শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

‘মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর আরো এক হত্যাকারীকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে’

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধি সৌধ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মুজিববর্ষে সরকার চেষ্টা করছে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় বাস্তবায়ন করার। এ লক্ষ্যে সরকার প্রধান বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানকে চিঠি লিখেছেন। ইতিমধ্যে একজনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আরো একজনকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ যে সমস্ত দেশে আমাদের দেশের লোক রয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি, আমাদের পক্ষে এত লোক একসঙ্গে নিয়ে কোয়ারেন্টিন করা সম্ভব নয়। তারা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। আমরা প্রবাসীদের পরামর্শ দিয়েছি এই আপৎকালীন সময় কেটে যাবে। বাধ্য না হলে আপনারা দেশে আসবেন না। এছাড়া আমরা বিদেশে যে সমস্ত মানুষ কষ্টে আছেন তাদের জন্য ব্যাপক অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় বিভিন্ন পণ্য সে সমস্ত দেশে পাঠানো হয়েছে। তবে সমস্যা হচ্ছে সে সমস্ত দেশে কারফিউ এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ থাকার কারণে অনেকের কাছেই সে সমস্ত সহায়তা আমরা পৌঁছাতে পারিনি। আরেকটি কারণ আমাদের দেশ থেকে যে সমস্ত মানুষ প্রবাসী হয়ে যান তারা প্রবাসে গিয়ে আমাদের দূতাবাসগুলোতে নাম নিবন্ধন করেন না। ওরা যখন অসুবিধায় পড়েন তখন শুধু দূতাবাসের শরণাপন্ন হন। অন্যদিকে যে সমস্ত প্রবাসী দেশে ফিরেছেন বা ফিরবেন তাদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রী হওয়ার পরে প্রবাসে টেলিমেডিসিন এবং হটলাইন ব্যবস্থা চালু করেছি। প্রবাসে আমাদের যে সমস্ত দূতাবাস রয়েছে সে সমস্ত দূতাবাসে নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রবাসীদের সকল ধরনের সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার জন্য। যেটি সমাধানযোগ্য নয় তার জন্য যেন বুঝিয়ে প্রবাসীদের হাসিমুখে বিদায় জানানো হয়।

লেবানন প্রসঙ্গে আব্দুল মোমেন বলেন, আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশটিতে দেড় লক্ষ প্রবাসী রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কোন চাকরি-বাকরি নেই। এর মধ্যেই এই দুর্গতি। আমরা জানতে পেরেছি এখনো পর্যন্ত আমাদের চারজন লোক মারা গেছে। আমাদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯ জন সেনা আহত হয়েছেন। তারা এখন আউট অফ ডেঞ্জার। ওই দেশে মেডিক্যাল টিম পাঠাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফ্রান্স সেখানে মেডিক্যাল টিম পাঠিয়ে দেয়ার কারণে এবং আমাদের সংশ্লিষ্ট দূতাবাস খাদ্য সহায়তা চেয়ে পাঠানোর কারণে আমরা সেখানে খাদ্য সহায়তা পাঠাচ্ছি। পুরো একটি ফ্লাইট ভর্তি করে সেখানে শুকনো খাবার পাঠানো হচ্ছে।

করোনায় নিহতদের মরদেহ আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডাইরেক্ট ফ্লাইট না থাকার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের মরদেহ দেশে আনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। তাছাড়া এখন মৃতদেহ আনার খরচ বেড়ে গেছে। তারপরেও ফ্লাইট চালু হলে আমরা দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো। মালয়েশিয়া থেকে ইতিমধ্যে আমরা মৃতদেহ ফেরত এনেছি। যেখানে আগে একটি মরদেহ বাংলাদেশে আনতে তিন হাজার ডলার খরচ হতো এখন সেই মরদেহ আনতে ১২ হাজার ডলার খরচ হয়।

এসময় জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, অন্যান্য প্রশাসনিক ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এখানে শেয়ার বোতাম