মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

ভারতের আন্দোলনরত কৃষকদের প্রতি সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সংহতি সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 176
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: ভারতের কৃষক স্বার্থবিরোধী তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানী দিল্লী অবরোধকারী কৃষকদের সাথে সংহতি জানিয়ে আজ ৩ ডিসেম্বর ২০২০ সকাল ১১:৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নিখিল দাস, বেলায়েতে হেসেন। কর্মসূচির সাথে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন প্রিন্স প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখ-সহ কয়েকটি রাজ্যের প্রায় ৭০ হাজারের অধিক কিষাণীসহ ১২ লক্ষাধিক কৃষক ৯৬ হাজার ট্্রাক্টরে ৬ মাসের খাবার রসদসহকারে গত ২৬ নভেম্বর থেকে রোড মার্চ করে দিল্লী অবরোধ করেছে। করোনা ও প্রচ- শীত উপেক্ষা করে পথে পথে বেরিকেড, জলকামানের আক্রমণ পুলিশের লাঠিচার্জ মোকাবেলা করে তারা দিল্লীর রাজপথে অবস্থান করছে।

তাদের স্পষ্ট কথা গত ২৭ সেপ্টেম্বর সংসদে পাশ হওয়া কৃষক স্বার্থবিরোধী বিতর্কিত তিনটি বিল প্রত্যাহার না করলে তারা রাজপথ ছাড়বে না। এই তিনটি বিলের কারণে কৃষকরা এতদিন যে সরকার নির্ধারিত দামে কৃষিপণ্য সরকারি মান্ডিতে বা আড়তে বিক্রি করতে পারতেন তা তারা পারবেন না। বড় ব্যবসায়ী সংস্থা, হোলসেলাররা সরাসরি চাষীর কাছ থেকে ফসল কিনতে পারবে। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা, লাভবান হবে লুটেরা ব্যবসায়ী, বহুজাতিক কোম্পানি ও কর্পোরেট সংস্থা। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বিলের মাধ্যমে বৃহত্তর কর্পোরেট ফার্ম বা কোম্পানি পূর্ব নির্ধারিত দামে চাষীকে দিয়ে চুক্তি ভিত্তিক চাষ করাতে পারবে। ফলে চাষীরা প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শুধু তাই নয়, এই বিল পাশের ফলে মজুতদারির উপরে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না এবং কৃষি, কৃষকের জন্য সরকারি প্রাইস সাপোর্ট তুলে নেয়া হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পরামর্শে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন মোদী সরকার লোকসভায় বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও কৃষক জনতার মতামত উপেক্ষা করে কৃষক স্বার্থবিরোধী এই আইন পাশ করেন। মোদী সরকার সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলোর স্বার্থ রক্ষা করে দেশ শাসন করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। আমরা সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংগ্রামী কৃষকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাই। এবং ন্যায়সংগত দাবি মেনে নিয়ে কৃষক স্বার্থবিরোধী আইন বাতিলের দাবি জানাই।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশের কৃষকরা দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। অথচ এখানেও সরকার কৃষকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পায় না। আবার কৃষি পণ্য যখন কৃষকের হাতে থাকে না তখন বেশী দাম দিয়ে সেই উৎপাদক কৃষককেই কিনে খেতে হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে বর্তমানে লালমনির হাটে যখন ১ কেজি মুলার দাম দেড় টাকা তখন ঢাকার বাজারে বিক্রি হয় ৩০/৩৫ টাকা। ফলে একদিকে যেমন কৃষক ঠকছে অন্যদিকে ভোক্তা-ক্রেতা জনগণ ঠকছে। লাভবান হচ্ছে মধ্যসত্ত্বভোগী ফরিয়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। কৃষি উপকরণের দাম উর্ধ্বমুখী। প্রণোদনা, ভর্তুকি কৃষকরা তেমন পায় না। ক্ষেতমজুরদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা নেই। গ্রামীণ প্রকল্পগুলো দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত।

নেতৃবৃন্দ ভারতের সংগ্রামী কৃষকসমাজের সাথে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষক, ক্ষেতমজুরদের বাঁচাতে রাজপথে সংগ্রাম গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

বক্তারা বাংলাদেশেও সরকারকে উৎপাদন খরচের সাথে বাড়তি ৪০% যুক্ত করে সকল কৃষি ফসলের মূল্য নির্ধারণ করে সরকারি উদ্যোগে ক্রয়ে কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয় করা, কৃষক সমবায় ও ভোক্তা সমবায় গড়ে তোলারও দাবি জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 176
    Shares