রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
শীর্ষ সংবাদ

মন্দিরে পশু বলি নিষিদ্ধ করেছে ত্রিপুরা হাইকোর্ট

এখানে শেয়ার বোতাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের ত্রিপুরায় মন্দির প্রাঙ্গণে পশু-পাখি বলি নিষিদ্ধ করেছে, রাজ্যটির উচ্চ আদালত। জানান, সৃষ্টিকর্তার নামে কেউ চাইলে পশু-পাখি উৎসর্গ করতে পারবেন।

প্রধান বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি অরিন্দম লোধের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন।

রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছেন, পশুপাখিদেরও বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার আছে। ত্রিপুরার কোনও মন্দিরের ত্রিসীমানায় আর পশুবলি দেওয়া যাবে না। পশুবলির অনুমতি দিতে পারবে না রাজ্য সরকার। এমনকী, সরকার নিজস্ব উদ্যোগেও আর বলি দিতে পারবে না।

এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য প্রতিটি জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের উচ্চ আদালত।

ধর্মের নামে আর পশুবলি দেওয়া যাবে না। হিন্দু ধর্মের কোথাও লেখা নেই যে পশুবলি না হলে ধর্ম পালন করা যাবে না। এই যুক্তিকে সামনে রেখে ত্রিপুরায় ধর্মের নামে মন্দিরে পশুবলির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্যটির উচ্চ আদালত।

রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছে, ‘‌পশুপাখিদেরও বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার আছে। ত্রিপুরার কোনও মন্দির কিংবা মন্দিরের ত্রিসীমানায় আর পশুবলি দেওয়া যাবে না। পশুবলির অনুমতি দিতে পারবে না রাজ্য সরকার। এমনকী, সরকার নিজস্ব উদ্যোগেও আর বলি দিতে পারবে না।’‌ এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য প্রতিটি জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

আদালতের এমন আদেশে বন্ধ হয়ে যাবে, ঐতিহাসিক শক্তি পিঠ ও মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের ৫শ বছরের ঐতিহ্য। যেখানে প্রতিদিন সরকারি খরচে একটি পাঠা বলি দেয়া হতো।

ত্রিপুরা হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছেন এক জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে। মামলাটি করেন রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত জেলা দায়রা জজ সুভাষ ভট্টাচার্য। তিনদিন ধরে সেই মামলার শুনানি চলে ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যের পক্ষে বলি বন্ধের বিরোধিতা করা হয়। রাজ্য সরকারের আইনজীবী যুক্তি দেন, শতশত বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে।

এ সময় সুভাষ ভট্টাচার্যা পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘বেদ বা উপনিষদে কোথাও লেখা নেই, বলি না হলে হিন্দু ধর্ম পালনে ক্ষতি হবে।’ পরে সুভাষের যুক্তি মেনে নেন আদালত।

এই আদেশের সমালোচনা করেছে, রাজ্য সরকার। তাদের অভিযোগ, ঈদে মুসলমানদের কোরবানিতে কোনো বিধি-নিষেধ দেয়া হয়নি।

ত্রিপুরার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ হিন্দু ধর্মের অনুসারী।


এখানে শেয়ার বোতাম