থিত,কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কর্ম,স্মৃতি ও অবিনাশী প্রেরণা,চলার পথে আজীবন পাথেয় হয়ে থাকবে।

আজ তাঁর প্রয়াণের তিন বছর।সারথি তোমাকে অভিবাদন ও স্যালুট জানাই।


এখানে শেয়ার বোতাম