শনিবার, নভেম্বর ২৮

মরণব্যাধি ক্যান্সারের কারণ ও প্রতিকার

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: মরণব্যাধি ক্যান্সার সম্পর্কে সবাই কম বেশি সচেতন। ক্যান্সার মরণব্যাধি হলেও বিভিন্নভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আমাদের প্রতিদিনের কাজের কারণে ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাধতে পারে মরণব্যাধি ক্যান্সার। তবে কিছু অভ্যাস বাদ দিলে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে।

আনন্দবাজার পত্রিকাকে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ সোমনাথ সরকার বলেন, ক্যান্সারের নানা কারণ রয়েছে। তার মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে তা দৈনন্দিন অভ্যাস ও কিছু কাজের হাত ধরেও শরীরে প্রবেশ করে। শরীরে টক্সিক পদার্থের উপস্থিতি যত বাড়বে ক্যান্সারের ভয় ততই বড় আকার নেবে। তাই কিছু অভ্যাস কমাতে পারলে এ রোগ থেকে দূরে থাকা যায়।

যেভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

দূষণ প্রতিরোধ : নিয়মিত বাসা বাড়ির ধুলাবালি পরিষ্কার করার মাধ্যামে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পরিবেশ দূষণ রোধ করে চলাচলের সময় মাস্ক কিনে ব্যবহার করা। বাড়ির চারপাশে বা ছাদে বেশি করে গাছ লাগানো ও এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার ইত্যাদি উপায়ে দূষণ রুখতে হবে। দূষণের কারণে শরীরে কার্বনের নানা যৌগ জমে।

ধূমপান ও ই-সিগারেটের ব্যবহার বন্ধ

অনেকেই ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন। অনেকেই ভেবে থাকেন, এটি ব্যবহারের ফলে কম ক্ষতি হয়। কারণ এর মধ্যে তামক থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ই-সিগারেটেও সমান ক্ষতি হয়। সাধারণ বিড়ি-সিগারেট ও ই-সিগারেট সব ক্ষেত্রেই শরীরে ঢুকে পড়ে তামাক ও কার্বন। ক্যান্সার দানাবাঁধার সবরকম উপাদান এতে রয়েছে। ই-সিগারেটের অভ্যাসের কারণে মুখগহ্বরের টিস্যুতে নানারকম পরিবর্তন দেখা যায়। যে পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার ডেকে আনে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার

প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করেও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। প্যাকেটবন্দি মাছ, মাংস, সস, বেকন, সালামি ও হ্যাম আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অত্যাধিক পরিমাণে এ সব খেলে ক্যান্সারের বীজ শরীরে ঢোকে।

গরম চা-কফি পরিহার

গরম চা বা কপি আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। গরম চা কফি খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। যারা প্রায় প্রতিদিন ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার চা পান করেন, তাদের এ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৬৫ ডিগ্রির ওপর কোনো পানীয় খেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে মুখ, গলা ও খাদ্যনালীতে ফুয়েল টিউমার থেকে ক্যান্সার ডেকে আনে।

প্লাস্টিক পাত্র পরিহার

প্লাস্টিক পণ্য যতটা সম্ভব পরিহার করা উচিত। নিত্যপ্রয়োজনে প্লাস্টিক বিভিন্ন পাত্র ব্যবহার করে থাকি। প্লাস্টিক পাত্রে কোনো খাদ্যদ্রব্য থাকলে তা পানির সংস্পর্শে এসে সেগুলোকে দূষিত করে তুলতে পারে। এর ফলে প্রস্টেটের মতো অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে, গর্ভবতীদের ভ্রূণেরও ক্ষতি হয়।

লাল চিনি পরিহার

চিনি ভাজলে চিনির কার্বন যোগ ভেঙে তা সরাসরি খাবারে মেশে। এ কারণেই চিনির পরিবর্তে লাল বাতাসা, গুড় অথবা মধু ইত্যাদি ব্যবহার করতেও পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। মাছ-মাংসের স্বাদ বাড়াতে তেলে ভাজা লাল চিনি ব্যবহার করার হয়ে থাকে। মাংসের ঝোলে লালচে রং করার জন্য এটি করা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদ্ধতি অত্যন্ত মারাত্মক। এমনিতেই চিনি সরাসরি ক্যান্সারের কারণ কি না, তা নিয়ে বিশ্বে নানাবিধ গবেষণা চলছে। অনেকের মতেই চিনি কোষকে ভাঙতে সাহায্য করে। তাই চিনি খুব নিরাপদ নয়।

হেয়ার ডাই পরিহার

হেয়ার ডাই অনেকেই ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু অনেকেই হয়ত জানে না এটি ব্যবহারের মাধ্যমেও ক্যান্সার হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব হেয়ার ডাই পরিহার করাই শ্রেয়। হেয়ার ডাই এ থাকে অ্যামোনিয়াসহ নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক- যা চুলের ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ও কার্সিনোজেনের মতো আচরণ শুরু করে। বাজার পাওয়া প্রায় সব ডাইতেই এ উপাদানগুলো থাকে। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যানসারে’ যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানিয়েছেন, এই ডাই থেকে স্তন ক্যান্সার ও ত্বকের ক্যান্সারের আশঙ্কা থাকে।

চাপ মুক্ত থাকা

যতটা সম্ভব চাপ মুক্ত থাকতে হবে। চাপ মুক্ত থাকার মাধ্যমেও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। স্ট্রেস শরীরকে ভেতর থেকে ক্লান্ত করে ও কোষগুলোকে কমজোরি করে। ফলে কোষ দ্রুত ভাঙতে শুরু করে এবং শরীরকে ক্যান্সারের উপযোগী করে তোলে। তাই যতটা সম্ভব চাপ মুক্ত থাকা জরুরি।


এখানে শেয়ার বোতাম