শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬
শীর্ষ সংবাদ

মাফিয়াদের কাছে বিচার চাওয়া পাগলের প্রলপ বৈ আর কিছুই না

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 244
    Shares

রুহুল আমিন ::

বুর্জোয়া অর্থেও একটি দেশে যখন গনতন্ত্র থাকে না, মানুষ তার বেসিক গণতান্ত্রিক অধিকার পায় না, স্বৈরাতান্ত্রিক কায়দায় দেশ পরিচালিত হয় এবং সেটা যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তখন দেশের অভ্যন্তরে বিগত দিনের সামাজিক শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। সমাজ অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয় কেওয়াজ। আর সেই কেওয়াজ কে নিয়ন্ত্রণ করতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার যেমন তার রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্টরূপে ব্যবহার করে, তেমনি তার প্রয়োজন হয় বিভিন্ন অবৈধ শক্তির সাথে যোগ সাজস করার। যারা তাকে বিরোধী গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ থেকে যেমন নিরাপদে রাখে, তেমনি কখনো কখনো দেয় অর্থের যোগান। ‘মাফিয়া’ সেই শক্তি সমূহের অন্যতম। এই মাফিয়া চক্র দল ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভেতর থেকেও যেমন গড়ে ওঠে, তেমনি গড়ে ওঠে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তি সমূহের সমন্বয়ে।

একটি শোষণ মূলক রাষ্ট্রে উৎবৃত্ত্ব মূল্য আত্নসাতের মধ্য দিয়ে পুঁজিপতি মালিক শ্রেণীর যেমন জন্ম হয়, তেমনি রাষ্ট্র-সরকার ও মাসল পাওয়ারের সহযোগিতায় জন্ম নেয় এমন এক গোষ্ঠী যারা শেষ বিচারে শাষক ও মালিক শ্রেনীর পক্ষেয় ভূমিকা পালন করে। আর একটি দেশের অভ্যন্তরে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যখন অনুপস্থিতি থাকে তখন সিন্ডিকেট নির্ভর এই মাফিয়া গোষ্ঠী আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সরকার ও রাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রয়োজনে তখন তাকে কাজে লাগায়। নিয়োগ-চাকরি-টেন্ডার বানিজ্য থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সমস্ত সেক্টর জুড়ে এই মাফিয়ারাই ক্রমশ হয়ে ওঠে নেপথ্যের নায়ক। বিগত কয়েকমাস যাবৎ সাহেদ- পাপিয়া-জিকে শামিম- সম্রাটদের ঘটনা এই মাফিয়া তন্ত্রেরই ক্ষুদ্র প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।

আল-জাজিরার ” All The Prime minister’s Men” নামক যে ডকুমেন্টারিটা বের হয়েছে সেখানে দেশের মাফিয়া তন্ত্রের উৎসমূল খানিকটা বের হয়ে এসেছে। উঠে এসেছে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরকার চিত্র।

অথচ এই ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা ঘটনা ও সিক্রেট তথ্যগুলোকে চ্যালেঞ্জ না জানিয়ে সরকার তার চিরাচরিত ঢং-এ বলে চলেছে, এটা মিথা বানোয়াট, জামায়াত বিএনপির দেশ বিরোধী সড়যন্ত্র। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় যে গোষ্ঠী এটার বিরোধিতায় লিপ্ত ছিল, এটা তাদেরই পরিকল্পনা। দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এটা পরিকল্পিত সড়যন্ত্র।

অথচ ডকুমেন্টারিতে উত্থাপিত রাষ্ট্র- সরকার, প্রধানমন্ত্রী – সেনাবাহিনী প্রধান ও আইন শৃঙ্খলার দূর্বলতা তুলে ধরা হলেও এ সম্পর্কে তাদের কোন বক্তব্য নেই। কিভাবে খুনের আসামীরা দেশ থেকে পালিয়ে যায়, আবার বিবাহ উপলক্ষে সেনা বেষ্টিত ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ঢুকে আতিথিয়েতা গ্রহণ করে-পার্টিতে অংশ নেয়? এটা সেন্সেটিভ এরিয়ার বিষয়, তাই কথা বলা যাবে না !

সংগত কারণেই এই অবৈধ সরকারের কাছে বিচার শালিস চেয়ে কোন লাভ নেই। সমগ্র দেশটাকে তারা নিজেদের মালিকানা সম্পদ বলে মনে করে।
তাই এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন জনগণের অভ্যুত্থান। একমাত্র গণ অভ্যুত্থানই পারে দেশকে মাফিয়াদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে জনগণের রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে।

অথচ আমাদের দেশের বামপন্থী বন্ধুরা শিয়ালের কাছে মুরগী পুষতে দেওয়ার ন্যায়, এই ভোট চোর, জনগণের নূন্যতম অধিকার হরণকারী, অবৈধ মাফিয়া সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানের কাছেই আবার এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও তার বিচার শালিস দাবি করছে। কি এক হাস্যকর পরিস্থিতি।

তারা মুখে বলছে, “বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অবৈধ, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। চলমান ঘটনাপ্রবাহ তারই বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।” অথচ রাষ্ট্রের প্রধান ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর প্রধান স্বয়ং যেখানে অভিযুক্ত সে মামলার আয়ু হিসাবে আবার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তাদেরকেই !

দেশ জনগণের। সরকার ও রাষ্ট্র সেই জনগণের জন্যই। অথচ এই বামপন্থী দল সমূহ জনগণের কাছে তার রাষ্ট্র ও সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার বিচারের ভার না দিয়ে, তাকে আহ্বান না করে আর্জি জানাচ্ছে অভিযুক্ত রেপিস্টের কাছেই। যে আর্জি শেষ বিচারে এই রাষ্ট্র ও সরকারকেই সেভ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।

লেখক: আহ্বায়ক, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 244
    Shares