রবিবার, মে ১৬
শীর্ষ সংবাদ

মালিক শ্রেণীর সরকার শ্রমিক শ্রেণীর নয়!

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 230
    Shares

রায়হান আনছারী::

চা বাগানে আরেক ২০ মে যেনো আমদের দেখতে হয় না। দেশে মোট ১৬৬টি চা বাগান আছে। মোট চা জনগোষ্ঠী প্রায় ৭ লাখ (চা শ্রমিক ইউনিয়নের ২০১৯ এর হিসাব অনুযায়ী)। চা শ্রমিকরা যেখানে কাজ করেন সেখানে জনসমাগম হয়, নিদিষ্ট ৩ ফুট দূরত্বে অবস্থান করে কাজ করা সম্ভব না। সারা দেশে যখন সাধারণ ছুটির মধ্য দিয়ে অঘোষিত লক ডাউন সেখানে চা বাগানগুলোতে ভিন্ন চিত্র। আমাদের অর্থনীতির চাকা সচ্ছল এবং মালিকের মুনাফার জন্য দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে চা শ্রমিকরা। সেখানে মালিকের তো মাথাব্যাথা নেই সরকারের ও কোন আগ্রহ নাই। কেন কারণ তারা আধুনিক ক্রীতদাস! এদের জীবনের কোন মূল্য নেই।

প্রশ্ন হলো এই মহামারী করোনা ভাইরাসের ফলে চা বাগানগুলো বন্ধ হলে সামগ্রিক কি ক্ষতি হবে? দেশে প্রতি বছর বছর চা উৎপাদনের রেকর্ড করছে। গত বছর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার চা উৎপাদন হয়েছিল। এখন যদি ধরি এক মাস সহ মজুরি দিয়ে চা বাগান বন্ধ করলে মালিকদের সাময়িক মুনাফা করা বন্ধ হবে। কিন্তু মালিকরা তো মরে যাবে না, এত বছর ধরে উনারা শ্রমিকদের কাছ থেকে যে উদ্ধৃতমূল্য আত্মসাত করেছেন তা দিয়ে উনাদের কয়েক বছর অনায়াসে কাটাঁতে পারবেন। পাশাপাশি ৭ লাখ মানুষদের দৈনিক অমানবিক মজুরি ও রেশন যা দেওয়া হয় সেই হিসেবে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে দিলে ৩০ দিনে মাসিক জনপ্রতি ৬০০০ টাকা করে সকল শ্রমিকদের জন্য ৪২০ কোটি টাকা ব্যায় হবে। কোটি কোটি মুনাফাখোর আর হাজার কোটি দূনীর্তি লুপাট করা দেশে এই টাকা কিছু না। তাহলে কেন এই চা শ্রমিকদের সর্বোচ্চ করোনা ঝুঁকিতে থাকার পরো কেন চা বাগান বন্ধ করতে চাইছে না? উত্তর পরিস্কার সরকার মুনাফালোভী মালিকদের স্বার্থ দেখে চা শ্রমিকদের স্বার্থ দেখে না।

ধরুন চা শ্রমিক অঞ্চলগুলো ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ হলে সরকার সব বাগান লক ডাউন করবে। শ্রমিকরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে, বিচ্ছিন্ন চা বাগান আরো বিচ্ছিন্ন হবে। না হয় লাখ খানেখ মারা গেলো, ক্রীতদাসই তো মারা গেলো। বাকিরা আর নতুনদের দিয়ে আবার অর্থনৈতিক চাকা দৌঁড়াবে আর মালিকের প্রাসাদ অট্টালিকা বাড়তেই থাকবে। তাই সময় থাকতে আসতে হবে পন্ডিত দেওসরণ আর পন্ডিত গঙ্গা দীক্ষিতদের। যদি আমরা চা বাগানের আরেক রক্তক্ষয়ী করুন ইতিহাস দেখতে না চাই।

লেখক : আয়কর আইনজীবি
( ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত)


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 230
    Shares