বৃহস্পতিবার, মে ১৩
শীর্ষ সংবাদ

ভুটানকে ১-৪ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: দুপুর থেকে মুষলধারায় বৃষ্টি। সেটা এক নাগাড়ে চলতে থাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-ভুটান প্রীতি ফুটবল ম্যাচ নিয়ে দেখা দেয় শঙ্কা। সন্ধ্যার পর বৃষ্টি থেমে গেলে উবে যায় সব শঙ্কা। বৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে ছিল। কাদা-মাটির সেই পানির মধ্যেই শুরু হয় বাংলাদেশ-ভুটান ফুটবল লড়াই। যে লড়াইয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল জামাল ভূঁইয়াদের। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃষ্টিস্নাত রাতটি শুধুই নবীব নেওয়াজ জীবন-মোহাম্মদ ইব্রাহিমদের। প্রথম প্রীতি ম্যাচে ভুটানকে ১-৪ গোলে হারিয়েছে জেমি ডের দল।

৩ অক্টোবর একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ। বাংলাদেশের হয়ে নবীব নেওয়াজ জীবন দুই গোল করেন। এ ছাড়া বিপলু ও রবিউল একটি করে গোল করেন। এই ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয় ডিফেন্ডার রিয়াদুল হাসানের। মিশন কাতার ও ভারত ম্যাচ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গ্রুপ ‘ই’তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ১০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কাতারের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগে দুই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমটিতে জয়ের তৃপ্তি স্বাগতিকদের।

এ জয়টি এসেছে দ্বিগুণ ঘাম ঝরিয়ে। মাঠের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকায় সতীর্থের উদ্দেশ্যে বল পাঠাতে বেশি কষ্ট করতে হয়েছে সাদ উদ্দিন-বিপলুদের। তবে কর্দমাক্ত মাঠের সুবিধাটা বেশি পেয়েছে বাংলাদেশই। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা স্বাগতিকরা বারবার ভুটানের রক্ষণ সীমানায় বল নিয়ে ঢুকে পড়ে। ম্যাচের ৩ মিনিটেই কর্নার পায় বাংলাদেশ। জামাল ভূঁইয়ার কর্নার প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে চলে যায় বাইরে। তিন মিনিট পরই গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিপলু আহমেদ। বাঁ প্রান্ত থেকে সাদ উদ্দিনের মাইনাসে বপের মধ্যে বল পেয়েও শট নিতে পারেননি সিলেটের এ মিডিফিল্ডার। ১১ মিনিটে আবারও সাদ উদ্দিন-বিপলুর রসায়ন; কিন্তু এবারও গোল হয়নি। এক মিনিট পরই প্রথম গোলের আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। সাদ উদ্দিনের শট কর্নারে বল পান জামাল ভূঁইয়া। বক্সের বাইরে থেকে তার মাপা ক্রসে মাথা লাগিয়ে বল জালে পাঠান নবীব নেওয়াজ জীবন। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে গোল পেয়েছেন ঢাকা আবাহনীর এ ফরোয়ার্ড।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোল করেছিলেন জীবন। সেই জীবন পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন ৩৯ মিনিটে চোখ ধাঁধানো আরেকটি গোল করে। ডান প্রান্ত দিয়ে বপের বাইরে থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ডান পায়ের চলন্ত ক্রসে জীবনের নেওয়া ভলি চলে যায় জালে। এই গোলের আগেও সুযোগ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। ৩০ মিনিটে বপের ভেতর বল পান সাদ উদ্দিন। তার সামনে ছিলেন শুধুই গোলরক্ষক; কিন্তু পোস্টের ওপর দিয়ে বল মেরে সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।

এদিন বাংলাদেশের মধ্যমাঠ ছিল বেশ শক্তিশালী। যে কারণে আক্রমণগুলোও হয়েছে পরিকল্পনামতো। বিশেষ করে জামাল ভূঁইয়া ও ইব্রাহিমের ক্রসগুলো ছিল বিপজ্জনক। তাদের নেওয়া প্রতিটি ক্রসেই গোল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সাদ উদ্দিন ও বিপলুর মধ্যে বোঝাপড়াটা ছিল দারুণ। বিরতির পর অবশ্য শুরুতে একটি গোল পরিশোধ করে ভুটান। ৫১ মিনিটে গোলটি করেন দর্জি। এরপর একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও গোল পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। অবশেষে ৭৪ মিনিটে আবারও গোলের হাসি হাসে স্বাগতিকরা। জটলা থেকে বপের মধ্যে বল পান বিপলু। তার নেওয়া প্লেসিং শট ভুটানের জাল কাঁপায়। ৮১ মিনিটে তৃতীয় গোলদাতা বিপলুর বাড়ানো বল ধরে ডান পায়ের শটে গোল করেন বদলি মিডফিল্ডার রবিউল হাসান।


এখানে শেয়ার বোতাম