বৃহস্পতিবার, মার্চ ৪
শীর্ষ সংবাদ

ভাসানীর সংগ্রামের সুফল ভোগ করছে সরকার, কিন্তু তাঁর প্রাপ্ত মর্যাদা দিতে কুন্ঠিত : সাইফুল হক

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। এদেশের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন মওলানা ভাসানী। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বেই ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৭১ এর আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের জমিন তৈরী হয়। প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে একদিকে সরকারি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আর অন্যদিকে ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়সহ দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এদেশের শ্রমিক-কৃষকসহ মজলুম নিপীড়িত জনগণের অধিকার ও মুক্তির ব্যাপারেও তিনি ছিলেন আজীবন সোচ্চার।

তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের এই অবিসংবাদিত নেতার জন্ম ও মৃত্যুদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনে সরকার হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছে। এখনকার সরকার ও শাসকশ্রেণি মওলানার সংগ্রামের সুফল ভোগ করছে। কিন্তু তার প্রাপ্ত মর্যাদা দিতে কুন্ঠিত। তিনি বলেন মজলুম জননেতা ভাসানী ও বাংলাদেশ একসত্ত্বা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে মওলানা ভাসানীকে যোগ্য সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান সর্বগ্রাসী চরম কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসন মোকাবেলায় মওলানার সংগ্রামী ধারার রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটাতে হবে এবং জুলুম ও জালেমশাহীর মোকাবেলায় প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ব্যাপক গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

আজ বিকালে সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি আকবর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির কেন্দ্রীয় নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী, মহানগর কমিটির সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, এ্যাপোলো জামালী, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, ইমরান হোসেন, হুমায়ুন মুজিব, জোনায়েদ হোসেন, রোকসানা আক্তার প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা মওলানা ভাসানীর দেশপ্রেম এবং অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আদর্শের পথ ধরে স্বাধীনতার ঘোষণা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভার শুরুতে মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে পার্টির পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।


এখানে শেয়ার বোতাম