রবিবার, মার্চ ৭
শীর্ষ সংবাদ

মদ-জুয়া বন্ধ করেন বঙ্গবন্ধু, আর জিয়া ক্যাসিনো চালু করেন: হানিফ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ‘আমি এর আগেও বলেছি, স্বাধীন বাংলাদেশে আইন করে মদ-জুয়া-হাউজি বন্ধ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তী সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্যাসিনো চালু করেন। ১৯৭৭ রফতানি মেলা করে জুয়া-হাউজি এবং লাকি খানের ঝাঁকি নৃত্য চালু করেছিলেন তিনি। এ কথা আপনি ভুলে গেলেও জাতি ভুলে নাই। এই দেশে যদি অনৈতিক কাজের হোতা থাকে, তাহলে সেটা তারেক রহমান।’

রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কম্পিউটার কৌশল বিভাগ ‘পলিসি বেইজড চ্যালেঞ্জেস ফর দ্য ফোর্থ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মাহবুবউল আলম হানিফ।

আইইবি’র কাউন্সিল হলে আয়োজিত সেমিনারে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, আপনাদের এত খুশি হওয়ার কারণ নাই। আমরা অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনৈতিক কাজে যারা যুক্ত, তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

হানিফ বলেন, ‘ক্যাসিনোর সঙ্গে সম্পৃক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সে অভিযান অব্যাহত আছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি এখনও অব্যাহত আছে এবং থাকবে। দুর্নীতি হতে পারে, অনৈতিক কাজ হতে পারে, কিন্তু আমরা সেটাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি কি না সেটা বিবেচ্য বিষয়। দুর্নীতিকে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্রয় দেননি, সরকারও প্রশ্রয় দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘কে দলের আর কে দলের নয় সেটা বিবেচনা করা হচ্ছে না। প্রতিটা অপরাধীকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সামান্য একজন জুয়াড়ি, মদারু তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য সরকারের এত অর্জন ম্লান হতে পারে না। শেখ হাসিনা যে মেধা-শ্রমকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কিছু অনৈতিক মানুষের জন্য তা ম্লান হতে পারে না। প্রয়োজনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর হবো।’

এরপরও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে হানিফ বলেন, “বিশেষ করে, আমাদের বিএনপির ভাই-বোনের মধ্যে যারা আছেন তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তো বলেই বসলেন, ‘সরকার ব্যর্থ, তাদের উচিত পদত্যাগ করা।’ আমার প্রশ্ন হলো, কীসের ভিত্তিতে ব্যর্থ ভাই? এই ক্যাসিনোর জন্য ব্যর্থ? নাকি অন্য কিছু?”

জি কে শামীমের পরিচয় তুলে ধরে হানিফ বলেন, ‘জি কে শামীম কে? জি কে শামীম তো মির্জা আব্বাসের হাত দিয়েই উঠে এসেছে। তিনি যখন পূর্তমন্ত্রী ছিলেন, তখনেই জি কে শামীমের উত্থান হলো। এখন যখন ধরা পড়েছে, তখন বিএনপি নেতারা বলছেন তাকে চিনেন না। জি কে শামীমের যে ডায়রি পাওয়া গেছে, সেখানে কাকে কত টাকা দিতো তা আজ আমরা একটি অনলাইন গণমাধ্যমে জানতে পেলাম। জি কে শামীম নিয়মিতভাবে টাকা দিতো। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলামের নাম পাওয়া গেছে। বিএনপির আরও অনেক নেতা আছে। আপনার সব জায়গাতেই আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুযোগ বুঝে হয়তো কেউ যুবলীগে ঢুকে পড়েছিল, কিন্তু আমরা ছাড় দেই নাই। আমাদের কাছে যখনই তথ্য এসেছে, তখনই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইইবির প্রেসিডেন্ট ও আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ এবং প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর। এ ছাড়া, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েট কো-অর্ডিনেটর (সিআরআই) প্রকৌশলী তন্ময় আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনির্ভাসিটি অফ বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম।


এখানে শেয়ার বোতাম