রবিবার, নভেম্বর ২৯

মুজিববর্ষে জবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ‘বঙ্গবন্ধু’

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 57
    Shares

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর উপলক্ষে উৎসব পালনের জন্য ঘোষিত বর্ষ হচ্ছে মুজিববর্ষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করতে মুজিববর্ষ (২০২০-২১) উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মুজিববর্ষে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের জন্ম ও বঙ্গবন্ধুর জীবনচিত্র তুলে ধরা হবে বছরব্যাপী আয়োজনের মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর জীবন ঘিরে ঐতিহাসিক ঘটনার প্রাসঙ্গিকতায় বাংলাদেশকে তুলে ধরা হবে দেশ ও সারাবিশ্বে। বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ উৎসব উদযাপন করার কথা ছিল। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে জনস্বার্থে ও জনকল্যাণে সব আয়োজন সীমিত করে ছোট পরিসরে করা হয়েছে। এ উদযাপন চলবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ উদযাপন করা হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তীও। মুজিববর্ষ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুকাইয়া মিজান (মিমি)।

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টির সাথে অবিভাজ্যভাবে জড়িয়ে আছে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। বাঙালি জাতির লড়াই, সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনের সাথে যার নাম জড়িত তিনি আমাদের বঙ্গবন্ধু। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি আমার কাছে একাধারে জীবন সংগ্রামের, অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আদর্শ প্রতীক। তিনি শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।

তিনি স্বাধীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার মহান কারিগর, উদার ব্যক্তিত্ব ও সফল রাজনীতিবিদ। যিনি রাজনীতি করেছেন এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, শোষণ থেকে মুক্তির জন্য। তিনি তার জীবনের প্রায় বেশিরভাগ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন এদেশের মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে। তিনি বুঝেছিলেন অধিকার পেতে হলে চুপ থাকলে চলবেনা; সবাইকে জাগ্রত করতে হবে। একেরপর এক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, আন্দোলন করেছেন। অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। তার জন্য জেলও খেটেছেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন এদেশের মানুষের অধিকার আদায় করতে হলে এবার জাগরণের ডাক দিতে হবে, সবার মনে গেঁথে দিতে হবে স্বাধীনতাকে মন্ত্র। তখনই তিনি ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করলেন এক ঐতিহাসিক কবিতা।
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম!”

তার ধারাবাহিকতায় গোটা বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান স্বাধীণতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল! “বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন করো!” স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো দেশ। মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ বুকের তাজা রক্ত উৎসর্গ করেছিল স্বাধীনতার জন্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মাত্র ১০ মাসের মধ্যে লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করে তিনি এদেশের মানু্ষকে গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে দেন। তিনি ছিলেন একজন সফল কূটনীতিবিদ। মাত্র সাড়ে তিনবছরের শাসনে তিনি ১৪০ টি দেশের স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন। বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছিয়েন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ, দিয়েছিলেন পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে কথা বলার অধিকার! স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন একটি সোনার বাংলা গড়ার। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল অসহায় মানুষের সেবা করা, অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় করা। যা তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। তার সংগ্রামমুখর ও কর্মময় জীবন ও আদর্শ থেকে আজকের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা গ্রহণ করে স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণে অঅংশীদার হোক এটাই আমার প্রত্যাশা।

ইউছুব ওসমান
শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

আমাদের এই স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নে যে ব্যাক্তিটির সবথেকে বেশি ভূমিকা রয়েছে তিনি আর কেউ নয় আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।যখন পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙ্গালীরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছিল ঠিক তখনই সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। বাল্যকাল থেকেই তিনি অপরের বিপদে সবসময় পাশে থাকতেন।অপরের কষ্ট দেখে তিনিও ব্যাথা অনুভব করতেন।চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল বলেই তাকে ডাকা হতো “খোকা” বলে। ভারতবর্ষ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার পর বাঙালিরা যখন পাকিস্তানের অধীনে চলে যায় তখন থেকেই বাঙালি জাতির উপর চলে অন্যায়-অবিচার। কিন্তু বাঙালী জাতি কখনোই থেমে থাকে নি। নিজেদের প্রানের বিনিময়ে অধিকার আদায় করে নিয়েছে সকলেই। আমাদের সকলের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যেদিন উপলব্ধি করতে পারল যে এভাবে কারোও পরাধীনতায় বেঁচে থাকা সম্ভব নয় সেদিন থেকেই তিনি ভেবে নিলেন বাঙালিদের স্বাধীন করেই শান্ত হবেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে উঠে লাখ লাখ বাঙালি। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সময়ে বিনা দোষে কারাগারে আটকে ছিলেন বছরের পর বছর। কিন্তু তবুও তিনি থেমে যান নি। অবশেষে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু যখন বলে উঠে “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো কিন্তু তবুও এদেশের মানুষকে মুক্তি দিয়ে ছাড়বো ইনশাল্লাহ” এ ভাষন শুনে লাখ লাখ বাঙালি নিজেদের যা ছিল তা নিয়েই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দেয়। বাঙালিরা বুঝতে পেরেছিল এরকম অত্যাচারের মধ্যে না বেঁচে স্বাধীনতার মূল্য অনেক। একজন যোগ্য নেতার নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয় যার নাম হয় “বাংলাদেশ”। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ অনুসরণ করেই বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করে। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা আমাদের সকলের জাতির পিতা।

সাদিয়া নওশিন বিন্তি
শিক্ষার্থী, পরিসংখ্যান বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯২০ সালের ১৭ ই মার্চ, মানবসেবায় নিবেদিত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এক শিশু। পরিবারের আদরের ‘খোকা’, গ্ৰামবাসিদের ‘মিয়া ভাই’, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। যাঁর জীবনের মূলেই ছিল দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি প্রাণভরা ভালোবাসা। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শুধু একটি নাম নয়, একটি আদর্শ ও সংগ্ৰামের প্রতীক। যাঁর একটাই স্বপ্ন ছিল, বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। এজন্য তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেশিরভাগ সময়ই (১৪ বছর) জেলে কাটাতে হয়েছে। তারপরও বাংলার মানুষের জন্য তাঁর ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। কীভাবে বলছি? জেল থেকে ফিরে এসে ১৯৭২ সালের ডেভিড ফ্রস্টের কাছে দেওয়া তাঁর একটি সাক্ষাৎকারের সামান্য কিছু কথা থেকে তা স্পষ্ট। ডেবিড ফ্রস্ট সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আপনি যখন দেখলেন, পাক হানাদার বাহিনী আপনার জন্য কবর খনন করেছে, তখন আপনার মনে কার কথা আগে জাগল? আপনার দেশের কথা? না আপনার স্ত্রী-পুএ পরিজনের কথা? উত্তরে বঙ্গবন্ধু নিসংকোচে বলে দিলেন, আমার প্রথম চিন্তা ছিল আমার দেশ, তারপর আমার পরীবার। আমি আমার জনগণকেই বেশি ভালোবাসি। তাঁর ভালোবাসা, আত্নবিশ্বাস এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে তিনি পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার সুখ লাভ করিয়েছেন। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তাঁর নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন হয়ে থাকবে। তাইতো আজ বারবার বলতে ইচ্ছে হয়-
‘যতদিন রবে এই পদ্মা-মেঘনা-গৌরি যমুনা বহমান ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান’

রাজিয়া আক্তার রিতু
শিক্ষার্থী, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

আজ স্বাধীন বাংলায় আবারো তোমাকে খোঁজে মুজিব, সেই দুখিনী মা, বিচার না পাওয়ার সেই কলঙ্কিনী মেয়ে, প্রতিবাদের জন্য প্রস্তুত একদল যুবক তাঁদের প্রতিবাদের প্রেরণা জোগতে, তাঁদের পরিচালনা করতে। তুমি সেই মুজিব যাকে আজও খোঁজে দেশ, আবারো ফিরে পেতে চায় এই অভাগা জাতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫) নামের উপাধিতেই বোঝা যায় তিনি জনগণের কতটা কাছের ছিলেন। দেশের মানুষের জন্য ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দয়ালু, শীতের চাদর দিয়েছিলেন শীতে কাঁপতে থাকা বুড়িকে, বর্ষার ছাতা দিয়েছিলেন গরিব বন্ধুকে। জনগণের মঙ্গলের নিজের ভোগ বিলাসিতা বিসর্জন দিয়ে ছিলেন। পাকিস্তান আমলে ২৪ বছরের মাঝে ১২ বছর কারাগারেই অতিবাহিত করেছেন । তাঁর আপন সন্তান তাঁকে কাছে না পাওয়ায় তাঁকে চিনতে ব্যর্থ হন। “হাসু আপা হাসু আপা তোমার আব্বাকে আমি আব্বা বলে ডাকি?” এ কঠিন কথাও তাঁকে শুতে হয়েছে তার সন্তানের কাছ থেকে। তবুও তিনি কখনো সাত কোটি বাঙালির ভরসা নষ্ট করেন নাই। তিনি ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১ কে মোকাবেলা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি মন্ত্রিত্ব চাই না, আমি চাই বাঙালির স্বাধীনতা।” হিংস্র জানোয়াদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন বাংলাদেশকে , সাত কোটি বাঙালির স্বপ্নকে। সেই আহ্বান, অনুপ্রেরণা, ঠিক বিচার। যখন সাত কোটি বাঙালি ব্যবধান, বৈষম্য ভুলে সবাই এক সুরে চলত, একে অপরের পাশে থাকতো। তোমাকে আজ ও খোঁজে মুজিব এই ১৬ কোটি বাঙালি, আবারো তোমার প্রেরণা চায়, আবারো সবাই তোমার ডাকে সাড়া দিতে চায়, আবারও চাই সব বৈষম্য ভুলে সোনার বাংলায় এক আদর্শে সবাই একসাথে চলতে, সুখে থাকতে। তুমি আজ ও আমাদের আদর্শ।

মোছাঃ শারমিন আক্তার
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১লা মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়স থেকেই তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভা দেখাতে শুরু করেন। শেখ লুৎফুর রহমান ও শেখ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান ছিলেন। তাঁর বাবা-মা তাকে স্নেহে খোকা ডাকতেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর শৈশব টুঙ্গিপাড়ায় কাটিয়েছেন। কবি কল্পনা করেন, ভাবেন, স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের প্রতিরূপ “কবিতা”। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছেন রাজনীতি নিয়ে, সেই স্বপ্ন ছিল একটি জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতা এনে দেয়ার, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দেয়ার। কবিদের মতোই বঙ্গবন্ধু রূপ দিয়েছেন তাঁর স্বপ্নের। লিখলেন পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে এই জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতা এনে দেয়ার, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দেয়ার স্বপ্নের সে প্রতিরূপ, সে কবিতা। বঙ্গবন্ধুর সে কবিতাই হয়ে উঠলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল যখন তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলের ছাত্র ছিলেন। তিনি ‘শের-ই-বাংলা’ এ.কে. বিদ্যালয়ের ফাটল ছাদ মেরামত করার দাবিতে একদল শিক্ষার্থীর নেতৃত্ব দেন। বঙ্গবন্ধু ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং মুসলিম ছাত্র লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।১৯৪৮ সালের ২৩ শে জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হলে শেখ মুজিব এর যুগ্মসচিব নির্বাচিত হন। তিনি ব্রিটিশ শাসনামলে একজন তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। তিনি তৎকালীন পূর্ববাংলা/পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয় ছিলেন: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ এর ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬সালের-দফা দাবিতে আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং শেষ অবধি পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। চব্বিশ বছরের পাকিস্তানের শাসনামলে তিনি এক দশকেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ, বাঙালি জাতির নতুন দিগন্তের সূচনার এক ঐতিহাসিক দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির ভবিষ্যৎ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। ১২-৩০ মিনিট ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হবার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাবার্তা ওয়ারলেস যোগে চট্টগ্রামের জহুরুল আহমেদ চৌধুরীকে প্রেরণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন এবং স্বাধীনতার ঘোষণার আলোকে বীর বাঙালী গড়ে তোলে স্বত:স্ফুর্ত প্রতিরোধ। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবজ্জল অধ্যায়। দীর্ঘ নয় মাস পর যুদ্ধ জয় লাভ করেছে এদেশের সোনার সন্তানেরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নকে সত্যি করেছে। তবে বিদ্রূপের বিষয়টি হলো পাকিস্তানিরা যা করতে পারেনি, কিছু দুর্নীতিবাজ সামরিক কর্মকর্তা তা করেছিলেন-তারা স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছর পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে তাঁর বেশিরভাগ বর্ধিত পরিবারকে হত্যা করেছিলেন। তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা এ সময় বিদেশে থাকায় বেঁচে ছিলেন।

তানজিলা তাবাসসুম অন্তি
শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

“মুজিব সেতো বদ্ধদ্বারে মুক্তির আলো
মুজিব সেতো সহস্র গুণের এক উজ্জ্বল আলো”
মুজিব নামটি শুধুমাত্র নাম ই নয় এটি এক উজ্জ্বল আলোকঝুড়ি যেখান থেকে টুকরো টুকরো আলো নিয়ে জ্বলতে পারে হাজার জ্যোতি। ১৯২০ সালের ১৭ ই মার্চ ধরায় আগমন তার। শৈশবাবস্থায়ই তিনি হয়ে ওঠেন আদর্শনিষ্ঠ এক অবাক বালক। বাংলার নিষ্পেষিত জনতার জন্য তিনি ছিলেন স্রষ্টার প্রেরিত দূত যার আগমনে বাংলার মানুষ খুজতে শুরু করে তাদের অধিকার। নানান সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন এক সোচ্চার নেতা। তিনি ছিলেন বাংলার এক অবিসংবাদিত নেতা। ভ্রাতৃত্ববোদ, অহিংসা, অসাম্প্রদায়িকতাসহ প্রভৃতি মানব চরিত্রের সুকুমার বৃত্তিগুলো দ্বারা আবৃত ছিল তার জীবন। তরুন প্রজন্মের জন্য তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আদর্শের প্রতীক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কারিগর, উদার ব্যক্তিত্ব ও সফল রাজনীতিবিদ। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামশীল এই নেতা তার জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন কারাগারে। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬ এর ৬ দফা দাবি, ৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন ও ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাওয়া যায় তার নেতৃত্বের উদাহরণ। নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীন করে মাত্র ১০ মাসে স্বাধীন দেশের সংবিধান উপহার দেন দেশের মানুষকে। তার কূটনৈতিক জ্ঞানের উদাহরণ হিসেবে আমরা দেখতে পাই মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে ১৪০ টি দেশের স্বীকৃতি আদায় করেছেন আবার জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদও লাভ করেন। বঙ্গবন্ধুর সেই রাজনৈতিক আদর্শ আর বর্তমান সময়ের রাজনৈতিবিদদের আদর্শের পার্থক্য অনেক। যার কারনে তরুন সমাজ আজ রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়ছে। তবে তরুন সমাজের উচিত তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, তার আদর্শ বুকে ধারন করে দেশকে গড়ে তুলতে যেমন দেশ গঠনের জন্য লড়াই করেছেন বঙ্গবন্ধু।

মোহাম্মদ ইয়াছিন ইসলাম
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

 


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 57
    Shares