বুধবার, মে ১২
শীর্ষ সংবাদ

ভোলায় ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’ সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি

এখানে শেয়ার বোতাম

সোহেব চৌধুরী, ভোলা প্রতিনিধি:: ভোলায় সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে মাঠে ছিলেন স্থানীয় আলেম-ওলামারা। পুরো জেলা জুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। মানুষের মনে আতঙ্ক। যে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে পুলিশসহ বিপুল সংখ্যাক নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বোরহানউদ্দিন ও ভোলা শহরেরর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে আতঙ্কের কারণে এ উপজেলায় বন্ধ ছিলো দোকানপাট। তবে দুপুরের দিকে কিছু ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান খোলা শুরু করে। উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে কিছু শিক্ষকের উপস্থিতি থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে দেখা মেলেনি শিক্ষার্থীদের। শিশু কিশোরদের নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবক মহল।

এ দিকে বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে ডাকা সমাবেশ প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় স্থগিত করা হয়। পরে ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তিসহ ৬দফা দাবি পূরণে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’।

এ সময় ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, ‘দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলমান থাকবে।’

তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকালে প্রতি উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি, বুধবার বেলা ১১টায় জেলা শহরে মানববন্ধন এবং বৃহস্পতিবার বিকালে নিহতদের জন্য দোয়া মুনাজাতের কর্মসূচি পালন করা হবে। যদি ৭২ ঘন্টার মধ্যে ৬ দফা মেনে না নেওয়া হয় তবে আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে।

৬ দফা দাবিগুলো হলো :

১। অনতিবিলম্বে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিনের ওসিকে এবং তদন্ত সাপেক্ষে গুলির হুকুমদাতা ও গুলি বর্ষণকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।

২। মহানবী (স.) ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলাম নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কটুক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে।

৩। আমাদের মহানবী (স.) ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলাম নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কটুক্তিকারী বিপ্লব চন্দ্র শুভকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাাঁসি দিতে হবে।

৪। ভোলার বোরহানউদ্দিনে সংঘর্ষে শাহাদাত বরণকারী ব্যাক্তিদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৫। সরকারি খরচে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানিমূলক মামলা বা কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।

দাবী আদায় না হলে দেশব্যাপী হরতাল, বিক্ষোভ, সমাবেশসহ কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

অপরদিকে বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবেদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫ হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ঘটনার তদন্তের জন্য বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজিকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ইয়ামিন হোসেন।

‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’র সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা হয়েছে। তদন্ত কমটি গঠন করে তদন্ত হচ্ছে। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঐক্য পরিষদে যে দাবি যে সরকারি বিভাগ সম্পর্কিত তারা তা বিবেচনা করে দেখবেন।’

প্রসঙ্গত, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের আভিযোগে গত রবিবার ভোলায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক মানুষ।


এখানে শেয়ার বোতাম